Ajker Patrika

ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনই হবে ‘সবচেয়ে ভালো’: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনই হবে ‘সবচেয়ে ভালো’: ট্রাম্প
ইরানের নেতৃত্বে কাকে দেখতে চান সে বিষয়ে সরাসরি কিছু না বলেননি ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনই হবে যা ঘটতে পারে, তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো ঘটনা। এ মন্তব্যের মাধ্যমে ইরানের বিষয়ে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরানে ক্ষমতার পরিবর্তনই হবে ‘সবচেয়ে ভালো ঘটনা’। ইরানের বর্তমান শাসন কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে এটিই ট্রাম্পের এ যাবৎকালের সবচেয়ে স্পষ্ট সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউসে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলেই যাচ্ছে। এদিকে আমরা অনেকগুলো প্রাণ হারিয়েছি।’

ইরানের নেতৃত্বে কাকে দেখতে চান সে বিষয়ে সরাসরি কিছু না বলেননি ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, দায়িত্ব নেওয়ার মতো ‘যোগ্য লোক সেখানে রয়েছে’। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জবাবে এখনো ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

এদিকে, একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প জানান, বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড খুব শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প রণতরীটির একটি আকাশচিত্র শেয়ার করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা অপর মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর সঙ্গে যোগ দিতে চলেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ দমনে হামলার হুমকি দেওয়ার পর পেন্টাগন ওই বিমানবাহী রণতরী পাঠায়। ওই দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ নেতার অধীনে যে শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়, এই গণবিক্ষোভকে তার পর থেকে অন্যতম বড় অভ্যুত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পারমাণবিক চুক্তি না হলে ইরানে হামলার হুমকি দিলেও বুধবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

হামলা এড়াতে ইরানের কী করা উচিত জিজ্ঞেস করা হলে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোর্ট ব্র্যাগ-এ ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের উচিত আমাদের এমন একটি চুক্তি দেওয়া যা তাদের প্রথমবারই দেওয়া উচিত ছিল।’

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সরকার জোর দিয়ে বলেছে, তেহরানকে তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করতে হবে।

অন্যদিকে ইরান এখন পর্যন্ত জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে প্রস্তুত। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, তারা ‘কারও অতিরিক্ত অন্যায্য দাবির কাছে মাথা নত করবে না।’

নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন এবং পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যা ইরানের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে চাপে ফেলে।

গত বছর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরুর আগে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও আলোচনা শুরু করেছিল।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত