Ajker Patrika

ফের সাইবার হামলা, ৪১ হাজারের বেশি মার্কিন কাস্টমস-অভিবাসন কর্মকর্তার তথ্য ফাঁস

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ফের সাইবার হামলা, ৪১ হাজারের বেশি মার্কিন কাস্টমস-অভিবাসন কর্মকর্তার তথ্য ফাঁস
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকারি কোনো সংস্থা তথ্য ফাঁস বা সাইবার হামলার শিকার হওয়ার এটি তৃতীয় ঘটনা। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ডিএইচএস) ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য জনসমক্ষে ফাঁস হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কাজে নিয়োজিত কয়েক হাজার কর্মকর্তা রয়েছেন। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে কর্মীদের নাম, কর্মস্থলের ঠিকানা, ফোন নম্বর এবং বিভিন্ন সংস্থায় তাঁদের দায়িত্বের বিবরণ।

বুধবার এ তথ্য ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকারি কোনো সংস্থা তথ্য ফাঁস বা সাইবার হামলার শিকার হওয়ার এটি তৃতীয় ঘটনা।

কর্মীদের তথ্য ফাঁসের এই ঘটনা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনাটিকে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে। ডিএইচএসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সংস্থাটি সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের বিষয়ে অবগত এবং দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকিকে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করি। তাঁদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করব।’

এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামের একটি গোষ্ঠী ডিএইচএসের তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করে এসব তথ্য সংগ্রহ করে। পরে সাংবাদিক ও সাইবার নিরাপত্তা গবেষক মাইয়া ক্রাইমিউ এবং ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ (ডিডিওসিক্রেটস) নামের একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়। ‘আইসপিক’ নামে একটি ডেটাবেইসে এসব তথ্য রাখা হয়েছে।

ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ২১ হাজারের বেশি কাজ করেন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) সংস্থায়। প্রায় ৬ হাজার ৬০০ কর্মকর্তা কাজ করেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টে (আইসিই)। এ ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস এবং সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সিতে কর্মরত কর্মকর্তাদের তথ্যও রয়েছে।

ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে আগে প্রকাশ্যে আসেনি এমন কয়েক ডজন অভিযানের নাম, এসব অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া ও অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের পরিচয় এবং তাঁদের কাজে ব্যবহৃত প্রযুক্তির বিবরণও রয়েছে। এসব প্রযুক্তির মধ্যে সেলব্রাইট ও পালান্টিরের সরবরাহ করা প্রযুক্তিও রয়েছে।

তথ্য প্রকাশকারী গোষ্ঠীগুলো অনলাইনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ডিএইচএসের প্রত্যেক কর্মকর্তার তথ্য নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করা তাদের উদ্দেশ্য ছিল না। ডিডিওসিক্রেটসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্টের ভাষায়, এর লক্ষ্য ছিল ‘নাম-পরিচয় গোপন রাখার সুযোগের বদলে জবাবদিহি নিশ্চিত করা’।

বেস্ট আরও বলেন, ‘তথ্য ফাঁসের ঘটনাটি অসাধারণ হলেও এর সরলতা বিভ্রান্তিকর। কারণ, এতে গোপন ও ছদ্মবেশী অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, তথ্য ফাঁসকারীদের খুঁজে বের করতে সরকারের পরিচালিত অভিযান এবং ব্যর্থ ব্লুলিকস তদন্তের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় উঠে এসেছে। পাশাপাশি ডিএইচএসের ক্রমবর্ধমান প্রত্যর্পণ ও বহিষ্কার কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের তথ্যও এতে রয়েছে।’

২০২০ সালে মার্কিন পুলিশ বিভাগের বিপুল পরিমাণ তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ‘ব্লুলিকস’ বলা হয়। সে সময় ফাঁস হওয়া তথ্যও নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছিল ডিডিওসিক্রেটস।

ডিপার্টমেন্ট অব পিসের এক মুখপাত্র ডিএইচএসের তথ্যভান্ডারে হ্যাকিংয়ের পেছনে আইসিই কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি দায়ী করেছেন। বুধবার ওই মুখপাত্র লিখেছেন, ১৭ জুলাই মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন বলেছিলেন, তিনি আরও চাপ বাড়াচ্ছেন। এমনটা করলে আইসিইর ক্ষেত্রে এটাই ঘটে।’

ডিপার্টমেন্ট অব পিস জানিয়েছে, তারা ‘ওকটা’ নামের একটি সিঙ্গেল সাইন-অন সেবার মাধ্যমে ডিএইচএসের কর্মকর্তাদের প্রোফাইলে প্রবেশ করেছিল। ওকটা একটি বহুল ব্যবহৃত অনলাইন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিরা প্রবেশ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের সেবা ব্যবহার করে।

ওকটার এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি এ-সংক্রান্ত দাবিগুলো সম্পর্কে অবগত। তবে তিনি বলেন, ‘ওকটা নিরাপদ এবং আমাদের তথ্য বা ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশের কোনো প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।’

গত মাসে ‘শাইনিহান্টার্স’ নামের একটি গোষ্ঠী এফবিআইয়ের ব্যবস্থায় হ্যাক করে। এতে হাজার হাজার কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজনৈতিক প্রচারাভিযানে অনুদানের তথ্য প্রকাশকারী ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের কার্যক্রমও সন্দেহজনক হ্যাকিংয়ের চেষ্টার কারণে বন্ধ হয়ে যায়।

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছেন বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের অভিযান ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। এর ফলে দেশটিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

চলতি বছর অভিবাসনবিরোধী অভিযানগুলোতে বারবার সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব অভিযানে আইসিই কর্মকর্তারা দুই ডজনের বেশি মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছেন এবং অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে মিনেসোটায় এ বছর আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে প্রাণ হারানো অ্যালেক্স প্রেটি ও রেনে গুডের ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। তাঁদের কাউকেই গ্রেপ্তারের লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি, তবু তাঁরা গুলিতে নিহত হন।

আইসিই কর্মকর্তারা প্রায়ই মুখোশ ও রোদচশমা পরে অভিযান পরিচালনা করেন। আইন অনুযায়ী নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অভিবাসন কর্মকর্তারা খুব কম ক্ষেত্রেই তা করেন। এ নিয়ম কার্যকর করতে ডিএইচএসকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিদেরা।

মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ লাখ মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত