
আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন যুগে কয়েকজন মৃত লোকতে জীবিত করেছিলেন। নবী মুসা (আ.)-এর যুগে বনি ইসরাইলের নিহত ব্যক্তিকে জীবিত করেছিলেন। জীবিত হয়ে সে তার হত্যাকারীর পরিচয় প্রকাশ করে। কোরআনে সুরা বাকারায় ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে।
মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এবং যখন তোমরা এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে, তারপর সে সম্পর্কে পরস্পরকে দোষারোপ করতে লাগলে, অথচ আল্লাহ তা গোপন করছিলেন যা তোমরা গোপন করছিলে। এরপর আমি বললাম, তোমরা এ (গরুর) অংশ দিয়ে তাকে আঘাত করো। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদের তাঁর নিদর্শন দেখিয়ে থাকেন, যাতে তোমরা অনুধাবন করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৭২-৭৩)
উজাইর (আ.) ছিলেন এক পুণ্যবান ব্যক্তি। যিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদে কিছু হাড় দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন যে কীভাবে আল্লাহ তা পুনরুজ্জীবিত করবেন। তখন আল্লাহ তাঁকে ও তাঁর গাধাকে একশ বছর মৃত্যুর ঘুমে রেখে দেন এবং পরে পুনরুজ্জীবিত করেন, যাতে তিনি দেখেন কীভাবে আল্লাহ মৃত হাড়গুলো পুনরায় গঠন করেন এবং মাংসে রূপ দেন।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে—অথবা সেই ব্যক্তির মতো, যে কোনো জনপদ অতিক্রম করছিল, যা তার ছাদের ওপর বিধ্বস্ত ছিল। সে বলল, আল্লাহ একে কীভাবে জীবিত করবেন মরে যাওয়ার পর? এরপর আল্লাহ তাকে একশ বছর মৃত রাখলেন। এরপর তাকে পুনরুজ্জীবিত করলেন। বললেন, ‘তুমি কতকাল অবস্থান করেছ? সে বলল, ‘আমি একদিন অথবা দিনের কিছু সময় অবস্থান করেছি’। তিনি বললেন, ‘বরং তুমি একশ বছর অবস্থান করেছ। সুতরাং তুমি তোমার খাবার ও পানীয়ের দিকে তাকাও, সেটি পরিবর্তিত হয়নি এবং তুমি তাকাও তোমরা গাধার দিকে, আর যাতে আমি তোমাকে মানুষের জন্য দৃষ্টান্ত বানাতে পারি এবং তুমি তাকাও হাড়গুলোর দিকে, কীভাবে আমি তা সংযুক্ত করি, এরপর তাকে আবৃত করি গোশ্ত দ্বারা। পরে যখন তার কাছে স্পষ্ট হলো, তখন সে বলল, ‘আমি জানি, নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান’। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৯)
বনি ইসরাইলের যুগে এমন আরেকটি ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। বনি ইসরাইলের একটি দলের মৃত্যুর প্রকৃতি ও তার কঠোরতা সম্পর্কে জানার ইচ্ছে হয়েছিল। এ জন্য তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করে, যাতে তিনি তাদের জন্য কোনো মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করেন। এতে তারা তার কাছ থেকে মৃত্যুর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে পারে। আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করেন এবং এক ব্যক্তিকে জীবিত করেন। রাসুল (সা.) সাহাবিদের এ বিস্ময়কর ঘটনাটি শুনিয়েছিলেন। নিচে হাদিসের আলোকে ঘটনাটি বর্ণনা করা হলো—
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, বনি ইসরাইলের একটি দল তাদের একটি কবরস্থানে গিয়ে বলল, ‘চলো, আমরা দুই রাকাত নামাজ আদায় করি এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন তিনি আমাদের জন্য কোনো মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করেন, যাতে আমরা তার কাছে মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারি।’ তারা তাই করল। এরপর হঠাৎ এক ব্যক্তি তার মাথা কবর থেকে বের করল। সে ছিল গাঢ় বর্ণের, কপালে ছিল সিজদার চিহ্ন। সে বলল, ‘হে লোকসকল, তোমরা আমার কাছে কী চাও? আমি একশ বছর আগে মারা গিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত মৃত্যুর তীব্রতা আমার থেকে দূর হয়নি। তোমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করো, যেন তিনি আমাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন।’ (মুসান্নাফে আবি শায়বা ৯ / ৬২)
হাদিসের শিক্ষা
মৃত পুনর্জীবিত করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর: এসব ঘটনায় দেখা যায়, আল্লাহ চাইলেই মৃতদের পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন। শেষোক্ত ঘটনায় তিনি একজন ব্যক্তিকে জীবিত করেছিলেন, যাতে সে মৃত্যুর অবস্থা সম্পর্কে জানাতে পারে।
নেক বান্দাদের প্রতি আল্লাহর সম্মান: শেষোক্ত ঘটনায় একজন সৎ ব্যক্তি পুনরুজ্জীবিত হয়েছিলেন, যার কপালে সিজদার চিহ্ন ছিল। এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহ তাঁর নেক বান্দাদের সম্মানিত করেন এবং তাদের মাধ্যমে মানুষকে উপদেশ দেন।
নেককার বান্দাদের দোয়ার গ্রহণযোগ্যতা: যদিও মৃতদের জীবিত করা মানুষের জন্য অস্বাভাবিক ঘটনা, তবু আল্লাহ নেককার মানুষের দোয়া কবুল করে এমন কিছু ঘটাতে পারেন, যা সাধারণ মানুষের বোধ-বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার বাইরে।
ভালো কাজের আগে নামাজ আদায়: কোনো ভালো কাজ করার আগে নামাজ আদায় করা উত্তম।

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম সশস্ত্র যুদ্ধ হলো ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধ। দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান মক্কার কুরাইশ এবং মদিনার মুসলমানদের মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মাত্র ৩১৩ জন মুসলিম যোদ্ধা এক হাজার সুসজ্জিত কাফির বাহিনীর বিরুদ্ধে অভাবনীয় বিজয় লাভ করেন। এই যুদ্ধে ৭০ জন কাফির নিহত হয় এবং ৭০ জন বন্দী হয়।
২ ঘণ্টা আগে
ইমাম আজ-জাহাবি (রহ.) কে ছিলেন? তাঁর বিখ্যাত বই 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' এবং হাদিস ও রিজাল শাস্ত্রে তাঁর অভাবনীয় অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।
৩ ঘণ্টা আগে
মদিনার উত্তপ্ত মরুভূমি। মক্কার কুরাইশদের অন্যায় আর অত্যাচারের জবাব দিতে বদর প্রান্তরে মুখোমুখি হয়েছে হক আর বাতিল। একপাশে আবু জাহেলের নেতৃত্বে এক হাজার সশস্ত্র সুসজ্জিত বাহিনী, অন্যপাশে মাত্র ৩১৩ জন অল্পপ্রাণ মুসলিম। কিন্তু সেই মুসলিম বাহিনীর ভিড়ে লুকিয়ে ছিল দুই সাহসী কিশোর—মুআজ ও মুআওয়িজ।
৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৯ ঘণ্টা আগে