প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর খেদমত বা সেবা করতে পারাকে নিজেদের জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য ও গর্বের বিষয় মনে করতেন সাহাবিরা। আল্লাহর রাসুলের সান্নিধ্যে থেকে তাঁর একটু সেবা করার জন্য প্রায় প্রত্যেক সাহাবিই ব্যাকুল থাকতেন। তবে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা ব্যস্ততার কারণে সবার পক্ষে নিয়মিত এই সুযোগ পাওয়া সম্ভব হতো না। এই প্রতিকূলতার মাঝেও কয়েকজন সৌভাগ্যবান সাহাবি ছিলেন, যাঁরা প্রায় সার্বক্ষণিকভাবে নবীজি (সা.)-এর ব্যক্তিগত সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখে ইতিহাসে ‘খাদেমুর রাসুল’ বা রাসুলের সেবক হিসেবে অমর হয়ে আছেন।
নবীজি (সা.)-এর দীর্ঘ সময়ের ও সবচেয়ে প্রিয় সেবক সাহাবি ছিলেন হজরত আনাস (রা.)। তিনি মদিনার বিখ্যাত খাজরাজ গোত্রের নাজ্জার শাখার সন্তান ছিলেন, তাঁর উপনাম ছিল আবু হামজা। মদিনায় হিজরতের সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর।
নবীজি (সা.) মদিনায় আসার পর আনাসের মা উম্মে সুলাইম (রা.) ছেলেকে নিয়ে রাসুলের দরবারে হাজির হয়ে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আনসারদের নারী-পুরুষ প্রত্যেকেই আপনাকে কিছু না কিছু হাদিয়া দিয়েছে; আমি গরিব, আমার তো কিছু দেওয়ার নেই। আমার এই ছেলে লিখতে জানে, আপনার খিদমতের জন্য একে কবুল করে নিন।’ সেই দিন থেকে শুরু করে নবীজি (সা.)-এর জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানা ১০ বছর হজরত আনাস (রা.) প্রিয় নবীর খিদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। (আনসাবুল আশরাফ, পৃষ্ঠা: ১০২২)
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সার্বক্ষণিক সংস্পর্শে থাকার কারণে হজরত আনাস (রা.) ইসলামের অন্যতম প্রধান মুহাদ্দিসে পরিণত হন। আল্লামা জাহাবি (রহ.)-এর মতে, তিনি ২ হাজার ২৮৬টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তা ছাড়া নবীজি (সা.) তাঁর জন্য বরকতের বিশেষ দোয়া করেছিলেন। সেই দোয়ার বরকতে তিনি সুদীর্ঘ হায়াত, অঢেল সম্পদ ও বহু সন্তানের জনক হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। সর্বাধিক প্রসিদ্ধ অভিমত অনুযায়ী, ৯৩ হিজরি সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
প্রথম যুগের অগ্রগণ্য সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) ছিলেন বদর যুদ্ধসহ সব অভিযানের বীর সৈনিক এবং সে সময়ের অন্যতম বড় ফকিহ ও মুহাদ্দিস। নবীজি (সা.)-এর ঘরের সঙ্গে তাঁর ও তাঁর মায়ের সম্পর্ক এত গভীর ছিল যে, মদিনার সাধারণ মানুষ তাঁদের রাসুলের পরিবারের সদস্য মনে করতেন। হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, ‘আমরা মদিনায় এসে ইবনে মাসউদ ও তাঁর মাকে রাসুলের পরিবারভুক্তই মনে করতাম, কারণ, তাঁদের নবীজির ঘরে অবাধ যাতায়াত ছিল।’ (জামে তিরমিজি: ৩৮০৬)
হাদিস ও ইতিহাসের কিতাবে তাঁর একটি বিশেষ উপাধি রয়েছে—‘সাহিবুল নালাইন ওয়াল বিসাদ ওয়াল মিতহারা’। এর অর্থ হলো, তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পাদুকা (জুতা), তাকিয়া (বালিশ/গদি) ও অজুর পাত্র বহনকারী বিশেষ খাদেম। নবীজির বিখ্যাত এই সেবক সাহাবি ৩২ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
হজরত রাবিআ (রা.) ছিলেন ইসলামের শুরুর দিকে মদিনার ‘আহলে সুফফা’-দের (মসজিদে নববির বারান্দায় অবস্থানকারী জ্ঞানপিপাসু দরিদ্র সাহাবি) অন্তর্ভুক্ত। তিনি মূলত নবীজির অজুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আনা-নেওয়ার খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন।
তিনি নিজেই একটি চমৎকার স্মৃতি বর্ণনা করে বলেন, ‘এক রাতে আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর খিদমতে অজুর পানি ও দরকারি জিনিস এনে দিলে তিনি খুশি হয়ে বলেন, ‘‘কিছু চাও!’’ আমি বললাম, ‘‘আমি জান্নাতে আপনার সাহচর্য প্রার্থনা করছি।’’ নবীজি বললেন, ‘‘এ ছাড়া আর কিছু?’’ আমি বললাম, ‘‘এটাই আমার একমাত্র আবেদন।’’ তখন নবীজি বললেন, ‘‘তাহলে তুমি বেশি পরিমাণে সিজদা (নফল নামাজ) আদায় করে তোমার নিজের স্বার্থেই আমাকে সাহায্য করো।’’’ (সহিহ্ মুসলিম: ৯৮১)। এই মহান সাহাবি ৬৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।
হজরত উকবা (রা.) ছিলেন মিসরের অধিবাসী এবং নবীজি (সা.)-এর একজন অত্যন্ত বিজ্ঞ সাহাবি। তিনি কোরআন ও ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন) বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষ ছিলেন, চমৎকার লিখতে ও পড়তে পারতেন এবং সে সময়ের একজন বিশিষ্ট কবিও ছিলেন। এত গুণ থাকা সত্ত্বেও নবীজির সেবাকে তিনি জীবনের বড় লক্ষ্য বানিয়েছিলেন। তিনি মূলত নবীজির সফরের যানবাহন দেখভালের খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন। নবীজি যখনই কোনো সফরে বের হতেন, তখন তাঁর খচ্চর বা ঘোড়া চালানোর দায়িত্ব উকবা (রা.) অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন। (জাদুল মাআদ: ১/১১৩)
কোনো কোনো ঐতিহাসিকদের মতে তাঁর নাম ছিল ‘ইয়াদ’। তিনি নবীজি (সা.)-এর অত্যন্ত গোপনীয় ও ব্যক্তিগত খিদমতগুলো আঞ্জাম দিতেন। বিশেষ করে, নবীজি যখন গোসল করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি পর্দার ব্যবস্থা করতেন।
তাঁর নিজের ভাষায়, ‘আমি নবী (সা.)-এর খিদমত করতাম। তিনি গোসল করতে চাইলে আমাকে বলতেন, ‘‘তুমি পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়াও।’’ তখন আমি পিঠ ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে উম্মতের চোখের আড়াল থেকে তাঁকে আগলে রাখতাম।’ শিশু পালন-সংক্রান্ত একটি বিখ্যাত হাদিসও তাঁর মাধ্যমে বর্ণিত। একবার শিশু হজরত হাসান বা হুসাইন (রা.) নবীজির বুকে প্রস্রাব করে দিলে তিনি তা ধুতে যান। তখন নবীজি (সা.) শরিয়তের নিয়ম শিখিয়ে বলেন, ‘কন্যাসন্তানের প্রস্রাব ধুতে হয় আর পুত্রসন্তানের প্রস্রাবে পানি ছিটিয়ে দিলেই যথেষ্ট।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩৭৬)
হজরত বুকাইর (রা.)-কে ‘বকর বিন সুদাখ আল লাইসি’-ও বলা হয়। তিনি একদম ছোটবেলা থেকেই নবীজি (সা.)-এর ঘরের ছোটখাটো বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতেন। শৈশবে তিনি নাবালক থাকার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্দরমহলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্দার কোনো সমস্যা হতো না। পরে তিনি যখন প্রাপ্তবয়স্ক বা যুবক হন, তখন অত্যন্ত সততার সঙ্গে নবীজিকে বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি তো এখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে গেছি (তাই এখন থেকে ঘরে ঢোকার ক্ষেত্রে পর্দার বিধান মানব)।’ তাঁর এই সততা ও দায়িত্বশীলতা দেখে প্রিয় নবী (সা.) তাঁর জন্য প্রাণভরে বরকতের দোয়া করেন। (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৫/৩৫৫)
উল্লিখিত প্রধান খাদেমদের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে ও বিশেষ প্রয়োজনে সাহাবি হজরত জুমিখবার, হজরত হিলাল বিন হামরা ও হজরত আসলা বিন শারিক (রা.)-ও রাসুলের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করে ধন্য হয়েছিলেন।

২০২১ সালের জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, কেপ ভার্দের মোট জনসংখ্যার মাত্র এক শতাংশ মুসলিম। প্রায় ৫ লাখ ৫ হাজার মোট জনসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই সম্প্রদায়ের সদস্যসংখ্যা আনুমানিক পাঁচ হাজার। এই জনগোষ্ঠীর সিংহভাগই সেনেগাল, গিনি-বিসাউ ও মালির মতো পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে আসা সাম্প্রতিক সময়ের অভিবাসী...
২ ঘণ্টা আগে
নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি বান্দার সঙ্গে মহান আল্লাহর গভীর সম্পর্ক স্থাপনের একটি মাধ্যম। তাই নামাজ আদায়ের সময় মুসল্লির পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছন্নতা ও শালীনতার বিষয়েও ইসলাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৯ ঘণ্টা আগে
স্পেনে মুসলিম সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ‘ইউনিয়ন অব ইসলামিক কমিউনিটিজ ইন স্পেন’ দ্বারা পরিচালিত একটি জনমিতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, স্পেনে বর্তমানে মুসলিমদের সংখ্যা ২৫ লাখ ৪২ হাজারের বেশি।
১৮ ঘণ্টা আগে