Ajker Patrika

আপনার জিজ্ঞাসা

বিদায়ের সময় ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলার বিধান কী?

মুফতি হাসান আরিফ
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ২৪
বিদায়ের সময় ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলার বিধান কী?

প্রশ্ন: কাউকে বিদায় দেওয়ার সময় বা নিজে বিদায় নেওয়ার সময় অনেকেই ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলে থাকেন। এ বিষয়ে ইসলামের বিধান কী? জানতে চাই।

ওমর ফারুক, রাজশাহী

উত্তর: ‘ফি আমানিল্লাহ’ একটি আরবি বাক্য, যার অর্থ—‘আল্লাহর নিরাপত্তায়’ বা ‘আল্লাহ আপনাকে নিরাপদে রাখুন’। কাউকে বিদায় দেওয়া কিংবা বিদায় নেওয়ার সময়ে দোয়ার উদ্দেশ্যে এই বাক্যটি বলা যাবে। এতে কোনো বাধা নেই। তবে এ ক্ষেত্রে ইসলামের মূল শিক্ষা ও সুন্নাহর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামে বিদায় জানানোর মূল বিধান

ইসলামি শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ বা দেখা হলে যেমন সালাম দেওয়া সুন্নত, তেমনই কথাবার্তা বা মজলিশ শেষ করে বিদায় নেওয়ার সময়ও সালাম দেওয়া একটি নিশ্চিত সুন্নত। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ কোনো মজলিশে পৌঁছাবে, সে যেন সালাম দেয়। তারপর যদি তার সেখানে বসার ইচ্ছে হয়, তবে বসবে। পরে যখন সে উঠে দাঁড়াবে (বিদায় নেবে), তখনো যেন সে সালাম দেয়। কারণ প্রথম সালামটি দ্বিতীয় সালামের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয় (অর্থাৎ দুটি সালামই সমান গুরুত্বপূর্ণ)।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৭০৬)

হাদিসে বর্ণিত বিদায়ের বিশেষ দোয়া

বিদায়কালে কেবল সালামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে রাসুলুল্লাহ (সা.) এক বিশেষ দোয়া পাঠ করে বিদায় জানাতেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) যখন কাউকে বিদায় দিতেন, তখন তার হাত ধরতেন এবং সে নিজে থেকে হাত না ছাড়ানো পর্যন্ত হাত ধরে রাখতেন। অতঃপর বিদায় জানানোর সময় বলতেন, ‘আসতাউদিউ-ল্লাহা দ্বীনাকা ওয়া আমানাতাকা ওয়া খাওয়াতিমা আমালিকা (বা আখিরা আমালিকা)।’ অর্থ: ‘আমি তোমার দ্বীন, তোমার আমানত এবং তোমার শেষ আমলকে আল্লাহর হাওয়ালা (বা জিম্মায়) সোপর্দ করছি।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৬০০; সুনানে তিরমিজি: ৩৪৪২ / ৩৪৪৩)

‘ফি আমানিল্লাহ’ বলা কি বিদআত?

হাদিসে উল্লিখিত দোয়ার অর্থের সঙ্গে ‘ফি আমানিল্লাহ’ (আল্লাহর নিরাপত্তায় অর্পণ করা) বাক্যের অর্থ সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেহেতু রাসুলুল্লাহ (সা.) বিদায়কালে নিরাপত্তামূলক দোয়ার তাকিদ দিয়েছেন, সেহেতু সালাম দেওয়ার পর নিরাপত্তার বার্তা হিসেবে কেউ ‘ফি আমানিল্লাহ’ বললে তাতে কোনো গুনাহ বা সমস্যা নেই। এটি একটি উত্তম কল্যাণকামনা।

তবে স্মরণ রাখা প্রয়োজন, মানুষের বানানো কোনো বক্তব্য বা বাক্য যেন হাদিসে বর্ণিত সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো পদ্ধতির বিকল্প না হয়ে দাঁড়ায়। ‘ফি আমানিল্লাহ’ বলা জায়েজ হলেও রাসুল (সা.)-এর শেখানো পুরো দোয়াটি পড়া এবং সুন্নাহকে প্রাধান্য দেওয়া সর্বোত্তম।

উত্তর দিয়েছেন: মুফতি হাসান আরিফ, ইসলামবিষয়ক গবেষক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত