ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু দলিল-দস্তাবেজ পাওয়া যায়, যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, বরং যুগযুগান্তর মানবসভ্যতার জন্য চিরন্তন শিক্ষা হয়ে থাকে। মদিনা সনদ বা মদিনার সংবিধান তেমনই একটি দলিল। আরব উপদ্বীপে বহুধর্মীয় ও বহুজাতীয় সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সহাবস্থানের এক অনন্য চুক্তি ছিল এটি।
হিজরতের পর মদিনার সমস্ত গোত্র ও সম্প্রদায়কে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) এ সনদ প্রণয়ন করেন। ইসলামের ইতিহাসে এ সনদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। কারণ এটি ছিল মুসলিম ও অমুসলিম—উভয় সম্প্রদায়কে নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম লিখিত সংবিধান।
মদিনা সনদের প্রেক্ষাপট: ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে যখন রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন, মদিনায় তখন প্রধানত তিনটি জনগোষ্ঠী বসবাস করত—
মদিনায় বসবাসকারী এসব ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত ছিল। বিশেষত আওস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যকার দীর্ঘকালীন যুদ্ধ-বিগ্রহ চলে আসছিল। ইহুদিরাও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িত ছিল। এমন পরিস্থিতিতে কেবল নবী হিসেবেই নয়, বরং একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেও রাসুলুল্লাহ (সা.) এসব দ্বন্দ্ব-সংঘাতের সমাধান, মদিনায় বসবাসকারী সমস্ত মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থান, শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সবাইকে নিয়ে এক লিখিত চুক্তি করেন। এ চুক্তিটাই ইতিহাসে ‘মদিনা সনদ’ নামে পরিচিত।
মদিনা সনদ ও বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা:
ঐতিহাসিকদের মতে, মদিনা সনদ মোট ৪৭টি ধারা নিয়ে গঠিত হয়েছিল। সনদে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অধিকার, কর্তব্য, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সম্পর্কের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এ সংবিধানের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ধারা নিম্নরূপ—
সাম্প্রতিক সময়ে পৃথিবীর রাষ্ট্রগুলো যে সংবিধান মেনে চলে, সেখানে মানবাধিকার সংরক্ষণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতাসহ মানুষের মৌলিক অধিকার সংবলিত যতগুলো নীতি স্থান পেয়েছে, তার সবই মদিনা সনদে বিদ্যমান ছিল। ফলে বলা যায়, মদিনা সনদ আধুনিক সংবিধান ও বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রাচীন ভিত্তি।
মদিনা সনদ সর্বযুগের সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অনন্য শিক্ষা। নবীজি (সা.) প্রমাণ করেছেন, ভিন্ন মত, ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন গোত্র সবাইকে সঙ্গে নিয়েও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। আজকের পৃথিবী যখন যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িকতা ও বিভাজনের অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন মদিনা সনদ আমাদের শেখায় একতাবদ্ধ থাকাই শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল চাবিকাঠি।

উম্মতের প্রতি সীমাহীন দরদ ও ভালোবাসা থেকে মহানবী মুহাম্মদ (সা.) জীবনের শেষ দিনগুলোতে এবং ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে কিছু চিরন্তন দিকনির্দেশনা রেখে গেছেন। এর মধ্য থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৮টি অসিয়ত নিচে আলোচনা করা হলো...
৮ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১২ ঘণ্টা আগে
ইউনুস (আ.) নিনুওয়া শহরের অধিবাসীদের কাছে সুদীর্ঘকাল দাওয়াত পৌঁছে দেন। তবে তাঁর জাতি অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকে এবং ইসলামের বাণী গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়। দীর্ঘদিনের বিফলতায় কষ্ট পেয়ে একপর্যায়ে তিনি আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ বা অনুমতির অপেক্ষা না করেই এলাকা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন।
১ দিন আগে
দোয়া ইবাদতের মূল। দোয়াকারীকে আল্লাহ তাআলা ভালোবাসেন। অনেকের অভিযোগ, ‘দোয়া করি, কিন্তু কবুল হয় না।’ বস্তুত দোয়া কবুল হওয়ারও কিছু নিয়মনীতি রয়েছে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমাকে ডাকো।
১ দিন আগে