Ajker Patrika

স্বপ্নদোষ হলেও যখন গোসল ফরজ হয় না

ইসলাম ডেস্ক
স্বপ্নদোষ হলেও যখন গোসল ফরজ হয় না
ছবি: সংগৃহীত

মানবজীবনের একটি স্বাভাবিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া হলো স্বপ্নদোষ। প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীদের মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরে এমন হওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধি বা উঠতি তারুণ্যে এটি বেশি ঘটে থাকে, তবে বয়ঃসন্ধিকাল পার হওয়ার অনেক পরেও এটি ঘটতে পারে। অনেক সময় অসচেতনতা বা সঠিক ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে এই বিষয়টি নিয়ে অনেকে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা লোকলজ্জায় ভোগেন। তবে ইসলাম একটি বাস্তবসম্মত ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান হওয়ায় এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত নির্দেশনা দিয়েছে।

যে স্বপ্নদোষে গোসল ফরজ হয় না

অনেকেরই ধারণা, স্বপ্নে কোনো যৌন কর্মকাণ্ড বা সহবাসের দৃশ্য দেখলেই হয়তো গোসল ফরজ হয়ে যায়। কিন্তু শরিয়তের অকাট্য বিধান হলো—শুধু স্বপ্ন দেখাই গোসল ফরজ হওয়ার কারণ নয়। মূল শর্ত হলো বীর্যপাত বা সিক্ততা।

ঘুম থেকে ওঠার পর যদি কেউ দেখে, তাঁর শরীর বা পোশাকে কোনো ধরনের বীর্য, আর্দ্রতা বা নাপাকির দাগ নেই, তবে শুধু স্বপ্নের কারণে তাঁর ওপর গোসল ফরজ হবে না। অর্থাৎ, স্বপ্নে সহবাসের দৃশ্য দেখার পরও যদি বাস্তবে কোনো তরল নির্গত না হয়, তবে গোসল ছাড়াই সে পবিত্র থাকবে এবং নামাজসহ অন্যান্য ইবাদত করতে পারবে।

নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সমান বিধান

অনেকে মনে করেন স্বপ্নদোষ কেবল পুরুষদেরই হয়। কিন্তু ইসলাম স্পষ্ট করেছে যে, নারীদেরও স্বপ্নদোষ হতে পারে এবং উভয়ের ক্ষেত্রে বিধান একই।

হাদিস শরিফে এসেছে, উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালামা (রা.) বলেন, আবু তালহার (রা.) স্ত্রী উম্মে সুলাইম (রা.) আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর দরবারে এসে আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আল্লাহ তাআলা সত্যের বিষয়ে সংকোচ করেন না। কোনো নারীর স্বপ্নদোষ হলে কি তার ওপর গোসল ফরজ হয়?’ উত্তরে আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, যদি সে পানি বা সিক্ততা দেখতে পায়।’ (সহিহ বুখারি)

সুতরাং, পুরুষ হোক বা নারী—ঘুম থেকে ওঠার পর যদি কাপড়ে বা শরীরে নাপাকির চিহ্ন বা ভিজা ভাব পাওয়া যায়, তবেই কেবল গোসল ফরজ হবে; অন্যথায় নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত