Ajker Patrika

ইরানের বিরুদ্ধে ‘ডি–ডে’ ঘোষণা ট্রাম্পের, ‘নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানের বিরুদ্ধে ‘ডি–ডে’ ঘোষণা ট্রাম্পের, ‘নজিরবিহীন অর্থনৈতিক যুদ্ধের’ হুমকি
অস্ত্রের পরিবর্তে এখন ইরানকে অর্থের বলে শায়েস্তা করতে চাইছেন ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানকে সহায়তা করলে বা দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করলে তাদের ‘ভয়াবহ’ অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ছয় মাসের কাছাকাছি সময়ে পৌঁছানোর মধ্যেই ট্রাম্প এই অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা দিলেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ বলে বর্ণনা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি কয়েকটি কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এগুলো অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আমার চেয়ে বড় সুযোগ আর কেউ দেয়নি। দুঃখজনকভাবে, তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আজ আমি ঘোষণা করছি, কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান! এটি নজিরবিহীন মাত্রার অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং বিচ্ছিন্নতা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমি এটিও ঘোষণা করছি, যে কোনো দেশ যদি তার আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর কিংবা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে ইরানকে যেকোনো ধরনের সহায়তা বা বাঁচার পথ দেয়, তাহলে সেই দেশ নিজেই ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়বে। তেল চোরাচালান, অর্থ বিনিময় ব্যবস্থা (সোয়াপ লাইন), নগদ অর্থ স্থানান্তর, মানি এক্সচেঞ্জ হাউস, জাহাজ নিবন্ধন, ভুয়া বা আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত কোম্পানি—সবকিছু এখনই বন্ধ করতে হবে।’

তবে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত দেশগুলোর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে বলেননি। তিনি কোনো দেশের নামও উল্লেখ করেননি। শুধু বলেছেন, ‘তারা জানে তারা কারা।’ যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে ছিল চীন, ভারত, তুরস্ক, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি হবে একটি অর্থনৈতিক ডি-ডে। আমাদের সব মিত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং ইরানের হুমকিকে পরাজিত করতে হবে। এই উন্মাদরা এখন চাপে রয়েছে, এবং এসব ঐতিহাসিক পদক্ষেপ তাদের এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাস চালানোর সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেবে। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না।’

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় কয়েক মাস ধরে ‘অপারেশন ইকোনমিক ফিউরি’ নামে একটি অভিযান চালিয়ে আসছে। এর লক্ষ্য হলো লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তেহরানের অর্থের জোগান বন্ধ করে দেওয়া।

মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন দেশটির তৎকালীন ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। জবাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা বিভিন্ন সামরিক ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালায়।

এর আগে মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। সোমবার সাময়িক ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি এ কথা জানান। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা কথাবার্তা চলছে না, কিংবা কোনো আলোচনা নির্ধারিতও নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। হরমুজ প্রণালি খোলা এবং চালু রয়েছে। পানির নিচে থাকা সব মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে অথবা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের এক দিন আগে তাঁর জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চলছে এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এসব আলোচনা ‘সম্ভবত আরও জোরালো’ পর্যায়ে রয়েছে।

এরপর, গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটি বৃহত্তর চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ‘সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার’ কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু চুক্তিটি দ্রুত ভেঙে পড়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের কারণে।

হরমুজ প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরু জলপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে এই জলপথ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধ যুদ্ধের সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির ওপরও বড় চাপ তৈরি করেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত