Ajker Patrika

গৃহকর্মীর সঙ্গে যেমন ছিল নবী (সা.)-এর আচরণ

মুফতি খালিদ কাসেমি
গৃহকর্মীর সঙ্গে যেমন ছিল নবী (সা.)-এর আচরণ
প্রতীকী ছবি

জাহেলি যুগে দাস-দাসী ও গৃহকর্মীদের পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। কটু কথা বলা কিংবা সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ চাপিয়ে দেওয়া ছিল তখনকার স্বাভাবিক চিত্র। প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) সে যুগে এসে শ্রমিকের সামাজিক মর্যাদা এবং মানবাধিকারের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

এক দিন আবু জর (রা.) রাগের মাথায় এক দাসকে কটু কথা বললে নবীজি (সা.) তাঁকে সতর্ক করে বলেন, ‘তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তোমার মধ্যে এখনো জাহেলিয়াতের অভ্যাস রয়ে গেছে।’ এরপর তিনি ঐতিহাসিক বার্তা দেন, ‘তোমাদের অধীনস্থরা তোমাদেরই ভাই। আল্লাহ তাদের তোমাদের অধীনে রেখেছেন। যার অধীনে তার কোনো ভাই রয়েছে, সে যেন তাকে নিজের মতো খাবার খাওয়ায় এবং নিজের মতো পোশাক পরায়। সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ না চাপায়; আর দিলে নিজেও যেন সাহায্য করে।’ (সহিহ বুখারি: ৩০)

প্রিয় নবীর এই নির্দেশ পেয়ে আবু জর (রা.) নিজের ও দাসের জন্য একই মানের পোশাক ব্যবহার শুরু করেন, যা ছিল তৎকালীন সমাজে নজিরবিহীন।

নবীজি (সা.) শুধু মুখে নির্দেশ দেননি, বরং নিজের জীবনেও তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছেন। দীর্ঘ দশ বছর তাঁর সেবা করা আনাস (রা.) বলেন, ‘তিনি কখনো বিরক্তির সুরে আমাকে “উফ” বলেননি। কোনো কাজ করলে জিজ্ঞেস করেননি কেন করলে, আর না করলেও বলেননি কেন করলে না।’ (সহিহ বুখারি: ৬০৩৮)

শ্রমিকের পাওনা পরিশোধেও তিনি ছিলেন কঠোর। তিনি নির্দেশ দেন, ‘শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি বুঝিয়ে দাও।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৪৪৩)

আজকের সমাজে ঘরে কাজ করা গৃহকর্মী কিংবা কর্মস্থলের শ্রমিকদের সামান্য ভুলে গালাগালি করা, অতিরিক্ত খাটানো কিংবা বেতন দিতে গড়িমসি করার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু মহানবীর শিক্ষা হলো—কাজের ধরন দিয়ে মানুষের মর্যাদা মাপা যায় না। আমাদের আরাম ও স্বস্তির পেছনে যাঁদের শ্রম রয়েছে, তাঁদের যথাযথ সম্মান, সহমর্মিতা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই একজন প্রকৃত মুমিনের পরিচয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত