Ajker Patrika

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা বদলায়নি: সি চিন পিং

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৫৭
চীন-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা বদলায়নি: সি চিন পিং
ওভাল অফিসে সি চিন পিং ও ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার বিকেলে বিশেষ বিমানে করে তিনি ওয়াশিংটনে পৌঁছান। সি চিন পিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লি ইউয়ান ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় মার্কিন শিশুরা সি চিন পিং ও পেং লি ইউয়ানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। দুই পাশে লাল গালিচার পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাঁদের গার্ড অব অনারও দেওয়া হয়। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে সামরিক ব্যান্ড। এ সময় ২১ বার তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং যুদ্ধবিমান উড়িয়ে অভিবাদন জানানো হয়।

অভ্যর্থনা জানানোর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও পেং লি ইউয়ানকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা একটি সফর। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং একজন মহান নেতা এবং এটি একটি অসাধারণ মুহূর্ত। তিনি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে মতবিনিময় এবং দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর সি চিন পিং এক লিখিত বক্তব্যে চীনা জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান।

সি চিন পিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই মহান দেশ এবং দুই দেশের জনগণই অসাধারণ। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে এবং দুই দেশের স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত। দুই দেশের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। চীনা জাতির পুনরুদ্ধার এবং আমেরিকাকে আবার মহান করা—এই দুই লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। এগুলো পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে, একে অপরকে এগিয়ে নিতে পারে এবং বিশ্বকে উপকৃত করতে পারে।

চীনা প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চলতি বছরের মে মাসে চীন সফর করার সময় আমরা চীন-যুক্তরাষ্ট্রের গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছিলাম, যা ভবিষ্যতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া এবং এমন একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা, যেখানে সহযোগিতা হবে প্রধান ভিত্তি, প্রতিযোগিতা থাকবে সংযত, মতপার্থক্য থাকবে নিয়ন্ত্রিত এবং শান্তির সম্ভাবনা থাকবে সুস্পষ্ট। এভাবেই নতুন যুগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই বৃহৎ দেশের সহাবস্থানের পথ তৈরি করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করে সি চিন পিং বলেন, বিশ্ব এগিয়ে চলছে, সময়ও পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহাসিক সম্পর্ক বদলায়নি। দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের আকাঙ্ক্ষা বদলায়নি। দুই দেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশাও বদলায়নি।

সি চিন পিং আরও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহলের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং বন্ধুত্ব গভীর করতে আগ্রহী। দুই পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় এই সফর অবশ্যই ফলপ্রসূ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তথ্যসূত্র: সিএমজি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত