আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে মানুষের মূল্যায়ন প্রায়শই তার বাহ্যিক চেহারা, পোশাক, কথা বলার স্মার্টনেস এবং সামাজিক অবস্থান দিয়ে করা হয়। বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়ে মানুষকে বিচার করা হলেও তার প্রকৃত পরিচয় লুকিয়ে থাকে ভেতরের পবিত্রতা ও নৈতিকতার মধ্যে। স্মার্টনেস হয়তো সাময়িক মুগ্ধতা তৈরি করে, কিন্তু আত্মশুদ্ধিই মানুষের জীবনে স্থায়ী সম্মান ও প্রকৃত সফলতা নিয়ে আসে।
আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব
ইসলাম একজন মানুষের সাফল্যের মূল রহস্যকে আত্মশুদ্ধির সঙ্গে যুক্ত করেছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘সে-ই সফলকাম, যে তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আর সে-ই ব্যর্থ, যে তাকে কলুষিত করে।’ (সুরা শামস: ৯-১০)
এই আয়াত অনুযায়ী, যে ব্যক্তি তার নফস বা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, সে-ই প্রকৃত সফল। বাহ্যিক স্মার্টনেস, দামি পোশাক বা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কোনো মানুষকে আল্লাহর কাছে সম্মানিত করে না, যদি না তার অন্তর শুদ্ধ হয়।
হাদিসের আলোকে আত্মশুদ্ধি
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জেনে রাখো, শরীরের মধ্যে একটি মাংসপিণ্ড আছে; সেটি যখন ভালো থাকে, তখন পুরো শরীর ভালো থাকে। আর সেটি যখন নষ্ট হয়ে যায়, তখন পুরো শরীর নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রাখো, সেটি হলো অন্তর।’ (সহিহ্ বুখারি: ৫২)
এই হাদিস থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, মানুষের আসল পরিচয় তার অন্তরের পবিত্রতায়। বাহ্যিক চাকচিক্য ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু অন্তরের শুদ্ধতা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্থায়ী প্রভাব ফেলে।
স্মার্টনেস বনাম আত্মশুদ্ধি: একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ
স্মার্টনেস: বাহ্যিক আকর্ষণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, স্টাইল ও সুন্দর কথোপকথনের দক্ষতা। মানুষকে মুহূর্তের জন্য প্রভাবিত করতে পারে। এর প্রভাব সাময়িক এবং অনেক সময় ভেতরের চরিত্রহীনতাকে ঢেকে রাখে।
আত্মশুদ্ধি: অন্তরের অহংকার, হিংসা, লোভ ও প্রতারণা থেকে মুক্তি দেয়। তাকওয়া, ধৈর্য, সততা, দয়া ও বিনয় অর্জনে সহায়ক। মানুষের অন্তরে স্থায়ী সম্মান ও আল্লাহর নিকট মর্যাদা দান করে।
কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সে-ই সর্বাধিক সম্মানিত, যে সর্বাধিক পরহেজগার।’ (সুরা হুজুরাত: ১৩)। এই আয়াত প্রমাণ করে যে আল্লাহর কাছে মর্যাদা বাহ্যিক স্মার্টনেস বা ধন-সম্পদের ওপর নয়, বরং আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার ওপর নির্ভর করে।
আত্মশুদ্ধির সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রভাব
মানবিক সম্পর্ক: আত্মশুদ্ধি হিংসা, বিদ্বেষ ও প্রতারণা কমিয়ে মানবিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করে।
সামাজিক নিরাপত্তা: অন্তরের পবিত্রতা সমাজে পাপ, অপরাধ ও অন্যায় হ্রাস করে।
মানসিক শান্তি: আত্মশুদ্ধি ব্যক্তিকে আত্মতৃপ্তি ও মানসিক প্রশান্তি দেয়।
আল্লাহর নৈকট্য: আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়।
একজন মানুষ যতই স্মার্ট হোক না কেন, যদি তার অন্তর কলুষিত হয়, তবে তার বাহ্যিক স্মার্টনেস অর্থহীন। অন্যদিকে, একজন সাধারণ মানুষও যদি আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলে, তবে সে-ই প্রকৃত সম্মানের অধিকারী। তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে অন্তরের পবিত্রতা অর্জন করা।
লেখক: আশিকুল্লাহ মাহমুদ, শিক্ষক, জামিয়া আরাবিয়া কওমিয়া দারুন নাজাত ভালুকা, ময়মনসিংহ

রাগ মানুষের একটি আচরণগত দিক। এর মন্দ প্রভাবই বেশি। রাগী মানুষকে কেউ ভালোবাসে না। এ কারণে রাসুল (সা.) তাঁর উম্মতকে রাগ করতে নিষেধ করেছেন এবং রাগ সংবরণকারীকে শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
কোরবানি ইসলামের একটি মহান নিদর্শন ও ইবাদত। সামর্থ্য থাকলে একাই একটি পশু কোরবানি করা সবচেয়ে উত্তম। তবে বড় পশুর ক্ষেত্রে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কোরবানি করারও সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত ভাগে বা সাতজন মিলে কোরবানি করা বৈধ।
৩ ঘণ্টা আগে
কোরবানি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ ত্যাগের ইবাদত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন—‘অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।’ (সুরা কাউসার: ২)। এই ইবাদত কবুল হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নির্দিষ্ট বয়সের পশু নির্বাচন করা।
১০ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৫ ঘণ্টা আগে