
ইসলামে বিবাহ একটি পবিত্র ও সুদৃঢ় সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন। তবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের অবনতি হলে এবং একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও মাধুর্যমণ্ডিত জীবনযাপন একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়লে ইসলামি শরিয়তে এর সমাধান হিসেবে তালাক বা বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদিও হাদিসে তালাককে সবচেয়ে অপ্রিয় ও সর্বনিকৃষ্ট বৈধ কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দৈনন্দিন জীবনে পারিবারিক মনোমালিন্য বা ক্ষোভের কারণে অনেক স্বামীর মনেই স্ত্রীকে ছেড়ে দেওয়ার বিভিন্ন চিন্তা বা কল্পনার উদয় হয়। এ ক্ষেত্রে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—কেউ যদি মুখে না বলে কেবল মনে মনে স্ত্রীকে তালাক দেয়, তবে কি তালাক হয়ে যাবে?
চলুন, হাদিস ও ফকিহগণের মতামতের আলোকে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ইসলামি শরিয়তের স্পষ্ট বিধান হলো—মুখে উচ্চারণ না করে বা লিখিত রূপ না দিয়ে কেবল মনে মনে তালাক দিলে তা কখনো কার্যকর হয় না। তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য তা মুখে সশব্দে উচ্চারণ করা অথবা লিখিতভাবে প্রকাশ করা আবশ্যক।
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দার ওপর অত্যন্ত দয়ালু। মানুষের মনের অবচেতন চিন্তা, কল্পনা বা ওয়াসওয়াসাকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাই স্ত্রীর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে মনে মনে হাজার বার ‘তালাক’ বললেও কোনো প্রকার তালাক পতিত হবে না এবং বৈবাহিক সম্পর্ক শতভাগ বহাল থাকবে।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের ওই সকল ওয়াসওয়াসা (অসৎ চিন্তা) ক্ষমা করে দিয়েছেন, যা তাদের মনে উদিত হয় বা যেসব কথা মনে মনে বলে থাকে; যতক্ষণ না তারা তা বাস্তবে রূপ দেয় বা সে সম্পর্কে কথা বলে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৬৬৪, সহিহ মুসলিম: ১ / ৭৮)
মনে মনে ভাবলে তালাক না হলেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে মুখে বলা বা লেখার কারণে তালাক হয়ে যায়। স্বামীদের এই বিষয়গুলোতে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি:
একাকী বললেও: নির্জনে বা একা একা স্ত্রীকে না শুনিয়েও যদি কেউ মুখে স্পষ্ট শব্দে ‘তালাক’ উচ্চারণ করে, তবে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।
রাগের মাথায় বা নিয়ত ছাড়া: রাগের বশে কিংবা তালাকের নিয়ত না থাকলেও যদি মুখ দিয়ে ‘তালাক’ শব্দ বের হয়ে যায়, তাহলেও তালাক হয়ে যাবে।
ঠাট্টা-মশকরা করে বললেও: ঠাট্টাচ্ছলে বললেও তালাক হয়ে যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি বিষয় এমন রয়েছে, যা সিরিয়াসলি বললেও যা হবে, ঠাট্টাচ্ছলে বললেও তা-ই ধর্তব্য হবে। তা হলো—বিয়ে, তালাক ও তালাক প্রত্যাহার।’ (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি)।
পারিবারিক জীবনে ক্ষণিকের রাগ, উত্তেজনা বা ঝগড়া-বিবাদের সময় হুট করে ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করা চরম মূর্খতা ও অনিষ্টের কারণ। কারণ মুখের একটি অসংযত শব্দ পুরো একটি সাজানো সংসার ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই কোনো অবস্থাতেই রাগের মাথায় তালাক শব্দ উচ্চারণ করা বা মুখে আনার ব্যাপারে স্বামীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি (৬৬৬৪), সহিহ মুসলিম (১ / ৭৮), সুনানে আবু দাউদ, সুনানে তিরমিজি, আদ্দুররুল মুখতার (৩ / ২৩০), বাদায়েউস সানায়ে (৩ / ১৫৭)
লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

ইসলামের বিভিন্ন হুকুম-আহকাম পালনের ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত, নফল ও মুস্তাহাব পরিভাষাগুলোর মুখোমুখি হই। সাধারণ দৃষ্টিতে ফরজ ও ওয়াজিব উভয়টি পালন করা অবশ্য-করণীয় মনে হলেও, ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে এদের দলিল ও আমলি মর্যাদায় সূক্ষ্ম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু পার্থক্য রয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী এক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুরের আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ড ‘ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুর’-এর...
১ দিন আগে
বইটিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তপ্ত সামরিক পরিস্থিতির কারণে সফর বিলম্বিত হওয়ার অভিজ্ঞতা এতে বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া সফরের পথে কাতারে ১২ ঘণ্টার অবস্থানকালীন পর্যবেক্ষণ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি, ২০২৫ সালের...
১ দিন আগে