
মানবজীবনে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো জীবন। এই জীবনই সব অনুভূতি, অভিজ্ঞতা ও অর্জনের কেন্দ্রবিন্দু। একজন মানুষের জীবন বাঁচানো মানে শুধু একজনকেই রক্ষা করা নয়; বরং তা গোটা সমাজ, পরিবার এবং মানবতার প্রতি এক মহৎ অবদান।
ইসলাম ধর্ম এমন একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যেখানে মানুষের জানমালের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই একজন নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষা করা ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পাশাপাশি কোনো নির্দোষ প্রাণ হরণ করা ইসলামে শুধু নিষিদ্ধই নয়, বরং একে মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াতে এই অপরাধের ভয়াবহতা, এর পরিণতি এবং দণ্ড সম্পর্কে কঠোরভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা যথার্থ কারণ ছাড়া কোনো প্রাণ হত্যা করে, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তারা শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং তারা চিরকাল লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে থাকবে।’ (সুরা ফুরকান)
পবিত্র কোরআনে আরও এসেছে, ‘এ কারণে আমি বনি ইসরাইলের প্রতি এই বিধান দিয়েছিলাম, যে ব্যক্তি কাউকে হত্যা করে, মানুষ হত্যার বদলা অথবা পৃথিবীতে ফিতনা-সন্ত্রাস সৃষ্টি ছাড়া—সে যেন পুরো মানবজাতিকেই হত্যা করল। আর যে একজন মানুষের প্রাণ বাঁচায়, সে যেন পুরো মানবজাতিকেই রক্ষা করল। রাসুলগণ তাদের কাছে স্পষ্ট নিদর্শনসহ আগমন করেছিল, এরপরও তাদের অধিকাংশই পৃথিবীতে সীমা লঙ্ঘন করেছে।’ (সুরা মায়িদা: ৩২)
জীবন রক্ষা করা শুধু একটি মানবিক গুণ নয়, বরং এটি এক বিশাল ইবাদত, যার মর্যাদা আল্লাহ তাআলা সমগ্র মানবজাতির প্রাণ রক্ষার সমতুল্য করে দেখিয়েছেন। অপর দিকে অন্যায়ভাবে একজন মানুষকে হত্যা করা সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার মতো জঘন্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।
এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু সমাজে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করে না, বরং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি, মমত্ববোধ এবং মানবিক দায়িত্ববোধ জাগিয়ে তোলে। তাই আমাদের উচিত, সব ধরনের অবিচার ও সহিংসতা পরিহার করে মানুষের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসা এবং ইসলামের এই মহান বার্তাকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া।

সংসারে সন্তান যেমন আনন্দের উৎস, তেমনি কখনো কখনো তার দুষ্টামি বা অতিরিক্ত জেদ বাবা-মায়ের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সবার সামনে কান্নাকাটি করা, মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া, কিংবা জেদ করে না খেয়ে থাকা—এমন পরিস্থিতিতে অনেক বাবা-মা-ই ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন।
৪ ঘণ্টা আগে
বর্তমান সময়ে কবরস্থানে মৃত ব্যক্তির কবর সহজে শনাক্ত করার জন্য নাম-ঠিকানাসংবলিত একটি ছোট ফলক বা নেমপ্লেট লাগাতে দেখা যায়। সাধারণ মানুষের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে—ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এটি কতটুকু বৈধ বা গ্রহণযোগ্য।
১১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৬ ঘণ্টা আগে
নিশীথ সূর্যের দেশ নরওয়েতে ইসলামের আগমন কিন্তু আধুনিক যুগের কোনো ঘটনা নয়। আইসল্যান্ডীয় নথিপত্র অনুসারে, দূর অতীতে ১২৬০-এর দশকে নরওয়ের রাজা হ্যাকন হ্যাকনসন তিউনিসের মুসলিম সুলতানের কাছে মূল্যবান উপহারসহ একটি কূটনৈতিক দল পাঠিয়েছিলেন। জবাবে তিউনিসের সুলতানের প্রতিনিধিদলও নরওয়ে সফর করেন।
১ দিন আগে