Ajker Patrika

মিম্বর থেকে মাহফিল: নসিহতের মঞ্চে প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা

মীযান মুহাম্মদ হাসান
মিম্বর থেকে মাহফিল: নসিহতের মঞ্চে প্রয়োজন দায়িত্বশীলতা

মসজিদের মিম্বর, মিহরাব এবং দেশজুড়ে আয়োজিত ওয়াজ-মাহফিলগুলো মুসলমানদের দ্বীন, ইমান ও আমল সংশোধনের অন্যতম উৎস। এখান থেকেই প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হয় তাওহিদের কালিমা। সমাজ গঠনে এবং মানুষের নৈতিক চরিত্র শুদ্ধিকরণে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।

জুমার মিম্বর: পরিশুদ্ধির অনন্য মাধ্যম

প্রতি জুমার দিন দেশের ৪ লক্ষাধিক মসজিদের মিম্বর থেকে খতিবেরা তাওহিদের বাণী এবং সত্য ও ইনসাফের আদর্শ তুলে ধরেন। এই আলোচনাগুলো হওয়া উচিত অত্যন্ত সুপরিকল্পিত, গঠনমূলক এবং সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ফলপ্রসূ। মুসল্লিরা যেন বাস্তবজীবনে এই আলোচনা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করতে পারেন, সেদিকে লক্ষ রেখে খুতবা ও বয়ান প্রস্তুত করা প্রয়োজন।

একটি আদর্শ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে ইমাম-খতিবদের দায়িত্ব অনেক। বর্তমান সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আলোচনাগুলো হওয়া দরকার ধারাবাহিক ও বিষয়ভিত্তিক। বিশেষ করে চারটি ধাপে আলোচনা হতে পারে:

১. ব্যক্তি ও সমাজ গঠন: ধাপে ধাপে আত্মশুদ্ধি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা।

২. সামাজিক ব্যাধি ও অপরাধ: সুদ-ঘুষ, দুর্নীতি, ধর্ষণ, খুনখারাবি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো জঘন্য অপরাধের জাগতিক ক্ষতি ও পরকালের ভয়াবহতা তুলে ধরা।

৩. নেশামুক্ত সমাজ: মাদক ও জুয়ার সর্বনাশা প্রভাব সম্পর্কে যুবসমাজকে সচেতন করা।

৪. অনলাইন ব্যবহার: ইন্টারনেটের নিরাপদ ও সচেতন ব্যবহারের জন্য যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করা।

বাস্তবে এই কল্যাণ কামনাই হলো প্রকৃত নসিহত বা উপদেশ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আপনার প্রতিপালকের পথে প্রজ্ঞা ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন।’ (সুরা নাহল: ১২৫)। হাদিস শরিফেও এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দ্বীন হচ্ছে (সঠিক) উপদেশ বা কল্যাণ কামনা করা।’ (সহিহ মুসলিম)

ওয়াজ-মাহফিল: প্রয়োজন সুশৃঙ্খল আয়োজন

দেশব্যাপী আয়োজিত ওয়াজ-মাহফিল, ইসলাহি মজলিশ ও তাফসির মাহফিলগুলো ইসলামের সঠিক আদর্শ প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই আয়োজনগুলো আরও ফলপ্রসূ করতে আয়োজক ও আলোচক উভয়কেই কিছু বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি:

১. আলোচকের প্রস্তুতি: বক্তাদের উচিত প্রচুর পড়াশোনা করা এবং সুনির্দিষ্ট দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা করা। গালগল্প পরিহার করা। আক্রমণাত্মক মানসিকতা না দেখানো। অকারণে কোনো ব্যক্তি, দল বা সম্প্রদায়কে ছোট না করা। সমাজসংস্কারে এসব একটি অপরিহার্য শর্ত।

আলোচকদের আরও বলব, সাধারণ মানুষের সামনে ইসলামের বিধানগুলো অত্যন্ত সুকৌশলে ও সদুপদেশের মাধ্যমে উপস্থাপন করুন। যেসব মতানৈক্যপূর্ণ বা দলিলভিত্তিক সূক্ষ্ম বিষয় সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়, তা জনসমক্ষে আলোচনা করে বিভেদ না বাড়ানোই শ্রেয়। ইসলামের বিকৃতি ও অপব্যাখ্যা রোধে সচেতন থাকতে হবে। উম্মাহর কল্যাণে যা জরুরি, তা-ই দরদমাখা ভাষায় মানুষের সামনে তুলে ধরা উচিত।

২. আয়োজকদের দায়িত্ব: সুর বা ছন্দের বাহারি বক্তার পেছনে না ছুটে, শ্রোতাদের প্রকৃত দ্বীনি খোরাক জোগাতে পারেন এমন বিজ্ঞ আলেমদের আমন্ত্রণ জানানো উচিত। সঠিক মানের বক্তা নির্বাচন না করলে ইসলামের মূল শিক্ষা ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের মনে নেতিবাচক মনোভাব বা ধর্মবিদ্বেষ তৈরি হতে পারে।

লেখক: খতিব, ভবানীপুর মাইজপাড়া হক্কানি জামে মসজিদ, গাজীপুর

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামুকা সংশোধনে বিল পাস, জামায়াতের আপত্তি, এনসিপির সমর্থন

নীরবতার চরম মূল্য: ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেভাবে হারিয়ে গেল উপসাগরীয় অঞ্চলে

নির্যাতনে স্ত্রীর আত্মহনন, স্বামী গ্রেপ্তার

ফুয়েল পাস অ্যাপ রেজিস্ট্রেশন ও ব্যবহার করবেন যেভাবে

ভূমি অধিগ্রহণের টাকা আত্মসাৎ: সাবেক কর্মকর্তাসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত