Ajker Patrika

ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের জন্য পিতামাতার শ্রেষ্ঠ ৬ উপহার

ইসলাম ডেস্ক 
ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের জন্য পিতামাতার শ্রেষ্ঠ ৬ উপহার
ছবি: সংগৃহীত

সন্তানসন্ততি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি এক অমূল্য উপহার। পবিত্র কোরআনে সন্তানকে দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সম্পদ ও সন্তানাদি দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য।’ (সুরা কাহাফ: ৪৬)। সন্তান শুধু উপহার নয়, বরং এটি একটি পবিত্র আমানত, যার রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে কিয়ামতের দিন পিতামাতাকে জবাবদিহি করতে হবে।

১. জন্মের পর প্রাথমিক হক বা অধিকারসমূহ

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই তার প্রতি পিতামাতার বেশ কিছু ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে:

  • কানে আজান দেওয়া: নবজাতক ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার ডান কানে আজান এবং বাঁ কানে ইকামত দেওয়া সুন্নত। এতে শিশুর অন্তরে শুরুতেই মহান আল্লাহর বড়ত্বের বাণী পৌঁছে যায়।
  • সুন্দর ও অর্থবহ নাম রাখা: সন্তানের ওপর নামের গভীর প্রভাব পড়ে। তাই অর্থহীন বা অপছন্দের নাম না রেখে সুন্দর ও ইসলামি নাম রাখা পিতামাতার দায়িত্ব।
  • আকিকা ও চুল মুণ্ডন: জন্মের সপ্তম দিনে সামর্থ্য অনুযায়ী আকিকা করা এবং মাথার চুল পরিমাণ ওজনের রৌপ্য সদকা করা সুন্নত।
  • খতনা করা: পুত্রসন্তানের ক্ষেত্রে সপ্তম দিনে বা সুবিধাজনক সময়ে সুন্নতে খতনা করানো আবশ্যক।

২. সঠিক শিক্ষা ও ধর্মীয় তারবিয়াত

সন্তানের চরিত্র গঠনে পিতামাতার শিক্ষা-দীক্ষাই প্রধান ভূমিকা পালন করে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘সন্তানকে দেওয়া পিতার সর্বোত্তম উপহার হলো শিষ্টাচার।’ (জামে তিরমিজি)।

  • তাওহিদ শিক্ষা: বড় হওয়ার সঙ্গে শিশুকে আল্লাহর একত্ববাদ ও মৌলিক ইমান সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।
  • কোরআন শিক্ষা: প্রত্যেক মুসলিমের ওপর দ্বীনি জ্ঞানার্জন ফরজ। তাই শৈশব থেকেই শিশুকে কোরআন তিলাওয়াত ও দ্বীনের বনিয়াদি শিক্ষা দিতে হবে।
  • নামাজের নির্দেশ: সন্তানকে সাত বছর বয়স থেকে নামাজের নির্দেশ দেওয়া এবং ১০ বছর বয়সে নামাজের জন্য শাসন করার বিধান রয়েছে।

৩. স্নেহ-ভালোবাসা ও ইনসাফ কায়েম করা

সন্তানের প্রতি কঠোরতা নয়, বরং মমতা প্রদর্শন ইসলামের শিক্ষা। রাসুল (সা.) শিশুদের অনেক ভালোবাসতেন এবং কোলে নিয়ে দোয়া করতেন।

  • আদর ও ভালোবাসা: সন্তানদের আন্তরিকভাবে ভালোবাসতে হবে। যারা শিশুদের দয়া করে না, আল্লাহও তাদের প্রতি রহম করেন না।
  • সন্তানদের মাঝে সমতা: সম্পদ বণ্টন বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে সব সন্তানের মাঝে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করা জরুরি। কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া বা কাউকে বঞ্চিত করা ইসলাম সমর্থন করে না।

৪. ভবিষ্যৎ জীবনের সুরক্ষা ও সক্ষমতা

সন্তানকে পরনির্ভরশীল করে রেখে যাওয়া অনুচিত। তাদের এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।

  • উপার্জনের যোগ্যতা: সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সক্ষম হিসেবে গড়ে তোলা পিতামাতার দায়িত্ব।
  • বিবাহের ব্যবস্থা: সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হলে এবং বিবাহের উপযোগী হলে সময়মতো বিবাহের ব্যবস্থা করা পিতামাতার অন্যতম হক।

৫. সন্তানের জন্য পিতামাতার দোয়া

পিতামাতার দোয়া সন্তানের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। পবিত্র কোরআনে সন্তানদের জন্য একটি বিশেষ দোয়া শেখানো হয়েছে।

দোয়াটি হলো: ‘রাব্বানা হাবলানা মিন আজওয়াজিনা ওয়া জুররিইয়াতিনা কুররাতা আইয়ুনিও ওয়াজআলনা লিল মুত্তাকিনা ইমামা।’

অর্থ: ‘হে আমাদের প্রভু, আমাদের চক্ষু শীতলকারী স্ত্রী ও সন্তান দান করুন এবং আমাদের আল্লাহভীরু মানুষের নেতা নির্বাচিত করুন।’ (সুরা ফুরকান: ৭৪)

৬. সুসন্তান: পরকালের চিরস্থায়ী সম্পদ

মানুষ মারা যাওয়ার পর তার সব আমল বন্ধ হয়ে গেলেও তিনটি আমল জারি থাকে। যার একটি হলো সুসন্তানের দোয়া। সন্তান যদি দ্বীনদার হয়, তবে তার প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব কবরে শুয়ে পিতামাতাও পেতে থাকবেন।

সন্তানকে কেবল বৈষয়িক শিক্ষায় বড় করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং তাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করা এবং জান্নাতের উপযোগী করে গড়ে তোলাও পিতামাতার কর্তব্য। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৬)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত