আহমাদ বিন ইব্রাহিম

মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। তার জীবন কেবল নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক ও সুশৃঙ্খল বন্ধনের মাধ্যমে জীবনের পরিপূর্ণতা আসে। ইসলামে এই আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কোরআনের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘সিলায়ে রেহমি’ এবং এটি রক্ষা করাকে ওয়াজিব বা অবশ্যকরণীয় ঘোষণা করা হয়েছে। এর বিপরীত হলো ‘কেতায়ে রেহমি’ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, যা ইসলামে কঠোরভাবে হারাম করা হয়েছে।
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা একজন মুমিনের ঈমানের অন্যতম পরিচায়ক। নবী করিম (সা.)-এর কাছে একবার এক বেদুইন এসে জানতে চাইলেন, কোন কাজ তাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে।
তিনি বললেন, ‘ইবাদত করবে এবং তার সাথে কাউকে শরিক করবে না, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়স্বজনের প্রতি ঘনিষ্ঠ আচরণ করবে।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা মানুষকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখে।
আত্মীয়দের হক আদায় করলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সাধারণ গরিব-মিসকিনকে দান করলে তাতে শুধু সদকার সওয়াবই পাওয়া যায়। অথচ তা যদি নিজের রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়স্বজনকে দান করা হয়, তাহলে তাতে দুটি সওয়াব রয়েছে: একটি হলো সদকার সওয়াব, অপরটি হলো আত্মীয়তার হক আদায় করার সওয়াব।’ (জামে তিরমিজি)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন আয়াতে আত্মীয়স্বজনের অধিকার আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আর আত্মীয়-স্বজনকে দেবে তার প্রাপ্য এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও এবং কিছুতেই অপব্যয় করবে না।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৬)
অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট হক দাবি কর এবং আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।’ (সুরা নিসা: ১)
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে, আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করা একটি সামাজিক দায়িত্বের পাশাপাশি একটি ইবাদতও বটে।
আসল আত্মীয়তা রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি নয়, যে শুধু প্রতিদানের আশায় সম্পর্ক বজায় রাখে। বরং রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আসল আত্মীয়তা রক্ষাকারী সে, যে আত্মীয়তা ছিন্ন হলেও তা বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি)।
এই শিক্ষা আমাদের দেয় যে, কেউ সম্পর্ক ছিন্ন করলেও আমাদের উচিত নিজ থেকে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা। কারণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক আরশে ঝুলন্ত থাকে এবং বলে, ‘যে আমাকে বজায় রাখে, আল্লাহ তাকে বজায় রাখেন, আর যে আমাকে ছিন্ন করে, আল্লাহ তাকে ছিন্ন করেন।’ (সহিহ্ বুখারি ও সহিহ্ মুসলিম)
অতএব, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা শুধু সামাজিক প্রথা নয়, এটি একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি সমাজকে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও একতার বন্ধনে আবদ্ধ করে।
শিক্ষার্থী: জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। তার জীবন কেবল নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক ও সুশৃঙ্খল বন্ধনের মাধ্যমে জীবনের পরিপূর্ণতা আসে। ইসলামে এই আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কোরআনের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘সিলায়ে রেহমি’ এবং এটি রক্ষা করাকে ওয়াজিব বা অবশ্যকরণীয় ঘোষণা করা হয়েছে। এর বিপরীত হলো ‘কেতায়ে রেহমি’ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, যা ইসলামে কঠোরভাবে হারাম করা হয়েছে।
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা একজন মুমিনের ঈমানের অন্যতম পরিচায়ক। নবী করিম (সা.)-এর কাছে একবার এক বেদুইন এসে জানতে চাইলেন, কোন কাজ তাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে।
তিনি বললেন, ‘ইবাদত করবে এবং তার সাথে কাউকে শরিক করবে না, নামাজ কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আত্মীয়স্বজনের প্রতি ঘনিষ্ঠ আচরণ করবে।’ (আল-আদাবুল মুফরাদ)। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা মানুষকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখে।
আত্মীয়দের হক আদায় করলে দ্বিগুণ সওয়াব পাওয়া যায়। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সাধারণ গরিব-মিসকিনকে দান করলে তাতে শুধু সদকার সওয়াবই পাওয়া যায়। অথচ তা যদি নিজের রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়স্বজনকে দান করা হয়, তাহলে তাতে দুটি সওয়াব রয়েছে: একটি হলো সদকার সওয়াব, অপরটি হলো আত্মীয়তার হক আদায় করার সওয়াব।’ (জামে তিরমিজি)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বিভিন্ন আয়াতে আত্মীয়স্বজনের অধিকার আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আর আত্মীয়-স্বজনকে দেবে তার প্রাপ্য এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও এবং কিছুতেই অপব্যয় করবে না।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৬)
অন্য আয়াতে তিনি বলেন, ‘আল্লাহকে ভয় করো, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট হক দাবি কর এবং আত্মীয়-স্বজনের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন।’ (সুরা নিসা: ১)
এই আয়াতগুলো প্রমাণ করে, আত্মীয়স্বজনের হক আদায় করা একটি সামাজিক দায়িত্বের পাশাপাশি একটি ইবাদতও বটে।
আসল আত্মীয়তা রক্ষাকারী সেই ব্যক্তি নয়, যে শুধু প্রতিদানের আশায় সম্পর্ক বজায় রাখে। বরং রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আসল আত্মীয়তা রক্ষাকারী সে, যে আত্মীয়তা ছিন্ন হলেও তা বজায় রাখে।’ (সহিহ বুখারি)।
এই শিক্ষা আমাদের দেয় যে, কেউ সম্পর্ক ছিন্ন করলেও আমাদের উচিত নিজ থেকে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা। কারণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক আরশে ঝুলন্ত থাকে এবং বলে, ‘যে আমাকে বজায় রাখে, আল্লাহ তাকে বজায় রাখেন, আর যে আমাকে ছিন্ন করে, আল্লাহ তাকে ছিন্ন করেন।’ (সহিহ্ বুখারি ও সহিহ্ মুসলিম)
অতএব, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা শুধু সামাজিক প্রথা নয়, এটি একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি সমাজকে ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও একতার বন্ধনে আবদ্ধ করে।
শিক্ষার্থী: জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

কবর জিয়ারত করা প্রিয় নবী (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটি মানুষকে দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করতে এবং পরকালের কথা স্মরণ করতে সাহায্য করে। ইসলামের প্রথম যুগে শিরক বা মূর্তিপূজার আশঙ্কায় কবর জিয়ারত নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
২ ঘণ্টা আগে
নামাজ আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি যেমন আমাদের দৈহিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে, তেমনই আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। আজকের এই নামাজের সময়সূচি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের ব্যস্ততা যতই থাকুক না কেন, আল্লাহর জন্য সময় বের করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
৮ ঘণ্টা আগে
চলতি বছর বিভিন্ন বিভাগ থেকে ১ হাজার ২৮৩ জন শিক্ষার্থীকে এই সম্মাননা দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছেন দাওরায়ে হাদিস (মাওলানা) প্রায় ৯০০ জন, পবিত্র কোরআনের হাফেজ ১১৭ জন, মুফতি (ইফতা) ৬৬ জন, মুহাদ্দিস (উলুমুল হাদিস) ৮ জন, আরবি সাহিত্যে ডিপ্লোমা ৯৩ জন, মুফাসসির ২৪ জন, কারি (কেরাতে হাফস ও সাবা) ৬৯ জন...
২১ ঘণ্টা আগে
জুমার দিন মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ নিয়ামত। এই দিনটিকে সপ্তাহের সেরা দিন হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন নবী করিম (সা.)। জুমার দিন কেবল একটি নামাজ আদায়ের মাধ্যম নয়; বরং এদিনের প্রতিটি মুহূর্তেই রহমত, বরকত ও মাগফিরাত বর্ষিত হয়।
১ দিন আগে