Ajker Patrika

ট্রাম্পের বিজ্ঞান প্যানেলে ৯ ধনকুবের, বিজ্ঞানী একজন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ট্রাম্পের বিজ্ঞান প্যানেলে ৯ ধনকুবের, বিজ্ঞানী একজন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদে ঠাঁই পেলেন মার্ক জাকারবার্গসহ শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরা। ‘প্রেসিডেন্টস কাউন্সিল অব অ্যাডভাইজারস অন সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (পিসিএএসটি) নামের এই পরিষদের ১৩ সদস্যের নাম ঘোষণা করেছেন তিনি। ৯ জনই বিলিয়নিয়ার আর মাত্র একজন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষক ও বিজ্ঞানী।

পরিষদের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ, সফটওয়্যার জায়ান্ট ওরাকলের এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান ল্যারি এলিসন ও গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন। এ ছাড়া হার্ডওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং, অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেসের (এএমডি) লিসা সু এবং ডেল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেলও এই তালিকায় আছেন। এই করপোরেট প্রধানদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ ৯০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি।

পরিষদে থাকা প্রধান নির্বাহীদের মধ্যে তিনজনের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। লিসা সু তড়িৎ প্রকৌশলে এবং পারমাণবিক শক্তি বিষয়ক স্টার্টআপের প্রধান জ্যাকব ডিউইট ও বব মুমগার্ড যথাক্রমে পারমাণবিক প্রকৌশল এবং অ্যাপ্লাইড প্লাজমা ফিজিক্সে ডিগ্রিধারী।

উপদেষ্টা পরিষদে স্থান পাওয়া একমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক গবেষক হলেন জন মার্টিনিস। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ান্টাম পদার্থবিদ। ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম ঘটনার পর্যবেক্ষণের জন্য গত বছর তিনি যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। মার্টিনিস ‘নেচার’ সাময়িকীকে বলেন, ‘এই কমিটিতে যুক্ত হতে পেরে আমি সম্মানিত।’

ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ লরা গ্রিন জো বাইডেনের শাসনামলে এই পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি মার্টিনিস এবং লিসা সু-এর প্রশংসা করে তাঁদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ‘অসামান্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তবে কমিটির গঠন নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। পেনসিলভেনিয়ার পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী ভন কুপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ব্লুস্কাই’-এ এক পোস্টে বলেন, ‘পিসিএএসটিতে একজনও জীববিজ্ঞানী নেই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মাত্র একজন। এটি জৈবপ্রযুক্তির যুগে দেশকে অবিশ্বাস্যভাবে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলবে, যে প্রতিযোগিতায় আমরা ইতিমধ্যে পিছিয়ে পড়তে শুরু করেছি।’

অবশ্য এই ভারসাম্য পরিবর্তনের সুযোগ এখনো রয়েছে। রাইস ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান নীতি বিশেষজ্ঞ কেনি ইভান্স জানান, ২০২৫ সালে ট্রাম্পের জারি করা এক নির্বাহী আদেশের অধীনে তিনি এই কমিটিতে আরও ১১ জন সদস্য নিয়োগ দিতে পারবেন। এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিষদের কাজ

পিসিএএসটি মূলত পুষ্টি বিজ্ঞানের উন্নতি এবং বৈজ্ঞানিক জনবল বৃদ্ধির মতো বিষয়ে হোয়াইট হাউসকে নীতিগত পরামর্শ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া নেটওয়ার্কিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা ও উন্নয়ন উদ্যোগের মতো চলমান কর্মসূচিগুলোও পর্যালোচনা করে এটি। এই পরিষদের অধিকাংশ কাজ উপকমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে (২০১৭-২০২১) এই পরিষদে ১৩ জন সদস্যের মধ্যে ৭ জন ছিলেন একাডেমিক বিজ্ঞানী এবং ৬ জন শিল্প খাতের প্রতিনিধি। অন্যদিকে বাইডেনের আমলে (২০২১-২০২৪) ২৮ জন সদস্যের মধ্যে ১৯ জনই ছিলেন একাডেমিক গবেষক। ২০০১ সালের পর থেকে ট্রাম্পের গঠন করা পরিষদ বাদে প্রতিটি পিসিএএসটিতে অন্তত ১০ জন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের গবেষক ছিলেন।

কেনি ইভান্সের মতে, ট্রাম্পের এই নতুন পিসিএএসটি সদস্যদের পরিচয় কোনো বিস্ময় নয়। তিনি বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেই পিসিএএসটির সদস্য নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত অগ্রাধিকারের প্রতিফলন ঘটে। ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে যেমনটা আশা করা হয়েছিল এটি তেমনই, কয়েকজন বিলিয়নিয়ার এবং প্রযুক্তি নির্বাহী, যাঁদের দক্ষতা কেবল এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), কোয়ান্টাম এবং পারমাণবিক ফিউশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।’

ট্রাম্প প্রশাসনের গবেষণা ও উন্নয়ন অগ্রাধিকার তালিকার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কোয়ান্টাম ইনফরমেশন। ২০৫০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিক পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার চার গুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। গত ডিসেম্বরে পারমাণবিক ফিউশন কোম্পানি টিএই টেকনোলজিস এবং ট্রাম্পের সহ-মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একীভূতকরণের ঘোষণাও এসেছে।

এই কমিটির সহ-সভাপতিত্ব করবেন ট্রাম্পের এআই বিষয়ক বিশেষ দূত ও ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ডেভিড স্যাকস এবং হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নীতি দপ্তরের পরিচালক মাইকেল ক্রাতসিওস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ক্রাতসিওস বলেন, ‘পিসিএএসটি আমেরিকার মেধাবীদের একত্রিত করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দেবে এবং উদ্ভাবনের এই স্বর্ণযুগে আমেরিকার নেতৃত্ব বজায় রাখতে কাজ করবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ইরানের প্রেসিডেন্টের পুত্র ইউসেফ পেজেশকিয়ানের ডায়েরিতে উঠে এল যুদ্ধের চিত্র

আমির হামজার বিস্ফোরক মন্তব্য: ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী টুকু নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে শিশুসহ নিহত ৫

দুই চীনা জাহাজ আটকে দিল ইরান

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত পাঁচজনই পোশাকশ্রমিক, বাড়ি গাইবান্ধা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত