প্রকৃতি আমাদের জীবনের পরম সহচর। তার বিস্তীর্ণ অরণ্য, সবুজের ছায়া, ফুলের সৌরভ, ফলের মাধুর্য আর বাতাসের বিশুদ্ধতা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার ব্যস্ততা, নগরায়ণের বেপরোয়া ছুটে চলা এবং বনভূমি নিধনের অমানবিক প্রবণতা আমাদের এই প্রকৃতিকে প্রতিনিয়ত নিঃশেষ করে চলেছে। এমতাবস্থায় আমাদের উচিত বৃক্ষ রোপণ করা।
একটি বৃক্ষ মানে শুধু একটি গাছ নয়, এটি একটি জীবনের প্রতীক। একটি বৃক্ষ যখন জন্ম নেয়, তখন তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ভবিষ্যতের অনেক আশা। সে বৃক্ষ বড় হলে ছায়া দেয়, ফুল দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়, এমনকি নিশ্বাসের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় অক্সিজেনও দেয়। আমাদের বেঁচে থাকার মৌলিক উপকরণগুলো বৃক্ষের মাধ্যমেই আসে। অথচ আমরা প্রায়ই তা অবহেলা করি, বৃক্ষ কাটার পরিণতি না ভেবেই প্রকৃতিকে ক্ষতবিক্ষত করি।
বৃক্ষরোপণ মানে শুধু একটি চারাগাছ পুঁতে দেওয়া নয়, এটি একটি স্বপ্ন বোনা। একটি সুন্দর আগামী গড়ে তোলার শপথ। যখন একটি শিশু বৃক্ষরোপণ করে, তখন সে ভবিষ্যতের দিকে একটি সবুজ বার্তা পাঠায়। যখন আমরা পারিবারিক বা সামাজিক উদ্যোগে বৃক্ষ রোপণ করি, তখন প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। প্রতিটি গাছ যেন আমাদের আত্মার অংশ হয়ে ওঠে।
বৃক্ষ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, তা আমাদের মানসিক প্রশান্তির উৎসও। গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহে একটি বৃক্ষের ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেওয়া অথবা বর্ষার দিনে পাতায় পাতায় বৃষ্টির টিপটিপ শব্দ শুনে মন হারিয়ে যাওয়া, এ সবই জীবনের এক অমূল্য অনুভূতি। এই অনুভূতি আমরা ফিরিয়ে আনতে পারি, যদি সবাই মিলে বৃক্ষ রোপণ করি।
বৃক্ষরোপণ ইসলাম ধর্মে একটি অত্যন্ত পুণ্যময় ও সওয়াবের কাজ হিসেবে বিবেচিত। গাছ লাগানোর অনেক ফজিলতের কথাও বর্ণিত হয়েছে।
সদকায়ে জারিয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো গাছ রোপণ করে, এরপর সে গাছ থেকে মানুষ, পশুপাখি খায়, তাহলে তা ওই ব্যক্তির জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (সহিহ্ বুখারি)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, গাছ যত দিন বেঁচে থাকবে এবং উপকারে আসবে, রোপণকারী তত দিন সওয়াব পেতে থাকবে।
নবীজির উপদেশ পালন
রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কারও হাতে যদি কোনো গাছের চারা থাকে এবং সে কিয়ামত শুরু হওয়ার সময়ও যদি তা রোপণ করতে সক্ষম হয়, তাহলে সে যেন তা রোপণ করে দেয়। (মুসনাদে আহমদ)। এই হাদিস গাছ লাগানোর গুরুত্ব এবং তা শেষ সময়েও পরিত্যাগ না করার উৎসাহ দেয়।
মানুষ, পশু ও পরিবেশ রক্ষা
গাছ বাতাস বিশুদ্ধ করে, ছায়া দেয়, ফল দেয় এবং পরিবেশ বাসযোগ্য রাখে। গাছের মাধ্যমে মানুষ ও পশুর জন্য পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে। গাছ আমাদের জলবায়ু ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে, যা মানবজাতির জন্য কল্যাণকর।
আজ আমাদের সামনে প্রকৃতি রক্ষার যে চ্যালেঞ্জ, তার একমাত্র উত্তর হতে পারে বৃক্ষরোপণ। আসুন, আমরা শহর হোক কিংবা গ্রাম, আমাদের বাড়ির ছাদ হোক কিংবা রাস্তার পাশ, সর্বত্র গাছ লাগাই। আমাদের সন্তানদের শেখাই গাছ ভালোবাসতে, গাছকে বন্ধু ভাবতে।
লেখক: মুহতামিম, জহিরুল উলুম মহিলা মাদরাসা, গাজীপুর

আরবি বর্ষপঞ্জির ১১তম মাস—জিলকদ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা যে চারটি মাসকে ‘মর্যাদাপূর্ণ’ (আশহুরুল হুরুম) বলে ঘোষণা করেছেন, জিলকদ তার অন্যতম। জাহিলিয়াতের যুগেও আরবে এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। বর্তমানে মুমিনদের জন্য এটি হজ ও কোরবানির প্রস্তুতির মাস।
১ ঘণ্টা আগে
নতুন দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মহরৌলিতে অবস্থিত কুতুব মিনার ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শন। ৭২.৫ মিটার বা ২৩৯ ফুট উচ্চতার এই মিনারটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ইটনির্মিত মিনার হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯৩ সালে ইউনেসকো এটিকে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই স্থাপত্যশিল্পটি ভারতীয়...
১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৬ ঘণ্টা আগে
নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা তহা: ১৪)। নামাজের প্রতিটি রুকন সঠিকভাবে পালন করা নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। এর মধ্যে ‘রুকু’ অত্যন্ত...
১৩ ঘণ্টা আগে