Ajker Patrika

দান, সদকা ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য কী?

ইসলাম ডেস্ক 
দান, সদকা ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য কী?
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি জীবনদর্শনে দান, সদকা ও জাকাতের গুরুত্ব অপরিসীম। আরবি ‘সদকা’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো ন্যায়পরায়ণতা বা সত্যবাদিতা। পরিভাষায়, কোনো পার্থিব বিনিময়ের আশা না করে কেবল মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে কাউকে কিছু দান করাকেই সদকা বলা হয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা নিজেদের সম্পদ দিনে বা রাতে, প্রকাশ্যে অথবা গোপনে আল্লাহর পথে খরচ করে, তাদের পুরস্কার তাদের প্রতিপালকের কাছে আছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।’ (সুরা বাকারা: ২৭৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘খেজুরের এক টুকরা দিয়ে

হলেও (দান করে) নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।’

(সহিহ বুখারি: ৭৫১২)

দান ও সদকার মধ্যে পার্থক্য কী?

দান ও সদকা এক হলেও এর মধ্যে সূক্ষ্ম একটি পার্থক্য রয়েছে:

দান: এটি একটি সাধারণ শব্দ। কাউকে কিছু দেওয়াকে দান বলা হয়।

সদকা: এটি অত্যন্ত ব্যাপক। কেবল অর্থ সাহায্য নয়, বরং সমাজ বা ব্যক্তির কল্যাণে যেকোনো কাজই সদকা। কাউকে ভালো কথা বলে আনন্দ দেওয়া বা সুপরামর্শ দেওয়াও সদকার অন্তর্ভুক্ত।

জাকাত ও সদকার মৌলিক পার্থক্য

জাকাত ও সদকা উভয়টিই দান হলেও এদের মধ্যে প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

জাকাত একটি ফরজ ইবাদত, আর নফল সদকা সম্পূর্ণই স্বেচ্ছাসেবামূলক দান। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য জাকাত দেওয়া বাধ্যতামূলক এবং এটি দিতে হয় নির্দিষ্ট পরিমাণে, নিসাব অনুযায়ী। নফল সদকার ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই; মানুষ ইচ্ছেমতো যত খুশি দিতে পারে। জাকাত কেবল দরিদ্র মুসলমানদের নির্দিষ্ট খাতে ব্যয় করা যায়, আর তা মসজিদ বা মাদ্রাসার নির্মাণে ব্যবহার করা যায় না। অন্যদিকে নফল সদকা মুসলিম-অমুসলিমনির্বিশেষে যে কাউকে দেওয়া যায় এবং মসজিদ, মাদ্রাসাসহ যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা যায়।

সদকা ও জাকাতের অভাবনীয় ফজিলত

সদকা মানুষের রোগ-ব্যাধি ও বিপদ-আপদ দূর করে। জাকাত মানুষের সম্পদ ও অন্তরকে কৃপণতা থেকে পবিত্র করে। মৃত্যুর পর যে তিনটি আমলের সওয়াব জারি থাকে, তার মধ্যে প্রধান হলো সদকায়ে জারিয়া বা চলমান দান।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত