Ajker Patrika

গুনাহ থেকে বাঁচার ১০ কার্যকরী উপায়

ইসলাম ডেস্ক 
গুনাহ থেকে বাঁচার ১০ কার্যকরী উপায়
ছবি: সংগৃহীত

গুনাহ বা পাপ মানুষের অন্তরে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি অনীহা তৈরি করে। গুনাহের ফলে নেককাজের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে যায় এবং হৃদয়ে একপ্রকার জড়তা তৈরি হয়। তাই সব রকমের পাপ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল গুনাহ ছেড়ে দাও। যারা গুনাহ করে, শিগগিরই তাদের কৃত গুনাহের কারণে শাস্তি দেওয়া হবে।’ (সুরা আনআম: ১২০)

গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে এবং ইমানি শক্তি বাড়াতে নিচের ১০টি কৌশল মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:

১. দৃঢ় সংকল্প

গুনাহের সুযোগ পেলেও তা না করার সংকল্প করুন। গুনাহের সাময়িক আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু এর অনুতাপ ও ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি গুনাহের সংকল্প করেও যদি তা বর্জন করে, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি লিখে দেন।

২. সর্বাবস্থায় অজু

অজু শুধু পবিত্রতার মাধ্যম নয়, এটি গুনাহের বিরুদ্ধে একটি ঢাল। অজু অবস্থায় থাকলে মনে কুচিন্তা কম আসে বলে আলেম ও বুজুর্গরা মত দিয়ে থাকেন।

৩. ইস্তিগফার

ইস্তিগফার মানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ার নিয়ম করুন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ এমন নন যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদের শাস্তি দেবেন।’ (সুরা আনফাল: ৩৩)

৪. পরিবেশ পরিবর্তন

মানুষের ওপর পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। গুনাহের আড্ডা বা স্থান ত্যাগ করে নেক মজলিশে যাওয়ার অভ্যাস করুন। বাসার পরিবেশকে তিলাওয়াত ও জিকিরের পরিবেশে রূপান্তর করুন।

৫. কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ

যেকোনো কাজ (যেমন মোবাইল চালানো বা ঘর থেকে বের হওয়া) বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে শয়তান দূরে থাকে। বিসমিল্লাহ বলার অভ্যাস আপনাকে মনে করিয়ে দেবে যে এই কাজটিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি আছে কি না।

৬. জিকির

রাস্তাঘাটে বা কাজের ফাঁকে মনে মনে আল্লাহর কথা স্মরণ করুন। অন্তরে জিকিরের আলো থাকলে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।

৭. সময়ের মূল্যায়ন

অবসর সময় শয়তানের কারখানা। নিজেকে সর্বদা কোনো না কোনো বৈধ কাজে ব্যস্ত রাখুন। শায়খুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানি বলেন, ‘কাজের ভেতরে কাজ ঢুকিয়ে দাও’, যাতে গুনাহের চিন্তার সুযোগ না থাকে।

৮. নামাজের প্রতি গুরুত্ব

‘নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আনকাবুত: ৪৫)। বিশেষ করে ফজরের নামাজের গুরুত্ব দিন। ফজরের সফল শুরু মানে সারা দিনের জন্য শয়তানের গিঁট থেকে মুক্তি।

৯. আল্লাহর ভয়

সব সময় এই অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত রাখুন যে ‘আল্লাহ আমাকে দেখছেন।’ নির্জনে গুনাহের চিন্তা এলে ভাবুন, ‘আল্লাহ তো আমার সঙ্গে আছেন।’ এই সচেতনতাই হলো তাকওয়া।

১০. বুজুর্গদের সান্নিধ্য

যাদের দেখলে আল্লাহর কথা মনে পড়ে, তাদের মজলিশে বসুন। নেককার মানুষের সান্নিধ্য লোহাকে সোনা করার মতো আপনার জীবনকে বদলে দেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত