
ডাকসু ও জাকসুর ভোটে বড় জয় পেয়েছে ছাত্রশিবির। বিপরীতে কেন্দ্রীয় একটি পদেও জিততে পারেনি ছাত্রদল। এ নিয়ে কথা বলেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আবদুল্লাহ আল গালিব।
প্রশ্ন: ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের বিশাল জয়ের কারণ কী বলে মনে করেন?
আজিজুর রহমান: গতানুগতিক রাজনীতি করে না বলে সবাই ছাত্রশিবিরকে সমর্থন দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি পালন করেছি। শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য অদম্য মেধাবী সংবর্ধনা, জুলাই নিয়ে কর্মসূচি, ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামসহ শিবিরকে জানার জন্যও প্রোগ্রাম করেছি আমরা। এ ছাড়া রমজান মাসে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার করেছি, মেডিকেল ক্যাম্প করেছি। শিক্ষার্থীরা মূলত চান যে শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি হোক। ছাত্রশিবির সেভাবেই রাজনীতি করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা আমাদের গ্রহণ করেছেন। ছাত্রশিবির থেকে যাঁরা ছাত্র সংসদ নির্বাচন করছেন, তাঁরা জুলাই আন্দোলনে সংযুক্ত ছিলেন। নব্বইয়ের হাওয়া, গেস্টরুম, গণরুম কালচার শিক্ষার্থীরা চান না। ছাত্রশিবির কখনো এমন রাজনীতি করেনি বলে শিক্ষার্থীরা আমাদের সমর্থন দিয়েছেন।
প্রশ্ন: আগে অনুমান করতে পেরেছিলেন এমন বড় বিজয়?
আজিজুর রহমান: যোগ্য প্রার্থী দাঁড় করাতে পারলে শিক্ষার্থীরা আমাদের সমর্থন দেবেন, আমরা জানতাম। আমাদের প্রত্যাশাটা অনেক বেশি ছিল শিক্ষার্থীদের প্রতি এবং আমাদের কমিটমেন্টের জায়গাটা ছিল। আমরা ফুল প্যানেল চেয়েছিলাম কিন্তু সেখানে আমরা কয়েকটি পদ পাইনি। প্রার্থী দেওয়ার সময় দেখে দেখে দিয়েছি শুধু শিবির না, পাশাপাশি তিনি তাঁর জায়গায় যোগ্য কি না। তারপরও দু-এক জায়গায় শিক্ষার্থীরা অন্য প্রার্থীকে যোগ্য মনে করেছেন, তাঁরা সেখানে ভোট দিয়েছেন।
প্রশ্ন: সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেন আপনাদের ভোট দিলেন? আদর্শিক জায়গা থেকে? নাকি বিকল্প চিন্তা করে?
আজিজুর রহমান: শিক্ষার্থীরা ভোট দেওয়ার সময় বিবেচনা করেছেন কারা একটু ব্যতিক্রম, নতুন ধারার রাজনীতি করেন, তাঁদের তাঁরা বাছাই করেছেন। তাঁদের দলীয় প্রভাব ও লেজুড়বৃত্তিক জায়গা থেকে মুক্ত হওয়ার চিন্তা থেকে আমরা মূলত ভোটটা পেয়েছি। বাম সংগঠন বা ছাত্রদল বলেন না কেন, তাদের রাজনৈতিক যে প্যাটার্ন, এটা নব্বইয়ের দশক থেকে একই রকম। অন্যদিকে ছাত্রশিবির প্রয়োজন আলোকে প্রতিবছরে তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছে, শিক্ষার্থীদের মনোভাব যাচাই করেছে। কোন ধরনের রাজনীতি কোন ক্যাম্পাসে করলে শিক্ষার্থীরা গ্রহণ করবেন, এভাবে ক্যাম্পাসভিত্তিক পলিসি গ্রহণ করেছে।
প্রশ্ন: ডাকসুতে জয়ের পর এখন আপনাদের কর্মপরিকল্পনা কী?
আজিজুর রহমান: ডাকসুতে যে প্যানেল ছিল, তারা তাদের ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়ন করবে। একটা স্বপ্নের ক্যাম্পাস বিনির্মাণ করবে, যেখানে উচ্চশিক্ষা গবেষণা একাডেমিক এক্সিলেন্সি এগুলো মূলত বেশি প্রাধান্য পাবে। আর দলীয় জায়গা থেকে আমাদের প্ল্যান থাকবে, আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের সমস্যার সমাধান, শিক্ষার উন্নয়ন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এই বিষয়গুলো ফোকাস দিয়ে কাজ করতে চাই।
প্রশ্ন: রাকসু ও চাকসু নিয়ে আপনাদের কী ভাবনা?
আজিজুর রহমান: ইতিমধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা পূর্ণ প্যানেল ঘোষণা করেছি এবং হলভিত্তিক প্যানেলও দিয়েছি। ঢাবি এবং জাবিতে আমাদের হলভিত্তিক প্যানেল ছিল না, সবাই স্বতন্ত্র দাঁড়িয়েছি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের প্যানেল ঘোষণা করা হবে শিগগিরই। সেখানেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আশা করছি, শিক্ষার্থীরা আমাদের সমর্থন দেবেন।
প্রশ্ন: ছাত্রদলের পরাজয়ের কারণ কী বলে মনে করছেন?
আজিজুর রহমান: বর্তমান শিক্ষার্থীরা কী চান, সেটা বুঝে তারা নীতি নির্ধারণ করতে পারেনি বলে শিক্ষার্থীদের কাছে তারা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তারা যে ধারার রাজনীতি করছে, শিক্ষার্থীরা এ ধরনের রাজনীতি চান না। রাজনীতির ধারা পরিবর্তন না করলে, শিক্ষার্থীদের মনমানসিকতা বুঝে রাজনীতি এবং শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রম ঠিক করতে না পারলে, তাদের কার্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যুক্ত হবেন বলে আমাদের মনে হয় না।

শেখ হাসিনা সরকারের আমলে অর্থনীতির অনেক ক্ষেত্রেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে টেনে তোলে প্রথমে অন্তর্বর্তী সরকার এবং এখন বিএনপি সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকারের উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আজকের পত্রিকার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা...
১৫ দিন আগে
গ্যাসসহ জ্বালানির সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে নাকাল দেশ। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ভুগছে শিল্প খাতও। সংকট সমাধানে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এসব নিয়ে কথা বলেছেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আজকের পত্রিকার ফয়সাল আতিক।
১৬ দিন আগে
ব্যাংকিং খাতে সুশাসন, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়ন এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতের ব্যাংকিং, গুণগত ঋণের প্রয়োজনীয়তা এবং সোনালী ব্যাংকের সাম্প্রতিক আর্থিক অবস্থান নিয়ে আজকের পত্রিকার মুখোমুখি হয়েছেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা...
২৩ জুলাই ২০২৬
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেন পাকিস্তানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (ইউএমটি), লাহোরের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম হাসান মুরাদ। সফরকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন।
০৩ জুলাই ২০২৬