Ajker Patrika

ইরানের অবমুক্ত করা অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনাতে চান ট্রাম্প, তেহরানের প্রত্যাখ্যান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ১০: ১৭
ইরানের অবমুক্ত করা অর্থ দিয়ে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনাতে চান ট্রাম্প, তেহরানের প্রত্যাখ্যান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত করা (unfrozen) ইরানি সম্পদের একটি অংশ মার্কিন কৃষকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য কেনার কাজে ব্যবহার করা হবে। তবে ওয়াশিংটনের এই দাবিকে তাৎক্ষণিকভাবে এবং তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

স্থানীয় সময় গত বুধবার রাতে মার্কিন কৃষকদের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের (ইরানের) কিছু টাকা নিতে যাচ্ছি।’ অবমুক্ত করা ইরানি সম্পদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা সেই অর্থ খরচ করব এবং বিপুল পরিমাণে গম, সয়াবিন ও ভুট্টা কিনব। শিগগিরই এই প্রক্রিয়াটি শুরু হতে যাচ্ছে এবং এটি বেশ বড়সড় একটা উদ্যোগ হবে।’

ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, এই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইরানের অবরুদ্ধ মুক্ত অর্থ দিয়ে প্রথমে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা হবে এবং পরবর্তী সময় সেই পণ্যগুলো ইরানকে সরবরাহ করা হবে।

তবে মার্কিন প্রশাসনের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইরানি আলোচনাকারী দলের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে লেখেন, ‘আমেরিকা মিথ্যা দাবি করছে যে আমাদের অবরুদ্ধ মুক্ত সম্পদ দিয়ে তাদের কৃষিপণ্য কেনা হবে। বেশ মজার বিষয়। আমরা এখন কেবল সেই ফসলই ঘরে তুলছি, যা আপনারা বপন করেছিলেন; আর তা হলো কয়েক দশকের গভীর অবিশ্বাস।’

এদিকে, ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই বাগাড়ম্বরের পেছনে রয়েছে গভীর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সমীকরণ। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ডগ ব্যান্ডো এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ট্রাম্প মূলত বিশ্ববাজারে তেলের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে চান।

ব্যান্ডো বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই অঞ্চলে আর কোনো দীর্ঘস্থায়ী সহিংসতা চান না। তিনি জানেন যে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোও যেকোনো মূল্যে স্থিতিশীলতা ফিরে পেতে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে এবং জ্বালানি উৎপাদন স্বাভাবিক করতে মরিয়া হয়ে আছে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতির কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের বড় চাপ রয়েছে। আর এই চাপের ফলেই লেবাননে চালানো সামরিক হামলার লাগাম টানতে ট্রাম্প প্রশাসন এখন ইসরায়েলের ওপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টি করছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকে (MoU) লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ সম্পূর্ণ অবসানের স্পষ্ট শর্ত রয়েছে। তবে এই কূটনৈতিক চুক্তির পরও লেবাননের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসরায়েলের প্রাণঘাতী ও মারাত্মক সামরিক হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে এক জটিল সমীকরণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত