ইসলামের বিচারব্যবস্থায় বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। বিচারের রায় কার্যকরে বিশ্বনবী (সা.) আপনজন-ভিন্নজন, স্বজাতি-বিজাতি এবং দেশি-বিদেশি কারও মাঝেই কোনো ধরনের ভেদাভেদকে প্রশ্রয় দিতেন না।
মক্কা বিজয়ের সময় আরবের সবচেয়ে কুলীন বংশ কুরাইশ গোত্রের এক মহিলা চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত হন। কুরাইশ গোত্রের লোকজন তাঁর ওপর যাতে নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করা না হয়, সে জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনের পথ খুঁজতে থাকেন। রাসুল (সা.) তাঁদের এই কূটকৌশলকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন।
বর্ণিত হয়েছে, মাখজুম গোত্রের একজন মহিলা চুরি করলে তাঁর প্রতি (হদ্দ প্রয়োগের ব্যাপারে) কুরাইশগণ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তাঁরা বললেন, কে এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কথা বলতে (সুপারিশ করতে) পারবেন? তখন তাঁরা বললেন, এ ব্যাপারে ওসামা ব্যতীত আর কারও হিম্মত নেই। তিনি হলেন রাসুল (সা.)-এর প্রিয় ব্যক্তি।
রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে তিনি এ ব্যাপারে কথা বললেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ্দের ব্যাপারে সুপারিশ করতে চাও?
অতঃপর রাসুল দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, ‘হে লোকসকল, নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণ ধ্বংস হয়েছে এ কারণে যে তাদের মধ্যে যখন কোনো সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যদি কোনো দুর্বল লোক চুরি করত, তবে তারা তার ওপর শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম, যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবু নিশ্চয়ই আমি তার হাত কেটে দিতাম।’ (সহিহ মুসলিম: ৪৩০২)
ইহুদিদের দুটি গোত্রের মাঝে বিচারে বৈষম্য ছিল। রাসুল (সা.) তাদের এই বৈষম্যকে দূর করে দিলেন। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলো—‘তারা যদি আপনার নিকট (নিজেদের মোকদ্দমা নিয়ে) আসে, তাহলে আপনার এখতিয়ার রয়েছে তাদের বিচার করার অথবা তাদের উপেক্ষা করার। যদি আপনি (বিচার করতে) অস্বীকার করেন, তবে তারা আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। আর বিচার করলে ইনসাফের সঙ্গেই করবেন। কেননা আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালোবাসেন।’ (সুরা মায়েদা: ৪২)
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, বনু নাজিরের এক ব্যক্তি বনু কুরাইজার এক লোককে হত্যা করলে তারা দিয়তের অর্ধেক পরিশোধ করত। পক্ষান্তরে বনু কুরাইজা বনু নাজিরের কাউকে হত্যা করলে তাদের পূর্ণ দিয়াত দিতে হতো। ওই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের মাঝে সমতা প্রতিষ্ঠা করে দিলেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৩৫৯১)

শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম। কোরআন ও হাদিসের আলোকে শিরকের ভয়াবহতা জানুন এবং নবীজি (সা.) শেখানো শিরক থেকে বাঁচার দোয়াটি মুখস্থ করুন।
৩ ঘণ্টা আগে
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জিকিরের গুরুত্ব অপরিসীম। মহানবী (সা.) আমাদের এমন কিছু ছোট আমল শিখিয়ে দিয়েছেন, যা আমলনামাকে সওয়াবে ভরিয়ে দেয় এবং জীবনের ছোট-বড় গুনাহ দূর করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নামাজের পরের তিন তাসবিহ—সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার।
১২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৮ ঘণ্টা আগে
আজানের বাক্যগুলো সাধারণত সব ওয়াক্তে একই থাকে, তবে ফজরের আজানে অতিরিক্ত একটি বাক্য যোগ করতে হয়—‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’, অর্থাৎ, ঘুম থেকে নামাজ উত্তম। কখনো এমন হতে পারে যে, মুয়াজ্জিন ভুলবশত এই বাক্য বলতে ভুলে গেলেন। যদি এমন হয়, তাহলে আজান শুদ্ধ হবে নাকি আবার আজান দিতে হবে?
১ দিন আগে