Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধে ৮০% মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, পূরণে লাগবে কয়েক বছর

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরান যুদ্ধে ৮০% মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, পূরণে লাগবে কয়েক বছর
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের ধ্বংসাবশেষ। ছবি: আনাদোলু

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাদের গুরুত্বপূর্ণ মিসাইল ইন্টারসেপ্টর বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুতের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে। গতকাল মঙ্গলবার সিএনএন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন সূত্র এবং সম্প্রতি করা অস্ত্রের মজুতের হিসাবের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা ব্যক্তিগতভাবে পেন্টাগনের সামগ্রিক অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুতকে ‘বিপজ্জনকভাবে কম’ বলে বর্ণনা করেছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আগে প্রকাশ্যে না আসা টার্মিনাল হাই অল্টিট্যুড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি। এতে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাব বলছে, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সবচেয়ে আধুনিক সংস্করণের প্রায় ২ হাজার ২০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৫২টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল উপসাগরীয় দেশগুলো সতর্ক করে জানিয়েছে, এই অস্ত্রের ঘাটতির কারণে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকানোর সক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে ইরানে আরও হামলা চালালে তার পাল্টা জবাবে এসব দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত সপ্তাহান্তে ইরানে আরও হামলার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিল। এর আগে উপসাগরীয় মিত্ররা ট্রাম্পকে জানিয়েছিল, নতুন করে ইরানে হামলা হলে তারা নিজেদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে।

তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্ট যে সময় ও যে জায়গা বেছে নেবেন, সেখানে অভিযান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই তাদের কাছে রয়েছে।’ হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলিও সিএনএনকে বলেছেন, ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘পর্যাপ্তের চেয়েও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও মজুত’ রয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের (পিআরএসম) মজুতও ব্যাপকভাবে কমে গেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক মজুত ব্যবহার করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, টমাহক ব্যবহারের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ এরপর ব্যবহারের হার আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত দ্রুত পূরণ করাও সম্ভব হচ্ছে না। পেন্টাগন প্রতি মাসে প্রায় ১৫টি নতুন টমাহক এবং ২০টি নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পাচ্ছে। অন্যদিকে, বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র শুধু বিপুল পরিমাণ আক্রমণাত্মক ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করেনি, নিজের প্রতিরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুতও দ্রুত কমিয়ে ফেলেছে। এখন সেই মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত