Ajker Patrika

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন পুলিশের হাতে আটক ৫ বছরের শিশু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন পুলিশের হাতে আটক ৫ বছরের শিশু
স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাঁচ বছর বয়সী লিয়ামকে আটক করে অভিবাসন পুলিশ। ছবি: এপির সৌজন্যে

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে তার বাবাসহ আটক করেছে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন পুলিশ। গত মঙ্গলবার কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুলের লিয়াম কোনেজো রামোস নামের ওই শিশুকে তার বাড়ির সামনে থেকে আটক করা হয়।

স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিশুটিকে অভিবাসন পুলিশ বাধ্য করেছে তার ঘরের দরজায় টোকা দিয়ে ভেতরে থাকা অন্যদের ডেকে আনতে, যা অনেকটা মাছ ধরার টোপের মতো।

কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, অভিবাসন পুলিশ লিয়ামকে চলন্ত গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে তার বাড়ির দরজায় টোকা দিতে বলে। লক্ষ্য ছিল ঘরের ভেতরে থাকা অন্য ব্যক্তিদের বাইরে আনা। স্টেনভিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা একটি পাঁচ বছরের শিশুকে মূলত টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছে। এটি অত্যন্ত অমানবিক।

লিয়ামের মা ঘরের ভেতরে থাকলেও তার বাবা ইশারা করায় তিনি দরজা খোলেননি। স্কুল কর্মকর্তাদের দাবি, সেখানে উপস্থিত অন্য প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও স্কুলের প্রতিনিধিরা লিয়ামকে তাঁদের জিম্মায় রাখার জন্য বারবার অনুরোধ করলেও অভিবাসন পুলিশ তা শোনেনি।

তবে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) মুখপাত্র ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুটির বাবা নিজেই চেয়েছিলেন ছেলে তাঁর সঙ্গেই থাকুক। বর্তমানে বাবা ও ছেলে টেক্সাসের ডিলি শহরের একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্রে একসঙ্গে আছে।

ম্যাকলাফলিন বলেন, শিশুটির বাবা আন্দ্রিয়ান আলেক্সান্ডার কোনেজো আরিয়াস ইকুয়েডরের নাগরিক এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের সময় তিনি শিশুটিকে ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। আইসিই কোনো শিশুকে ধরার জন্য এই অভিযান চালায়নি।

আইসিইর বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুর নিরাপত্তার জন্য একজন কর্মকর্তা তার পাশে ছিলেন, অন্যরা তার বাবাকে আটক করেন।

কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল বোর্ডের চেয়ার মেরি গ্রানলান্ড বলেন, তিনি নিজে কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছিলেন শিশুটিকে তাঁর কাছে রেখে যেতে। কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পরিবারটি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসে এবং তাদের আশ্রয় প্রার্থনার আবেদন এখনো বিচারাধীন। তাদের দেশ ছাড়ার কোনো নির্দেশও দেওয়া হয়নি।

কলাম্বিয়া হাইটস সিটি কাউন্সিলের সদস্য র‍্যাচেল জেমস বলেন, প্রতিবেশীরাও আইনগত কাগজপত্র দেখিয়ে শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কর্মকর্তারা তা আমলে নেননি।

পরিবারটির আইনজীবী মার্ক প্রোকশ জানান, তিনি ধারণা করছেন, বাবা ও ছেলে পারিবারিক হোল্ডিং সেলে আছে, তবে এখনো তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স গতকাল মিনিয়াপোলিসের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে শুনেছেন। পরে তিনি জানান, শিশুটিকে গ্রেপ্তার নয়, কেবল আটক করা হয়েছে।

ডিলি আটক কেন্দ্র নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিলড্রেনস রাইটস সংস্থার প্রধান আইন উপদেষ্টা লিসিয়া ওয়েলচ। তিনি জানান, সেখানে শিশুদের মধ্যে অপুষ্টি, গুরুতর অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি আটকের ঘটনা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘অনেক শিশুকে ১০০ দিনের বেশি সময় ধরে আটক রাখা হয়েছে। আমরা যাদের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রায় সবাই অসুস্থ।’

কলাম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুলে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। অধিকাংশই অভিবাসী পরিবারের সন্তান। লিয়ামের আগে স্কুলে যাওয়ার পথে ১৭ ও ১০ বছর বয়সী আরও দুই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছিল। এসব ঘটনার পর গত দুই সপ্তাহে স্কুলে উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

স্কুলটির সুপারিনটেনডেন্ট জেনা স্টেনভিক বলেন, ‘আইসিই কর্মকর্তারা আমাদের পাড়ায় ঘুরছে, স্কুলের চারপাশে ঘোরাঘুরি করছে, বাস অনুসরণ করছে, পার্কিং লটে ঢুকছে এবং আমাদের শিশুদের নিয়ে যাচ্ছে। এটি ভয়ংকর মানসিক আঘাত তৈরি করেছে।’

লিয়ামের শিক্ষক এলা সালিভান বলেন, ‘সে খুবই ভদ্র শিশু। তার সহপাঠীরা তাকে মিস করছে। আমরা শুধু চাই, সে নিরাপদে ফিরে আসুক।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ফিরে এসেছে শৈত্যপ্রবাহ, কোথায় কত দিন চলবে

কারাগারেই প্রেম দুই ভয়ংকর খুনির, বিয়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দিল আদালত

জঙ্গল সলিমপুর: ‘জনবিস্ফোরণ’-এর হুঁশিয়ারি র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যা মামলার প্রধান আসামির

বিশ্বকাপ না খেললে কত কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে বাংলাদেশ

‘পাকিস্তানের উসকানিতেই বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের’

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত