ইসলাম ভিক্ষাবৃত্তিকে অত্যন্ত ঘৃণিত একটি কাজ হিসেবে দেখে। এটি কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, বরং সামাজিক দৃষ্টিতেও নিন্দনীয়। ইসলাম মানুষকে কর্মঠ ও আত্মনির্ভরশীল হতে শেখায় এবং পরনির্ভরতাকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করে। আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং সাহাবিদের জীবন ছিল পরিশ্রম ও আত্মমর্যাদাবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁরা ভিক্ষাবৃত্তিকে প্রশ্রয় দেননি, বরং এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ইসলামে হালাল উপার্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আর এই উপার্জনের জন্য প্রয়োজন হয় নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও সাধনার।
ইসলামি সমাজে ভিক্ষাবৃত্তি এড়াতে এবং মানুষকে উপার্জনে উৎসাহিত করতে কিছু কার্যকর ব্যবস্থা রয়েছে:
কর্মের প্রতি উৎসাহ প্রদান
ইসলামে আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি কর্ম ও পরিশ্রমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হাদিসে এর একটি চমৎকার দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। এক আনসারি সাহাবি নবীজি (সা.)-এর কাছে ভিক্ষা চাইতে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার ঘরে কি কিছু আছে?’ সাহাবি উত্তর দিলেন, ‘একটি কম্বল আছে, যার অর্ধেক দিয়ে আমি শরীর ঢাকি আর বাকি অর্ধেক বিছানা হিসেবে ব্যবহার করি। আর একটি বড় পাত্র আছে, যাতে পানি পান করি।’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘এই দুটি জিনিস আমার কাছে নিয়ে এসো।’ সাহাবি সেগুলো নিয়ে এলে তিনি উপস্থিত সাহাবিদের বললেন, ‘এ দুটি কে কিনবে?’ একজন বলল, ‘আমি এক দিরহামে কিনব।’ নবীজি (সা.) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এর চেয়ে বেশি কেউ দেবে?’ অবশেষে একজন দুই দিরহামে তা কিনে নিল। এরপর নবীজি (সা.) সাহাবিকে বললেন, ‘এক দিরহামে খাবার কিনে পরিবারকে দাও, আর অন্য এক দিরহামে একটি কুঠার কিনে আমার কাছে নিয়ে এসো।’ সাহাবি তা-ই করলেন। নবীজি নিজ হাতে কুঠারটিতে হাতল লাগিয়ে দিলেন এবং বললেন, ‘এখন যাও, কাঠ কেটে বিক্রি করো। আগামী ১৫ দিন যেন তোমাকে আমার কাছে না দেখি।’ সাহাবি কাঠ কেটে বিক্রি করতে লাগলেন। ১৫ দিন পর তিনি ১০ দিরহাম নিয়ে নবীজি (সা.)-এর কাছে এলেন। তিনি সে টাকা দিয়ে কিছু কাপড় ও খাবার কিনলেন। তখন নবীজি (সা.) বললেন, ‘ভিক্ষা করে বেড়ানোর চেয়ে পরিশ্রম করে খাওয়া তোমার জন্য অনেক উত্তম।’ (জামে তিরমিজি: ১২১৮)
জাকাত ও সদকায়ে ফিতর
ইসলাম সমাজের অসচ্ছল ও দরিদ্র মানুষের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যার গুরুত্বপূর্ণ দুটি স্তম্ভ হলো জাকাত ও সদকায়ে ফিতর। ধনীদের জন্য জাকাত আদায় করা ফরজ। এটি কেবল দান নয়, বরং ইবাদতের অংশ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং জাকাত আদায় করো।’ (সুরা বাকারা: ১১০)। একইভাবে, সদকায়ে ফিতর রমজানের শেষে দেওয়া হয়, যাতে দরিদ্ররাও ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে। এই দুটি ব্যবস্থা সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য এনে ধনী ও গরিবের মাঝে মানবিক বন্ধন তৈরি করে।
অপচয় পরিহার ও মিতব্যয়িতা
ইসলামে অপচয়কে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই অপচয়কারী শয়তানের ভাই।’ (সুরা ইসরা: ২৭) অপচয় শুধু সম্পদের অপব্যবহারই নয়, বরং এটি দারিদ্র্যের কারণ হতে পারে। একজন মুমিনের উচিত সম্পদ ব্যয়ে মিতব্যয়ী হওয়া, যা আত্মসংযম ও ধৈর্যের পরিচয় বহন করে।
ভিক্ষাবৃত্তির কঠোর নিন্দা
ভিক্ষাবৃত্তি মানুষের আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। তাই মহানবী (সা.) এটিকে নিরুৎসাহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কারও জন্য রশি নিয়ে কাঠ সংগ্রহ করতে বের হওয়া ভিক্ষাবৃত্তি থেকে উত্তম।’ (সহিহ বুখারি: ২০৭৫)।

মানবদেহের স্বাভাবিক ও অনৈচ্ছিক একটি জৈবিক প্রক্রিয়া হলো স্বপ্নদোষ। ছেলে বা মেয়ে বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া একটি চিরন্তন স্বাভাবিক ঘটনা, যাতে মানুষের কোনো হাত থাকে না। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নদোষের পর সঠিক নিয়মে পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫ ঘণ্টা আগে
স্বপ্ন মানুষের জীবনের এক রহস্যময় অধ্যায়। কখনো তা আনন্দের, কখনো ভয়ের, আবার কখনো গভীর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসলাম স্বপ্নকে সম্পূর্ণ অস্বীকারও করে না, আবার জীবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিও বানায় না। তবে কিছু স্বপ্নের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা প্রাচীন মুসলিম মনীষীরা তাঁদের অভিজ্ঞতার আলোকে লিপিবদ্ধ করেছেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৯ ঘণ্টা আগে
আমাদের সমাজে দাম্পত্যজীবনে স্বামীর অধিকার ও মর্যাদা বোঝাতে একটি বাক্য বহুল প্রচলিত—‘স্বামীর পায়ের নিচে স্ত্রীর জান্নাত বা বেহেশত’। অনেক বক্তা কিংবা লেখক এটিকে সরাসরি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী বা হাদিস হিসেবেও উপস্থাপন করে থাকেন। যার আরবি হিসেবে বলা হয়—‘আল-জান্নাতু তাহতা আকদামিল আজওয়াজ’
১ দিন আগে