ইসলামের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো পবিত্রতা। পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ। সার্বক্ষণিক পবিত্রতা রক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। যারা সর্বদা পবিত্র থাকে ফেরেশতারা তাদের সঙ্গ পছন্দ করে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন অধিক পবিত্রতা অর্জনকারীদের।’ (সুরা বাকারা: ২২২)
ফরজ গোসলে ইসলামিক নির্দেশনা মানা আবশ্যক অন্যথায় গোসল শুদ্ধ হবে না। ফলে নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত কবুল হবে না। চলুন জেনে নিই কী কী ভুলের কারণে ফরজ গোসল শুদ্ধ হয় না—
১. ফরজ গোসলে কুলি এবং নাকের নরম অংশ পর্যন্ত পানি না পৌঁছালে গোসল শুদ্ধ হবে না। কারণ এগুলো গোসলের ফরজ।
২. সমস্ত শরীর একবার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া ফরজ। তাই ফরজ গোসলের পর শরীরে একটি চুল পরিমাণ শুকনো থাকলেও গোসল শুদ্ধ হবে না।
৩. নাকের ভেতর জমাটবদ্ধ শুকনো ময়লা থাকলে তার নিচে পানি পৌঁছানো আবশ্যক। অন্যথায় ফরজ গোসল আদায় হবে না।
৪. ভ্রু, মোচ, দাড়ির চুল এবং তার নিচের চামড়া শুকনো থাকলে ফরজ গোসল হবে না।
৫. নখের নিচে গ্লু, আটার খামির, বা তৈলাক্ত এমন ময়লা যা পানি পৌঁছাতে বাধা প্রদান করে থাকলে ফরজ গোসল শুদ্ধ হবে না।
৬. গোসলের পর শরীরে প্রলেপযুক্ত রং, সুপার গ্লু, মাছের আঁশ, ইত্যাদি (যা পানি পৌঁছাতে বাধা প্রদান করে) থাকলে গোসল শুদ্ধ হবে না।
৭. মহিলাদের চুল খোঁপা করা থাকলে গোড়ায় পানি পৌঁছানো ওয়াজিব। আর পুরুষের চুল খোঁপা করা থাক বা না থাক সর্ব অবস্থায় পূর্ণ চুল ও চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো ওয়াজিব।
৮. কান-নাকের ছিদ্র, হাতের আংটি, ব্রেসলেট, নূপুর ও পায়েলের নিচ, নাভির ভেতরে অংশ ভেজানো না হলে ফরজ গোসল হবে না।
৯. নারীরা ফরজ গোসল করার সময় তাদের গোপনাঙ্গের বাইরের অংশ পানিতে না ভেজালে গোসল শুদ্ধ হবে না। উল্লেখ্য, গোসলের সময় গুপ্তাঙ্গে আঙুল প্রবেশ করানো ঠিক নয়।
১০. যারা নকল দাঁত বা ক্যাপ ব্যবহার করেন সম্ভব হলে দাঁত বা ক্যাপ খুলে মুখে পানি দিয়ে কুলি করবে। এটা কষ্টসাধ্য বা সম্ভব না হলে, ওই অবস্থায় গোসল করলে ফরজ গোসল আদায় হয়ে যাবে।
তথ্যসূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ১ / ৬৪-৬৫, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ৮ / ১৭১, দুররুল মুখতার: ১ / ২৮৭, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১ / ২৭৭-২৭৮, হাশিয়াতু তাহতাবি: ১০২-১০৩)

হিজরতের আগে ইয়াসরিব তথা মদিনার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল চরম অবক্ষয়ে নিপতিত। একদিকে গোত্রীয় কোন্দল ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত, অন্যদিকে মদিনার অর্থব্যবস্থার ওপর ইহুদিদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব—সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ছিল ওষ্ঠাগত।
২ ঘণ্টা আগে
নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং সর্বোত্তম ইবাদত। জামাতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় হয়। তবে জামাতে বা ইমামের পেছনে নামাজ পড়ার সময় কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও বিধান মেনে চলতে হয়।
৫ ঘণ্টা আগে
মানুষ হিসেবে চলার পথে আমরা প্রতিনিয়ত ছোট-বড় অসংখ্য ভুল বা গুনাহ করে ফেলি। আর এই গুনাহের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তম আমল হলো ‘ইস্তিগফার’ বা ক্ষমা প্রার্থনা করা।
৬ ঘণ্টা আগে
অজুর মধ্যে এমন কিছু আবশ্যক কাজ রয়েছে, যার কোনো একটি বাদ পড়লে অজু সম্পূর্ণ হবে না এবং নামাজও শুদ্ধ হবে না। এগুলোকে ‘অজুর ফরজ’ বলা হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা মায়িদার ৬ নম্বর আয়াত এবং হাদিসের সুনির্দিষ্ট বর্ণনা অনুযায়ী অজুর ফরজ মোট ৪টি।
১২ ঘণ্টা আগে