আমরা আখিরাতের অনন্ত জীবনের যাত্রী। এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার প্রতিটি কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ পাবে পরকালে—যার শেষ পরিণতি হয় চিরসুখের জান্নাত, না হয় ভয়াবহ জাহান্নাম। আজকাল আমরা অঢেল ধনসম্পদ, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি কিংবা সমাজের উঁচু পদমর্যাদাকেই ‘সফলতা’ বলে ধরে নিয়েছি। অথচ রাসুলুল্লাহ (সা.) সফলতার প্রকৃত সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়ে জান্নাতে স্থান পেল, দিন শেষে সে-ই প্রকৃত সফল।’
এই ব্যস্ত নাগরিক জীবনে মাথা গোঁজার একটি সামান্য নীড়, একটি সুন্দর ফ্ল্যাট কিংবা একটু বিলাসবহুল আবাসন নিশ্চিত করতে আমরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করি। অথচ পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন অত্যন্ত সহজ উপায়ে আমাদের জন্য জান্নাতে একটি সুরম্য প্রাসাদ নির্মাণের অভাবনীয় সুযোগ রেখে দিয়েছেন। সেই মহামূল্যবান সুযোগটি লুকিয়ে আছে দৈনিক মাত্র ১২ রাকাত ‘সুন্নতে মুআক্কাদা’ নামাজ নিয়মিত আদায়ের মাঝে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দিন ও রাতে ১২ রাকাত (সুন্নত) নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হবে।’ (সহিহ মুসলিম: ৭২৮)
দুর্ভাগ্যবশত, দৈনন্দিন ব্যস্ততায় আমরা অনেকেই কেবল ফরজটুকু পড়ে তাড়াহুড়ো করে উঠে পড়ি, সুন্নতের প্রতি চরম অবহেলা দেখাই। অথচ প্রতিদিন ফরজ নামাজের পাশাপাশি এই ১২ রাকাত সুন্নত আদায় করলে মহান রবের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জান্নাতে নিজের জন্য একটি ঘর বা প্রাসাদ নিশ্চিত করা সম্ভব। কোনো কারণে জামাত শুরু হয়ে যাওয়ার দরুন জোহরের ফরজের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত ছুটে গেলে, ফরজ আদায়ের পরপরই তা পড়ে নেওয়া উচিত।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র সাহাবিগণ এই ১২ রাকাত সুন্নতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন এবং কোনো অবস্থাতেই তা ছাড়তেন না। হাদিসটির বর্ণনাকারী উম্মুল মুমিনিন উম্মে হাবিবা (রা.) বলেছেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মুখ থেকে এই ফজিলতের কথা শোনার পর আমি জীবনের বাকি সময়ে কখনো এই ১২ রাকাত সুন্নত পড়া ছাড়িনি।’
ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ায় একটি আবাসনের পেছনে আমরা জীবন যৌবন উৎসর্গ করে দিই, অথচ চিরস্থায়ী জান্নাতে আল্লাহর অফারে একটি ঘর বানিয়ে নেওয়া কতই না সহজ!

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুমহান জীবন ও আদর্শ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে দেশব্যাপী ‘নবিজি’ বই বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও তামাদ্দুনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘রাবতা’।
৩ ঘণ্টা আগে
অতিথি আপ্যায়ন ইসলামের দৃষ্টিতে ইমানের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার অতিথিকে সম্মান করে।’ (সহিহ বুখারি: ৬০১৮)। এই স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থেকেই প্রতীয়মান হয় যে মুমিনের জীবনে অতিথির মর্যাদা কতখানি সুগভীর।
৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৯ ঘণ্টা আগে
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার দাবি মুখে করা সহজ, কিন্তু সেই ভালোবাসার প্রকৃত সত্যতা প্রকাশিত হয় আমলে ও জীবনযাত্রায়। নবীপ্রেম কেবল কোনো আনুষ্ঠানিকতা, আবেগ কিংবা মৌখিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না।
১ দিন আগে