Ajker Patrika

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ কখন পড়তে হয়, অর্থ কী

  • তালবিয়া হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত
  • ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’—এই বাক্যটিই তালবিয়া
  • পুরুষ উচ্চস্বরে ও নারী নিচু স্বরে তালবিয়া পড়বেন
ইসলাম ডেস্ক 
‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ কখন পড়তে হয়, অর্থ কী
তালবিয়া—লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক। ছবি: সংগৃহীত

হজ ও ওমরাহর সঙ্গে সম্পৃক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ এক আমলের নাম ‘তালবিয়া’। ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক...’-সংবলিত বাক্যটিই তালবিয়া হিসেবে পরিচিত। তালবিয়া মূলত হজ ও ওমরাহে প্রবেশের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং মহান আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদ চর্চার একটি দৃশ্যমান ইবাদত। তালবিয়াকে হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের ‘স্লোগান’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

তালবিয়া: আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ

আরবি:

لَبَّيْكَ اَللَّهُمَّ لَبَّيْكَ، لَبَّيْكَ لَا شَرِيْكَ لَكَ لَبَّيْكَ، إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ، لَا شَرِيْكَ لَكَ

বাংলা উচ্চারণ: লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।

বাংলা অর্থ: আমি উপস্থিত হে আল্লাহ, আমি উপস্থিত। আপনার ডাকে সাড়া দিতে আমি হাজির। আপনার কোনো অংশীদার নেই, আমি উপস্থিত। নিঃসন্দেহে সমস্ত প্রশংসা ও নিয়ামত আপনারই এবং একচ্ছত্র আধিপত্যও আপনার। আপনার কোনো অংশীদার নেই। (সহিহ্ বুখারি: ১৫৪৯)

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ কখন পড়তে হয়

হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের জন্য তালবিয়া পাঠের নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে:

হজ পালনকারী: ইহরাম বাঁধার সময় থেকে শুরু করে জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ‘জামরাতুল আকাবায়’ (বড় শয়তানকে) প্রথম কঙ্কর নিক্ষেপের আগমুহূর্ত পর্যন্ত সার্বক্ষণিকভাবে তালবিয়া পাঠ করবেন। কঙ্কর নিক্ষেপ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতে হয়।

ওমরাহ পালনকারী: ইহরাম বাঁধার পর থেকে তালবিয়া পাঠ শুরু করবেন এবং বায়তুল্লাহ তাওয়াফ শুরু করার আগপর্যন্ত তা জারি রাখবেন। তাওয়াফ শুরু করার মুহূর্তে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবেন।

তালবিয়া পুরোটা পাঠ করা জরুরি। এর কোনো অংশ ছেড়ে দেওয়া মাকরুহ।
তালবিয়া পাঠের নিয়ম
পুরুষদের জন্যনারীদের জন্য
পুরুষদের জন্য উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা সুন্নত। জিবরাইল (আ.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি তাঁর সাহাবিদের উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের আদেশ দেন।নারীরা তালবিয়া পাঠ করবেন নিচু স্বরে, যাতে নিজে শুনতে পান। তাঁরা পুরুষদের মতো উচ্চস্বরে এটি পাঠ করবেন না।

তালবিয়া পাঠের গুরুত্ব ও ফজিলত

হাদিসে তালবিয়াকে হজের বিশেষ স্লোগান এবং হজের দিনের প্রধান শোভা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যখন কোনো মুসলিম তালবিয়া পাঠ করে, তখন তার ডানে ও বামে থাকা পাথর, বৃক্ষরাজি ও মাটি—সবই তার সঙ্গে তালবিয়া পাঠ করতে থাকে। এমনকি এই পাঠের প্রতিধ্বনি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে যায়। (জামে তিরমিজি: ৮২৮)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত