প্রশ্ন: ইসলামে দাড়ি রাখার বিধান কী? কীভাবে দাড়ি রাখলে সুন্নত পালন হবে? বিস্তারিত জানতে চাই।
শামীম মোল্লা, কিশোরগঞ্জ
উত্তর: দাড়ি রাখা নবী-রাসুলদের চিরন্তন সুন্নত এবং ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন অর্থাৎ শিআরে ইসলাম। মানবজাতির শুরু থেকেই দাড়ি ছিল পুরুষত্বের প্রতীক ও আভিজাত্যের চিহ্ন। সেই ধারাবাহিকতায় ইসলাম ধর্মেও দাড়ি রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। দাড়ি আঁচড়ানো, তেল লাগানো এবং পরিচ্ছন্ন রাখা সুন্নত। রাসুল (সা.) অজুতে দাড়ি ধোয়ার সময় আঙুল দিয়ে খিলাল করতেন।
ইসলামি ফিকহবিদ ও আলেমদের মতে, দাড়ি রাখা ওয়াজিব (আবশ্যক)। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে দাড়ি লম্বা করার এবং গোঁফ খাটো করার নির্দেশ দিয়েছেন। যেহেতু রাসুল (সা.)-এর সরাসরি আদেশ রয়েছে, তাই দাড়ি কাটা বা মুণ্ডন করা ‘ওয়াজিব’ তরক করার শামিল, যা কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ।
পবিত্র কোরআনে দাড়ি রাখার সরাসরি নির্দেশ না থাকলেও নবী-রাসুলদের দাড়ি রাখার বর্ণনা রয়েছে। এ ছাড়া রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের নির্দেশ কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে দেওয়া হয়েছে।
দাড়ি রাখার সুন্নতি বা শরয়ি পরিমাপ হলো এক মুষ্টি। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) যখন হজ বা ওমরাহ করতেন, তখন তিনি নিজের দাড়ি মুঠ করে ধরতেন এবং অতিরিক্ত অংশটুকু কেটে ফেলতেন। মুহাদ্দিসিনদের মতে, তিনি এটি সব সময়ই করতেন। হজরত ওমর (রা.)-ও এক ব্যক্তির এক মুষ্টির অতিরিক্ত দাড়ি নিজ হাতে কেটে দিয়েছিলেন।
পবিত্র কোরআনের বর্ণনা, হাদিসের নির্দেশ এবং সাহাবিদের আমলের ভিত্তিতে ইসলামবিষয়ক গবেষকগণ মত দিয়েছেন: ১. দাড়ি এক মুষ্টি পরিমাণ লম্বা রাখা ওয়াজিব। ২. এক মুষ্টির কম রাখা বা একদম চেঁছে ফেলা কোনো কোনো ফকিহ বলেছেন হারাম, কেউ বলেছেন মাকরুহে তাহরিমি। ৩. এক মুষ্টির বেশি হয়ে গেলে তা কাটা বা ছাঁটা জায়েজ।
ফিকহবিদদের মতে, দুই চোয়ালের হাড়ের ওপর গজানো পশম, কান ও চোখের মধ্যবর্তী স্থানের পশম এবং থুতনির নিচের অংশ—সবই দাড়ির অন্তর্ভুক্ত।
দাড়ি রাখা কেবল বাহ্যিক কোনো বিষয় নয়, এটি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ। এক মুষ্টি পরিমাণ দাড়ি রাখা প্রত্যেক মুমিন পুরুষের জন্য আবশ্যক। এটি যেমন দুনিয়াতে একজন মুসলিমের সম্মান বৃদ্ধি করে, তেমনি আখিরাতেও রাসুল (সা.)-এর শাফায়াত পাওয়ার উসিলা হতে পারে।
তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, ফাতহুল বারি, ফতোয়ায়ে শামি।
উত্তর দিয়েছেন: মুফতি শাব্বির আহমদ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, নির্ভরযোগ্য এবং অকৃত্রিম ভালোবাসার নাম হলো ‘মা’। একজন মানুষ যখন প্রথম পৃথিবীর আলো দেখে, তখন তার প্রথম আশ্রয়, প্রথম নিরাপত্তা এবং মমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন মা। মাতৃত্ব নারীর অহংকার। সন্তান গর্ভে ধারণ করা এবং জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা আল্লাহ তাআলা একমাত্র নারীকেই দিয়েছেন।
১ ঘণ্টা আগে
প্রকৃতি ও পরিবেশ মহান আল্লাহর এক অপার নিয়ামত। আসমান-জমিন, পাহাড়-পর্বত, নদ-নদী, বৃক্ষলতা এবং প্রাণিজগৎ—সবকিছুর সমন্বয়ে মহান রাব্বুল আলামিন এই পৃথিবীকে ভারসাম্যপূর্ণ করে সৃষ্টি করেছেন। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যেখানে পরিবেশরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
মোহাম্মদ হাসানের হাত দুটো আজ কাঁপছে, চোখের দৃষ্টিও ঝাপসা হয়ে এসেছে। কিন্তু চামড়ার ওপর যখন তাঁর সুই-সুতা সগৌরবে চলতে শুরু করে, তখন মুহূর্তেই ফিকে হয়ে যায় বয়সের সব ক্লান্তি। নিখুঁত দক্ষতায় তাঁর হাত যেন যন্ত্রের গতিতে ছুটতে থাকে। নানা রঙের সুতার বুননে চামড়ার ক্যানভাসে তিনি ফুটিয়ে তোলেন এমন...
২ ঘণ্টা আগে
আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার সর্বোত্তম মাধ্যম নামাজ। ফরজ নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দা যেমন আল্লাহর হুকুম পালন করে, তেমনি নামাজ-পরবর্তী কিছু আমল তার জীবনকে আরও পরিশুদ্ধ করে তুলতে পারে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর করণীয় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো—
১ দিন আগে