গুনাহ বা পাপ মানুষের অন্তরে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি অনীহা তৈরি করে। গুনাহের ফলে নেককাজের প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে যায় এবং হৃদয়ে একপ্রকার জড়তা তৈরি হয়। তাই সব রকমের পাপ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন সকল গুনাহ ছেড়ে দাও। যারা গুনাহ করে, শিগগিরই তাদের কৃত গুনাহের কারণে শাস্তি দেওয়া হবে।’ (সুরা আনআম: ১২০)
গুনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে এবং ইমানি শক্তি বাড়াতে নিচের ১০টি কৌশল মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি:
গুনাহের সুযোগ পেলেও তা না করার সংকল্প করুন। গুনাহের সাময়িক আনন্দ ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু এর অনুতাপ ও ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি গুনাহের সংকল্প করেও যদি তা বর্জন করে, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি লিখে দেন।
অজু শুধু পবিত্রতার মাধ্যম নয়, এটি গুনাহের বিরুদ্ধে একটি ঢাল। অজু অবস্থায় থাকলে মনে কুচিন্তা কম আসে বলে আলেম ও বুজুর্গরা মত দিয়ে থাকেন।
ইস্তিগফার মানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ বার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়ার নিয়ম করুন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ এমন নন যে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদের শাস্তি দেবেন।’ (সুরা আনফাল: ৩৩)
মানুষের ওপর পরিবেশের প্রভাব অপরিসীম। গুনাহের আড্ডা বা স্থান ত্যাগ করে নেক মজলিশে যাওয়ার অভ্যাস করুন। বাসার পরিবেশকে তিলাওয়াত ও জিকিরের পরিবেশে রূপান্তর করুন।
যেকোনো কাজ (যেমন মোবাইল চালানো বা ঘর থেকে বের হওয়া) বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে শয়তান দূরে থাকে। বিসমিল্লাহ বলার অভ্যাস আপনাকে মনে করিয়ে দেবে যে এই কাজটিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি আছে কি না।
রাস্তাঘাটে বা কাজের ফাঁকে মনে মনে আল্লাহর কথা স্মরণ করুন। অন্তরে জিকিরের আলো থাকলে নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।
অবসর সময় শয়তানের কারখানা। নিজেকে সর্বদা কোনো না কোনো বৈধ কাজে ব্যস্ত রাখুন। শায়খুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানি বলেন, ‘কাজের ভেতরে কাজ ঢুকিয়ে দাও’, যাতে গুনাহের চিন্তার সুযোগ না থাকে।
‘নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।’ (সুরা আনকাবুত: ৪৫)। বিশেষ করে ফজরের নামাজের গুরুত্ব দিন। ফজরের সফল শুরু মানে সারা দিনের জন্য শয়তানের গিঁট থেকে মুক্তি।
সব সময় এই অনুভূতি অন্তরে জাগ্রত রাখুন যে ‘আল্লাহ আমাকে দেখছেন।’ নির্জনে গুনাহের চিন্তা এলে ভাবুন, ‘আল্লাহ তো আমার সঙ্গে আছেন।’ এই সচেতনতাই হলো তাকওয়া।
যাদের দেখলে আল্লাহর কথা মনে পড়ে, তাদের মজলিশে বসুন। নেককার মানুষের সান্নিধ্য লোহাকে সোনা করার মতো আপনার জীবনকে বদলে দেবে।

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা তহা: ১৪)। নামাজের প্রতিটি রুকন সঠিকভাবে পালন করা নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। এর মধ্যে ‘রুকু’ অত্যন্ত...
৭ ঘণ্টা আগে
বিয়ে সামাজিক বন্ধন, অনন্য ইবাদত। বিয়ের আকদ বা মূল অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো বিয়ের খুতবা পাঠ করা। বর ও কনের ইজাব-কবুলের (প্রস্তাব ও গ্রহণ) ঠিক আগে আল্লাহর প্রশংসা ও কোরআনের আয়াত-সংবলিত এই খুতবা পাঠের মাধ্যমে একটি নতুন জীবনের বরকতময় সূচনা হয়।
৮ ঘণ্টা আগে
ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ও শিক্ষণীয় ঘটনা হলো আসহাবুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর ঘটনা। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের দাম্ভিক শাসক আবরাহা পবিত্র কাবা শরিফ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কায় অভিযান চালায়। মানুষের তৈরি বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর কুদরতি শক্তির সেই লড়াইয়ের ইতিহাস আজও মুমিনদের...
১১ ঘণ্টা আগে
নামাজ মুমিনের মিরাজ এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। নামাজের প্রতিটি রুকন ও আমলের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এর মধ্যে নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা দরুদে ইবরাহিম নামে পরিচিত। নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের শ্রেষ্ঠতম...
১৮ ঘণ্টা আগে