প্রকৃতির সৌন্দর্য ও কল্যাণের অন্যতম নিদর্শন হলো বৃষ্টি। এটি শুধু মাটিকে সিক্ত করে না, বরং মানবজীবনেও বহুমাত্রিক উপকার বয়ে আনে। গ্রামীণ জনজীবনে বৃষ্টির জল মানে—স্নিগ্ধতা, উর্বরতা এবং মাঝে মাঝে তা হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ গোসলের উৎস।
অনেকেই বর্ষাকালে বৃষ্টিতে ভিজে শরীর ধুয়ে নেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এ পানি কি ফরজ গোসলের জন্য যথেষ্ট? শরিয়তের দৃষ্টিতে কি বৃষ্টির পানিতে গোসল করলে ফরজ গোসল আদায় হবে? আসুন, কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি জেনে নিই।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তারা নিরাশ হয়ে পড়লে তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর রহমত ছড়িয়ে দেন। আর তিনিই তো অভিভাবক, প্রশংসিত।’ (সুরা শুরা: ২৮)
অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আর আমি বায়ুকে উর্বরকারীরূপে প্রেরণ করি। অতঃপর আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তা তোমাদের পান করাই। কিন্তু তোমরা তার সংরক্ষণকারী নও।’ (সুরা হিজর: ২২)
বর্ণিত আয়াত থেকে বোঝা যায়, আকাশ থেকে বর্ষিত বৃষ্টির পানি পবিত্র। কেউ বৃষ্টিতে ভিজে ফরজ গোসল করতে চাইলে তার অনুমতি রয়েছে।
তবে মনে রাখতে হবে, গোসলের ফরজ তিনটি—
তাই যিনি বৃষ্টিতে ভিজে ফরজ গোসল করতে চান, তাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে—কুলি, নাকে পানি, নাক-কানের ছিদ্র, নাভির ভেতর সহ সমস্ত শরীরে অবশ্যই পানি পৌঁছাতে হবে। অন্যথায় ফরজ গোসল আদায় হবে না।
মোটকথা হলো, আকাশ থেকে বর্ষিত বৃষ্টির পানি প্রকৃতি যেমন গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে, তেমনি একজন মুমিনকেও গ্রহণ করতে হয় সচেতনতা ও শরিয়তের বিধান মেনে। বৃষ্টি আল্লাহর রহমতের প্রতীক। এটি দিয়ে ফরজ গোসল করা জায়েজ, তবে ফরজ গোসলের যে তিনটি শর্ত—তা ঠিকভাবে পূরণ করলেই কেবল তা শুদ্ধ হবে।
বৃষ্টিকে শুধু প্রাকৃতিক উৎস ভাবলে চলবে না, বরং এটিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক পবিত্র নিয়ামত হিসেবেও দেখতে হবে। পরিশুদ্ধতা ও ইবাদতের ক্ষেত্রে তার যথাযথ ব্যবহারই একজন সচেতন মুমিনের পরিচয়।
তথ্যসূত্র-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১ / ২৭৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১ / ৬৪, দুররুল মুখতার: ১ / ৩২৩, হাসিয়াতুত তাহতাবি আলাল মারাকিল ফালাহ: ২১, ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ: ১ / ১৯৫)

মানুষ সব সময় নিজের ঘরে বসে থাকতে পারে না। জীবন-জীবিকার তাগিদে সবাইকেই ঘর ছেড়ে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। জীবনের প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়ার মতো সাধারণ কাজটিকেও ইসলাম ইবাদতে রূপান্তরিত করেছে কিছু সুন্দর দোয়া ও আদবের মাধ্যমে।
১৯ মিনিট আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৬ ঘণ্টা আগে
মক্কা নগরী এবং এর চারপাশে ঘিরে থাকা নির্দিষ্ট একটি পরিধি ইসলামে ‘হারাম’ বা অতি সম্মানিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চল স্বয়ং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নির্ধারিত। ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর খলিল হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে এই হারামের সীমানা দেখিয়ে দিয়েছিলেন। জিবরাইল (আ.)-এর সেই নির্দেশনা...
১৭ ঘণ্টা আগে
দম আদায়ের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত রয়েছে। ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন কিতাব, যেমন—ফাতহুল কাদির, রদ্দুল মুহতার ও আল বাহরুর রায়েকের আলোকে দমের সঠিক বিধান নিচে আলোচনা করা হলো।
২১ ঘণ্টা আগে