
ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণার ইতিহাসে পাক-ভারত উপমহাদেশের যে কয়জন পণ্ডিত বিশ্বজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.)। তিনি ছিলেন একাধারে প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ, ফকিহ এবং দেওবন্দি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। উপমহাদেশে হাদিস শাস্ত্রের পুনর্জাগরণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.) ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ অক্টোবর কাশ্মীরের এক সম্ভ্রান্ত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষগণ মূলত বাগদাদ থেকে হিজরত করে মুলতান ও লাহোর হয়ে অবশেষে কাশ্মীরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর পিতা মাওলানা সাইয়িদ মোয়াজ্জম শাহ নিজেও একজন প্রথিতযশা আলেম ছিলেন।
শিক্ষাজীবন
স্থানীয় মাদ্রাসায় প্রাথমিক শিক্ষা শেষে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্বখ্যাত বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি তৎকালীন শ্রেষ্ঠ আলেমদের সান্নিধ্য লাভ করেন:
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দে শিক্ষকতা শুরু করেন। শায়খুল হিন্দ (রহ.) যখন রাজনৈতিক সফরে যেতেন, তখন তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বুখারি শরিফের দরস (পাঠদান) পরিচালনা করতেন। পরবর্তী সময় তিনি মাজাহিরুল উলুম সাহারানপুরে প্রধান মুহাদ্দিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর পাঠদান পদ্ধতি ছিল গভীর গবেষণামূলক ও বিশ্লেষণধর্মী। তিনি ছাত্রদের শুধু মুখস্থ করার পরিবর্তে যুক্তিনির্ভর চিন্তা করতে উৎসাহিত করতেন। তাঁর হাতে তৈরি হওয়া প্রখ্যাত আলেমগণ আজ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.) ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন:
তাঁর গভীর ইলমি গবেষণার ফসল হিসেবে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যা আজও বিশ্বের বড় বড় ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.) কেবল একজন শিক্ষক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন জ্ঞানের এক চলন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। তাঁর বিনয় ও আধ্যাত্মিক জীবন আজও উত্তরসূরিদের জন্য অনুপ্রেরণা। ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে এই মহান জ্ঞানতাপস ইন্তেকাল করেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ইলমি উত্তরাধিকার আজও দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থায় জীবন্ত হয়ে আছে।

শাশ্বত চেতনাবোধের বিনির্মাণ ও অনুপম মনুষ্যত্ব অর্জনের এক কার্যকর প্রশিক্ষণের বার্তা নিয়ে আগমন করে রমজান। শাবান মাসের শেষে পশ্চিম আকাশে বাঁকা চাঁদ উঁকি দিতেই ধরণির বুকে রহমতের ফল্গুধারা নেমে আসে। শুরু হয় মুমিন হৃদয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার স্নিগ্ধ প্রহর—পবিত্র মাহে রমজান।
১ ঘণ্টা আগে
দিন শেষে রাত নেমে এসেছে মক্কার আকাশে। ধীরে ধীরে রাত গভীর হচ্ছে। বাড়ছে নিস্তব্ধতা। কমছে কোলাহল। এসবের মাঝেই নতুন এক আলোর আগমনের অপেক্ষা। মক্কার এক প্রান্তে বসে অপেক্ষা করছেন এক ইহুদি পণ্ডিত। তাঁর চোখ আকাশের দিকে স্থির। মনোযোগ গভীর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়েছেন বলেই চেহারায়...
১ ঘণ্টা আগে
মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ভাষা। এটি মানুষের চিন্তাচেতনা, নিজস্ব সংস্কৃতি, অনুভূতি প্রকাশ ও আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহক। বিশেষত মাতৃভাষা মানুষের হৃদয় ও আবেগের ভাষা। যে ভাষায় মানুষ প্রথম কথা বলতে শেখে, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চায় তা অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
১ ঘণ্টা আগে
রমজানের স্নিগ্ধ আমেজ আর আনন্দের জোয়ারে মিসরের পুরোনো কায়রোর সমকক্ষ আর কোনো জনপদ নেই বললেই চলে। এখানকার প্রতিটি রাস্তা, অলিগলি দিয়ে হাঁটার সময় আপনার চোখে পড়বে পবিত্র মাসকে বরণ করে নেওয়ার একেকটি জীবন্ত দৃশ্য। কেউ হয়তো নিজের বাড়ির আঙিনায় বা দোকানের সামনে বসে লোহা কিংবা...
১ ঘণ্টা আগে