Ajker Patrika

গাজায় ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’, টনি ব্লেয়ারসহ সদস্য হলেন যাঁরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১: ৫১
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ উপত্যকা গাজায় ‘শান্তি’ আনতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেছেন। গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপের অংশ ছিল এই ‘বোর্ড অব পিস’। গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই পর্ষদের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে হোয়াইট হাউস।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার টনি ব্লেয়ার, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রণীত ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তিনি নিজেই।

বোর্ডের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রাইভেট ইক্যুইটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান মার্কিন ধনকুবের মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বোর্ডের আরও সদস্যের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, বোর্ডের প্রত্যেক সদস্যকে গাজার স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য ‘অত্যাবশ্যক’ এমন একটি করে দায়িত্বপূর্ণ পোর্টফোলিও দেওয়া হবে।

এই বোর্ড সাময়িকভাবে গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকি করবে এবং অঞ্চলটির পুনর্গঠন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প জানান, বোর্ডটি গঠন করা হয়েছে। ‘যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে গঠিত সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বোর্ড’ হিসেবে এটিকে অভিহিত করেন তিনি।

স্যার টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত করেন। ক্ষমতা ছাড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও জাতিসংঘ নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক শক্তিগোষ্ঠী ‘কোয়ার্টেট’-এর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এর আগে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে একটি পৃথক ১৫ সদস্যের ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। কমিটির নাম ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ (এনসিএজি)।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, গাজায় একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) মোতায়েন করা হবে, যার লক্ষ্য যাচাই-বাছাই করা ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স, যিনি ‘নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, শান্তি বজায় রাখা এবং দীর্ঘস্থায়ী সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার’ কাজ করবেন।

হোয়াইট হাউস আরও জানায়, একটি পৃথক ‘গাজা নির্বাহী বোর্ড’ গঠনের প্রক্রিয়াও চলছে, যা শাসনব্যবস্থাকে সহায়তা করবে। এই বোর্ডে প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী বোর্ডের কয়েকজন সদস্যের পাশাপাশি আরও নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য থাকবেন।

তবে যুদ্ধবিরতি এখনো নাজুক অবস্থায় রয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে।

গাজার হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর হামলায় তাঁদের তিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে দক্ষিণ ইসরায়েলে চালানো হামলার মধ্য দিয়ে গাজায় যুদ্ধের সূচনা হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং আরও ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৭১ হাজার ২৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে অঞ্চলটির হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ঋণের জামিনদার হওয়াই কাল, মা-মেয়েকে হত্যার পর লাশের সঙ্গেই ঘুমাতেন দুই বোন

ভোলায় তরুণকে আটকে রেখে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

বাসে ডাকাতি, ধর্ষণ: ঢাকা-টাঙ্গাইল যেন আতঙ্কের মহাসড়ক

ইসলামী আন্দোলন জোট ছাড়বে, প্রত্যাশা করিনি: আসিফ মাহমুদ

চট্টগ্রাম রেলওয়ে: ল্যান্ডক্রুজারে অফিসে যান দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মচারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত