Ajker Patrika

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা ভয়ংকর

  • দ্বীপটিকে কিনে নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
  • জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ডের দখল চান ট্রাম্প।
  • গ্রিনল্যান্ডের চারপাশ ঘিরে রেখেছে রাশিয়া ও চীনের জাহাজ।
আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯: ৫২
সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) কাছ থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনের হাদরামাউত ও আল-মাহরা পুনরুদ্ধারের পর টহলরত সরকারপন্থী হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী। গত সোমবার হাদরামাউত অঞ্চলের সেয়ুনে। 	ছবি: এএফপি
সংযুক্ত আরব আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) কাছ থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনের হাদরামাউত ও আল-মাহরা পুনরুদ্ধারের পর টহলরত সরকারপন্থী হোমল্যান্ড শিল্ড বাহিনী। গত সোমবার হাদরামাউত অঞ্চলের সেয়ুনে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রিত গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই হুমকি নতুন নয়, অনেক আগে থেকে এই হুমকি দিয়ে আসছেন তিনি। এমনকি দ্বীপটি কিনে নেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর প্রস্তাব ও হুমকি উভয়ই প্রত্যাহার করছে ডেনমার্ক সরকার এবং দ্বীপটির নেতারা। ট্রাম্পের এই মনোভাবকে একটি ভয়ংকর ধারণা বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় মানুষেরা।

ভেনেজুয়েলায় আক্রমণের পর আবার নতুন করে গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে ভেনেজুয়েলায় হামলা করে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা মাদক পাচারের অভিযোগে বিচারও শুরু হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় হামলার একদিন পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। এটি খুবই কৌশগত বিষয়। এখন গ্রিনল্যান্ডের চারপাশ রাশিয়া ও চীনের জাহাজ ঘিরে রেখেছে।

ট্রাম্পের এই আগ্রাসী মনোভাব প্রকাশের পর উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিখ। ট্রাম্পের আস্ফালনকে ‘যথেষ্ট হয়েছে’ ব্যাখ্যা করে দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার মার্কিন বাসনাকে ‘কল্পনা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, ডেনমার্ক রাজ্যের কিংডমের তিন অঞ্চল–ডেনমার্ক প্রোপার, স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ড ও ফারোই দ্বীপপুঞ্জের কোনোটাই দখলে নেওয়ার এখতিয়ার নেই যুক্তরাষ্ট্রের।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে এই দ্বীপ কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেই সময় বলা হয়েছিল, এটি বিক্রির জন্য নয়।

বর্তমানেও ট্রাম্পের হুমকির একই জবাব দিয়েছে দ্বীপটির সরকারপ্রধান ও স্থানীয়রা। সরকারপ্রধান জেন্স ফ্রেডরিখ নেইলসেন বলেছেন, ‘কোনো চাপ নেই, কারণ এই দ্বীপ দখলেরও কল্পনা করে ট্রাম্পের কোনো লাভ নেই। আমরা সরাসরি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। কিন্তু এটা অবশ্যই একটি উপযুক্ত পন্থায় হতে হবে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আলোচনায় বসতে হবে। এর ব্যত্যয়ের কোনো সুযোগ নেই।’

২০২৫ সালে বিবিসির সাংবাদিক ফার্গাল কিন গ্রিনল্যান্ডে গিয়েছিল। সেখানে তিনি বারবার শুনেছেন, গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীদের। তাই ট্রাম্প যদি এই অঞ্চল সফর করেন, তিনিও তাই শুনবেন। ওই বছর অঞ্চলটির সাধারণ নির্বাচনের সময় বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। জনমতে দেখা গেছে, বেশির ভাগ গ্রিনল্যান্ডবাসী ডেনমার্কের কাছ থেকে স্বাধীন হতে চায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ভয়ে তাদের বেশির ভাগই এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে।

২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রথম যখন এই দ্বীপ কেনার কথা ভাবেন, তখন তার প্রস্তাবের বিরোধিতা করে স্থানীয়রা।

গ্রিনল্যান্ডের এক ট্যুর অপারেটর ডাইনেস মিকেলসেন এটিকে একটি ভয়ংকর ধারণা বলে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ডের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী আলেকা হ্যামন্ড বলেছেন, ‘ট্রাম্প আমাদের পণ্য হিসেবে দেখছেন। আমাদের কিনতে চান তিনি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত