
পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে নাসার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁটের কারণে নাসা গভীর সংকটে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়েও চলছে জোর বিতর্ক। ঠিক এমন সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে দিলেন বিশ্বের বৃহৎ মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার দায়িত্ব।
শন ডাফি বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবহনমন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু নাসার প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ায় ডাফিকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, তাঁর মহাকাশ-সংক্রান্ত কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই। ডাফি একসময় টিভি অভিনেতা হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৯৭ সালে এমটিভিতে প্রচারিত রিয়েলিটি শো ‘দ্য রিয়েল ওয়ার্ল্ড’-এ ডাফিকে হোটেল রুমে উলঙ্গ ড্যান্স করতে দেখা গিয়েছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাফির নিয়োগ আসে জ্যারেড আইজাকম্যানের মনোনয়ন প্রত্যাহারের ছয় সপ্তাহ পর। স্পেসএক্সের সঙ্গে বহু মহাকাশ মিশনে অংশ নেওয়া এই বিলিয়নিয়ারকে আগে নাসার স্থায়ী প্রশাসক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্প পরে সেই মনোনয়ন বাতিল করেন। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আইজাকম্যান একজন ডেমোক্র্যাট, যিনি কখনো কোনো রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য অনুদান দেননি। তিনি কখনোই নাসার প্রধান হতে পারেন না।’
বুধবার সন্ধ্যায় ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি ডাফির প্রশংসা করে বলেন, ‘ডাফি একজন অসাধারণ নেতা। অল্প সময়ের জন্য হলেও তিনি আমাদের মহাকাশ সংস্থার নেতৃত্ব দেবেন।’ অন্যদিকে, ডাফি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর এক্সে লিখেছেন, ‘এই দায়িত্ব পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। এখন সময় মহাকাশ দখলে নেওয়ার। চলুন, উৎক্ষেপণ শুরু করি!’
নাসার অভ্যন্তরে চলছে গভীর মানবসম্পদ সংকট। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁট অনুযায়ী, নাসার মহাকাশ বিজ্ঞান বাজেট ৭ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নাসার মোট বাজেট কমে দাঁড়াবে ২৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন থেকে ১৮ দশমিক ৮ বিলিয়নে।
এই প্রস্তাবের পর থেকেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৯০০ কর্মী পদত্যাগ করেছেন এবং জুলাইয়ের মধ্যে আরও ১ হাজার ৫০০ কর্মী স্বেচ্ছা পদত্যাগের জন্য সাইন-আপ করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। এসব বিষয় নিয়ে নাসার সদর দপ্তরের বাইরে প্রতিবাদ মিছিলও হয়েছে, সেখানে কর্মীরা ‘নাসা বাঁচাও’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়েছিলেন।
সাবেক নভোচারী ও অ্যারিজোনার সিনেটর মার্ক কেলি বলেন, ‘এই গণপদত্যাগ যদি স্নায়ুযুদ্ধের সময় হতো, তাহলে আমরা সোভিয়েতদের কাছে মহাকাশ দৌড়ে হেরে যেতাম। এখন আমরা আবার চীনের কাছে সেই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে আছি।’ নাসার সাত সাবেক বিজ্ঞানপ্রধানও কংগ্রেসে একটি চিঠি লিখে বলেন, ‘যদি প্রশাসন সত্যিই মহাকাশে চীনের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা প্রতিহত করতে চায়, তবে মহাকাশবিজ্ঞান খাতে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে হবে, তা একতরফাভাবে ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডাফির নিয়োগ মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি পদক্ষেপ। এতে মঙ্গল গ্রহে ২০০১ সাল থেকে কাজ করা মার্স ওডেসি মিশনসহ বহু বৈজ্ঞানিক মিশন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের মে মাসের বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়, ‘নাসার বিজ্ঞান মিশনগুলো পৃথিবী, সৌরজগৎ ও মহাবিশ্ব সম্পর্কে মানবতার জ্ঞান বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু বছরে সাত বিলিয়ন ডলার খরচ করে ১০০টির বেশি মিশন চালানো এখন আর সম্ভব নয়।’
ডাফি এখন পরিবহন ও নাসা—এই দুই বিভাগের দায়িত্বে আছেন। এই দুই বিভাগের সম্মিলিত বাজেট ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ট্রাম্প প্রশাসনে আগে থেকে এক ব্যক্তি এক বা তার অধিক দায়িত্ব পালন করছেন। যেমন মার্কো রুবিও একাই পররাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বে আছেন। ডাফিকে এই দায়িত্ব দেওয়াও ট্রাম্পের ‘একাধিক দায়িত্বে একজন’ নীতিরই ধারাবাহিকতা।

ইরানে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিশ্বের প্রধান ৮০টি থিংকট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ গত এক মাসে প্রকাশিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ...
২ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি সচল করতে সামরিক অভিযানের বৈধতা চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে আমিরাত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনের জন্যও তারা লবিং করছে বলে জানা গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরানে স্থল অভিযান চালালে মার্কিন সেনারা শুধু ছদ্মবেশী জঙ্গি বা লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদেরই মুখোমুখি হবে না; তাদের সামনে দাঁড়াবে একটি সুসংগঠিত ও বিপুলসংখ্যক যোদ্ধার বাহিনী, যারা মাতৃভূমি রক্ষাকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে দেখে। গত চার দশকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রতিরক্ষার এই কাঠামো গড়ে তুলেছে তেহরান।
৪ ঘণ্টা আগে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রেক্ষাপটে ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো সামরিক জোট গঠিত হয়। এই জোটের উদ্দেশ্য ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা। স্নায়ুযুদ্ধের পুরোটা সময় ন্যাটো জোট কাজ করেছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণবাদ ও প্রভাব মোকাবিলায়।
৫ ঘণ্টা আগে