Ajker Patrika

আফগানিস্তান থেকে লোক সরিয়ে নেওয়ার দিকেই মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তান থেকে লোক সরিয়ে নেওয়ার দিকেই মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের

আফগানিস্তান ত্যাগ করতে চাওয়া লোকেদের সরিয়ে নেওয়ার দিকেই এখন মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের। সিঙ্গাপুর সফরে থাকা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস আজ সোমবার এ কথা বলেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুর সফরে আসা কমলা হ্যারিস আজ সোমবার দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং ও প্রেসিডেন্ট হালিমা ইয়াকুবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তাঁরা উভয় দেশের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

পরে কমলা হ্যারিস সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রসঙ্গে কমলা হ্যারিস বলেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপট বা সেখানে কী ঘটছে, সেসব বিশ্লেষণের জন্য অনেক সময় পড়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্ত দেশটি থেকে মার্কিন নাগরিক ও আমাদের সঙ্গে কাজ করা ও ঝুঁকিতে থাকা আফগানদের সরিয়ে নেওয়ার দিকেই মনোযোগী। বিশেষত নারী ও শিশুদের সরিয়ে নেওয়ার দিকেই আমরা মনোযোগ দিতে চাই।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের জন্য দেশে ও দেশের বাইরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিস্তর সমালোচনা হচ্ছে। মার্কিন সেনা সরে যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই অতি দ্রুততার সঙ্গে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। ফলে যাবতীয় সমালোচনার তির যেতে থাকে বাইডেনকে লক্ষ্য করে। বাইডেন যদিও বলছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত ঠিক আছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, আফগানরা যদি নিজেদের সুরক্ষা নিজেরা করতে না চায়, তবে তাদের জন্য যুদ্ধ করে মার্কিন সেনাদের এভাবে মারা যাওয়া একেবারেই অনুচিত। 

আফগানিস্তান ত্যাগ করতে চাওয়া লোকেদের দেশটি থেকে সরিয়ে নিতে সহায়তা করছে সিঙ্গাপুরও। প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লং বলেন, ‘আমরা আশা করি, আফগানিস্তান আবারও সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রে পরিণত হবে না।

আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের মার্কিন সিদ্ধান্তের কারণে এই অঞ্চলের মার্কিন মিত্রদের মধ্যে এক ধরনের সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক মিত্রদের আশ্বস্ত করতেই কমলা হ্যারিসের এই সফর। সিঙ্গাপুর সফরে তিনি আফগানিস্তান ইস্যুর সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের কোনো সংশ্লেষ নেই বলে জানিয়েছেন। ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের নেতৃবৃন্দকে তিনি ওয়াশিংটনের হয়ে আশ্বস্ত করেন এই বলে যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতি মার্কিন প্রতিশ্রুতি আফগানিস্তানের মতো নয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আজ আমরা সিঙ্গাপুরে বসেছি এই দেশ ও গোটা অঞ্চলের সঙ্গে আমাদের দৃঢ় সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করতে। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কোনো চুক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। সিঙ্গাপুর হচ্ছে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিশ্বস্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্য অংশীদার। যদিও সিঙ্গাপুর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গেও পৃথকভাবে সম্পর্ক গড়তে চায়। এই চাওয়াও কমলা হ্যারিসের সফরের নেপথ্যে রয়েছে। সফরে কমলা হ্যারিস দক্ষিণ চীন সাগরসহ পুরো অঞ্চল সবার জন্য মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই প্রতিশ্রুতি প্রকারান্তরে চীনের জন্য সতর্কবার্তা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা কাল, বেতন বাড়ছে কত

মিরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত কয়েকজন

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ভবিষ্য তহবিলের মুনাফার হার নির্ধারণ

আমরা ‘না’ ভোট দেব দেশের স্বার্থে, আইনের শাসনের স্বার্থে: জি এম কাদের

বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি নেতাদের নিয়ে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে প্রধান উপদেষ্টা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত