Ajker Patrika

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে এক দিনে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করল ৭৮১ অভিবাসী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ৩২
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে এক দিনে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করল ৭৮১ অভিবাসী
স্থানীয় সময় বুধবার ১০টি ছোট নৌকায় করে মোট ৭৮১ জন অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করে। ছবি: পিএ মিডিয়া

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে অনুপ্রবেশকারী অভিবাসীর সংখ্যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ব্রিটিশ হোম অফিসের (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বুধবার ১০টি ছোট নৌকায় করে মোট ৭৮১ জন অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করেছেন।

এটি ২০২৬ সালের মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর একদিনে ৮০৩ জন অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। ওই বছর ১ হাজার ৩০৫ জন অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেন।

হোম অফিস জানিয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ৫৬৫ জন ছোট নৌকায় করে ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। একই সময়ে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১৮৮, অর্থাৎ এ বছর পারাপার প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে।

সরকারের দাবি, ছোট নৌকায় অভিবাসন ঠেকাতে নেওয়া পদক্ষেপে কাজ হয়েছে। তবে মানবপাচারকারীদের এই অবৈধ ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ করতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তারা।

৩৩ ঘণ্টা সাগরে ছিল একটি নৌকা

বুধবার আসা নৌকাগুলোর মধ্যে একটি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। নরম্যান্ডি থেকে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকালে যাত্রা করা ওই ডিঙি নৌকায় ৫১ জন অভিবাসী ছিলেন। সাধারণত ছোট নৌকাগুলো ফ্রান্সের উত্তর উপকূল থেকে যাত্রা করলেও এটি অনেক পশ্চিম দিকের নরম্যান্ডি থেকে রওনা দেয় এবং টানা ৩৩ ঘণ্টার বেশি সময় সমুদ্রে কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়।

এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার মাত্র তিনটি নৌকায় করে প্রায় ১৫০ জন অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পার হন। ওই দুই দিনের আগে টানা পাঁচ দিন কোনো অভিবাসী পারাপারের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুলোন-সুর-মের শহরের দক্ষিণে একটি সৈকত থেকে নৌকায় ওঠার সময় এক ব্যক্তি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইংলিশ চ্যানেল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত ও বিপজ্জনক নৌপথগুলোর একটি। তুলনামূলক শান্ত সমুদ্র ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছোট নৌকায় পারাপারের ঘটনা সাধারণত বেশি দেখা যায়।

লেবার পার্টির ডেপুটি লিডার লুসি পাওয়েল বিবিসি রেডিও কেন্টকে, ‘সরকার ছোট নৌকায় অভিবাসীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সক্ষম হয়েছে। যদি এমন কোনো সুইচ থাকত, যেটি চাপলেই আগামীকাল থেকে এসব বন্ধ হয়ে যেত, আমরা অবশ্যই তা করতাম।’

এদিকে ছোট নৌকায় অভিবাসন ইস্যুতে বিরোধী দলগুলো সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিল্প বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ‘মানবপাচারকারী চক্র ধ্বংস’ করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে ব্যর্থ হয়েছে। অবৈধভাবে আসা সব অভিবাসীকে সঙ্গে সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোই একমাত্র কার্যকর সমাধান।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র ম্যাক্স উইলকিনসন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ও আশ্রয় চুক্তিতে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ না করলে মানবপাচারকারীরা নতুন পথ খুঁজে নেবে এবং মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যেই থাকবে।

অন্যদিকে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ দাবি করেছেন, ক্ষমতায় এলে রয়্যাল নেভি মোতায়েন করে ছোট নৌকার পারাপার বন্ধ করবেন।

এর মধ্যেই ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। পর পর দুই দিনে দুটি অভিবাসী নৌকা সীমান্ত রক্ষীদের নজর এড়িয়ে ফকস্টোনের কাছে উপকূলে সরাসরি নেমে পড়ায় তিনি এ নির্দেশ দেন। সাধারণত বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তা বা উদ্ধারকারী দল অভিবাসীদের উপকূলে নিয়ে আসে, তবে এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে সরাসরি সৈকতে পৌঁছানোর ঘটনাকে ‘একদমই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ২০২৩ সালে হোম অফিস তথ্য সংরক্ষণ শুরু করার পর থেকে এ ধরনের মাত্র চারটি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

শাবানা মাহমুদ বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তায় এ ধরনের ঘটনা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’ এবং কীভাবে এটি ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত