
আল্লাহ তাআলা কোরআনের বিভিন্ন স্থানে পূর্ববর্তী জাতিগোষ্ঠী ও তাদের ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করেছেন। এর উদ্দেশ্য হলো, মানুষ যেন এই দৃষ্টান্ত দেখে আল্লাহর প্রতি ইমান আনে এবং সঠিক পথে ফিরে আসে। সুরা ইয়াসিনে তেমনই এক জনপদের কথা এসেছে, যার নাম ছিল ‘ইন্তাকিয়া।’ হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর উদ্ধৃতিতে ইবনে কাসির (রহ.) এই জনপদের কথাই উল্লেখ করেছেন।
ইন্তাকিয়া জনপদ ও তিন রাসুলের আগমন
ইন্তাকিয়া জনপদের অধিবাসীদের হেদায়েতের জন্য আল্লাহ তাআলা প্রথমে দুজন রাসুল প্রেরণ করেন, কিন্তু তারা সেই রাসুলদের মিথ্যাবাদী বলে প্রত্যাখ্যান করে। এরপর আল্লাহ তাদের ওপর রহম করে তৃতীয় আরেকজনকে রাসুল হিসেবে পাঠান। এই জনপদের অধিবাসীরা তিনজন রাসুলকেই অস্বীকার করে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে।
আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, ‘আমি তাদের নিকট দুজন রাসুল প্রেরণ করেছিলাম। অতঃপর ওরা তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তখন আমি তাদের শক্তিশালী করলাম তৃতীয় আরেকজনের মাধ্যমে।’ (সুরা ইয়াসিন: ১৪)। তাফসিরে ইবনে কাসির (রহ.)-এর বর্ণনামতে, সেই রাসুল তিনজনের নাম ছিল সাদেক, সদুক ও শালুম। অন্য এক বর্ণনায় তাদের নাম শামউন, ইউহান্না ও বুলিস বলা হয়েছে।
হাবিবের ইমান ও শাহাদাত
জনপদবাসী যখন তিন রাসুলকে অস্বীকার করে তাদের হত্যার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন এক সাধারণ মুমিন ব্যক্তি রাসুলদের প্রতি সহানুভূতির মনোভাব নিয়ে দ্রুত সম্প্রদায়ের মধ্যে উপস্থিত হন। তিনি জনপদবাসীদের রাসুলদের অনুসরণ করার উপদেশ দেন এবং নিজেই ঘোষণা দেন, ‘আমি তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলাম, তোমরা শুনে রাখো।’ (সুরা ইয়াসিন: ২৫)
তাফসিরে ইবনে কাসিরে এই ইমানদার ব্যক্তির নাম ‘হাবিব’ বলা হয়েছে। তিনি পেশায় ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি এবং কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি সত্তরেরও বেশি বছর ধরে মূর্তিপূজা করে আসছিলেন। পাঠানো রাসুলগণ ঘটনাক্রমে তার সঙ্গেই প্রথম সাক্ষাতের পর তাকে এক আল্লাহর ওপর ইমান আনার দাওয়াত দেন। হাবিব তাদের কাছে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া করতে বললে, রাসুলগণ বলেন—‘তাদের রব সর্বশক্তিমান এবং তিনি তাকে সুস্থ করে দেবেন।’ হাবিব ইমান আনার পর সম্পূর্ণ নিরাময় লাভ করেন। এতে তার ইমান আরও দৃঢ় হয়।
যখন রাসুলদের বিরুদ্ধে শহরবাসীর বিক্ষোভের সংবাদ তিনি পেলেন, তখন তিনি ছুটে এলেন এবং সম্প্রদায়ের সামনে ইমান ঘোষণা করলেন। ফলে জনপদবাসী তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, তাকে লাথি মেরে মেরে শহীদ করে দেওয়া হয়। বেদম প্রহারের সময়ও তিনি—‘হে আমার পালনকর্তা, আমার সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করুন’ বলে যাচ্ছিলেন। এভাবে হাবিব বীরত্বের সঙ্গে আল্লাহর পথে শহীদ হয়ে যান।
ধ্বংসাত্মক পরিণাম
ইন্তাকিয়া জনপদের অধিবাসীদের এই ধৃষ্টতার কারণে আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর কঠিন শাস্তি প্রেরণ করেন। আল্লাহ বলেন, ‘তারপর আমি তার সম্প্রদায়ের ওপর আকাশ থেকে কোনো বাহিনী অবতীর্ণ করিনি এবং আমি (বাহিনী) অবতরণকারীও না। প্রকৃতপক্ষে এ ছিল এক ভয়ংকর শব্দ। অতঃপর সঙ্গে সঙ্গে সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল।’ (সুরা ইয়াসিন: ২৮-২৯)।
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, আল্লাহ তাআলা হজরত জিবরাইল (আ.)-কে পাঠালেন। তিনি ইন্তাকিয়া শহরের দরজার দুই বাহু ধরে এমন কঠোর ও বিকট আওয়াজ করলেন, যার ফলে সবার দেহ থেকে প্রাণ বেরিয়ে যায় এবং সবাই নিথর হয়ে পড়ে।
এই কাহিনি থেকে মুমিনদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে—আল্লাহর পথে দৃঢ় ইমান ও ধৈর্যের জন্য রয়েছে মহৎ পুরস্কার, আর আল্লাহর রাসুলদের প্রত্যাখ্যান ও মুমিনদের ওপর জুলুমের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
লেখক: মুস্তাফিজ গাজী, আলেম প্রাবন্ধিক

দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত আলেম সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য চা-চক্র ও মতবিনিময় সভা করেছে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ।
৮ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শাখায় বাংলাদেশের তিন প্রতিযোগী পুরস্কার অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতায় পুরুষদের তৃতীয় শাখায়, পূর্ণ কোরআন হিফজ ও তাজবিদ বিভাগে, বাংলাদেশের শায়খ মুহাম্মদ মাহমুদ আল-হাসান তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
৯ ঘণ্টা আগে
যেকোনো নির্মাণের জন্য একটি নিখুঁত মডেল বা নকশা অপরিহার্য। এটি যেমন বস্তুগত নির্মাণের ক্ষেত্রে সত্য, তেমনি মানুষের জীবন গড়ার মতো সূক্ষ্ম ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্যও তা আরও বেশি জরুরি। জীবনের পথে সঠিক দিশা পেতে এবং নিজেকে একজন সুশীল ও উৎকর্ষমণ্ডিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে একটি পূর্ণাঙ্গ মডেলের অনুসরণ...
১৭ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে