ইবাদত দুই প্রকার। শারীরিক ও আর্থিক। ইসলামের মূলনীতি হলো, শারীরিক ইবাদতে প্রতিনিধিত্ব হয় না। তবে হজের মতো রোজা এই নীতির ব্যতিক্রম। হাফেজ ইবনে আবদিল বার (রহ.) বলেন, ‘নামাজের ব্যাপারে সবাই একমত যে কেউ কারও পক্ষ থেকে নামাজ আদায় করবে না, চাই তা ফরজ হোক আর নফল হোক, ব্যক্তি মৃত হোক আর জীবিত হোক। অনুরূপভাবে জীবিত ব্যক্তির পক্ষ থেকেও রোজা আদায় করা যাবে না—এ ব্যাপারে সব ইমাম একমত। কিন্তু মৃত ব্যক্তির জিম্মায় যদি রোজা থাকে, তার বিধান সম্পর্কে আলিমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।’
আলিমগণ বলেন, মৃত ব্যক্তির জিম্মায় যে রোজা রয়েছে, তার দুটি অবস্থা। এক. কাজার সুযোগ না পেয়ে মারা যাওয়া, সময়ের সংকীর্ণতা অথবা অসুস্থতা অথবা সফরাবস্থা অথবা রোজার অক্ষমতার কারণে কাজার সুযোগ পায়নি, এমতাবস্থায় আলিমগণের মতে, তাঁর পক্ষ থেকে রোজা আদায় করতে হবে না।
দুই. মৃত ব্যক্তি কাজা করার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু তা আদায় না করায় তার উত্তরাধিকারের পক্ষ থেকে আদায় করা সুন্নত। মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে মারা গেল অথচ তার রোজা রয়েছে, তার অভিভাবক তার পক্ষ থেকে রোজা রাখবে।’ (বুখারি)।
ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা মারা গেছেন, তাঁর জিম্মায় এক মাসের রোজা রয়েছে। আমি কি তাঁর পক্ষ থেকে তা আদায় করব?” তিনি বললেন, “যদি তোমার মায়ের ওপর ঋণ থাকে, তা কি তুমি আদায় করবে?” লোকটি বলল, “হ্যাঁ, অবশ্যই।” মহানবী (সা.) বললেন, “অতএব আল্লাহর ঋণ বেশি হকদার, যা তোমার কাজা করা উচিত।”’ (বুখারি)
সুতরাং উল্লিখিত নিয়মে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে রোজার কাজা আদায় করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।
লেখক: অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

হজ মুমিনের জীবনে একবারই ফরজ হয়। তাও কেবল দৈহিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকার শর্তে। ফলে যাঁরা হজ পালনের সুযোগ পান, তাঁরা প্রকৃত অর্থেই ভাগ্যবান। হজ হাজিদের জীবনে আমূল পরিবর্তন আনে। আল্লাহর প্রেমে সিক্ত হয়ে গুনাহমুক্ত জীবন গড়ার শপথ নেন তাঁরা। অবশ্য হজের এই ফজিলত ও পুরস্কার হাজির তাকওয়া, সদিচ্ছা ও নিষ্ঠার
১৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২০ ঘণ্টা আগে
ইতিহাসের পাতায় ‘ফেরাউন’ কোনো সাধারণ নাম নয়, বরং এটি চরম জুলুম, অহংকার ও খোদাদ্রোহিতার এক নিকৃষ্টতম প্রতীক। নিজেকে ‘সর্বোচ্চ প্রভু’ দাবি করা এই দুনিয়াবি খোদার পতন হয়েছিল অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে। লোহিতসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে তাঁর সলিলসমাধি আজও বিশ্ববাসীর জন্য এক জাগ্রত সতর্কবার্তা।
১ দিন আগে
পবিত্র কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত ৮৯ নম্বর সুরা হলো ‘সুরা ফাজর’ (سورة الفجر)। মক্কা নগরীতে অবতীর্ণ ৩০টি আয়াত, ১৩৯টি শব্দ ও ৫৭৩টি বর্ণসমৃদ্ধ এই সুরা নাজিল হওয়ার আদি ধারাক্রম অনুযায়ী দশম সুরা। মক্কায় নাজিল হওয়া অন্য অনেক সুরার মতো এটিও অত্যন্ত সুরময় ও ছন্দসমৃদ্ধ।
১ দিন আগে