
ইসরায়েলের কাছে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এতে বাধা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল। একই অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদের তাঁর সমপদস্থ সদস্যও। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েল সরকারের প্রতি গভীর অনাস্থার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শ্যাহিনের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় বেসামরিক মানুষের ব্যাপক মৃত্যুর ঘটনায় বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের উদ্বেগ দূর করতে কোনো পদক্ষেপ নেননি। সিরিয়ায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণ এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বাড়তে থাকা সহিংসতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রস্তাবিত অস্ত্রের চালানের মধ্যে রয়েছে ৪০ হাজার এক টন ওজনের বোমা। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কায় এসব বোমা ইসরায়েলকে দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিল। গাজা উপত্যকায় বিপুল প্রাণহানির পেছনে এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে তিন বছর ধরে চলা যুদ্ধে আনুমানিক ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তবে এই হিসাবে নিহতদের মধ্যে কতজন যোদ্ধা এবং কতজন বেসামরিক নাগরিক, তা আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি।
সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট হিসেবে শ্যাহিনের নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি অর্থমূল্যের অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সাধারণত এটি একটি অনানুষ্ঠানিক পরামর্শমূলক প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র দপ্তর সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণেতার উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা করে এবং অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে এগিয়ে যাওয়ার আগে তার সম্মতি নেওয়ার চেষ্টা করে।
সেমাফোর প্রথম জানায়, শ্যাহিন এই অস্ত্র বিক্রিতে বাধা দিয়েছেন এবং তিনি গত জুলাইয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শ্যাহিনের সমপদস্থ সদস্য প্রতিনিধি গ্রেগরি মিকস গত বুধবার বিরল এক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে জানান, তিনিও এই সামরিক অস্ত্র বিক্রিতে বাধা দিয়েছেন। মিকস বলেন, নেতানিয়াহু সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অস্ত্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মার্কিন আইন অনুযায়ী ব্যবহার করবে কি না, তা নিয়ে তার উদ্বেগ রয়েছে।
বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শ্যাহিনের কাছে মিকসের এই পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চায়। জবাবে শ্যাহিন বলেন, ‘ইসরায়েল যা করছে, তা নিয়ে আমরা সবাই উদ্বিগ্ন।’ তিনি বলেন, ‘গাজায় তারা যা করছে, সিরিয়ার মতো জায়গায় তারা যে বোমাবর্ষণ করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে এর অর্থ কী দাঁড়ায়, বিশেষ করে কোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনার জন্য এর অর্থ কী, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’
শ্যাহিন আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহুকে আমেরিকার কাছ থেকে শুনতে হবে যে, তিনি যা করছেন আমরা তা পছন্দ করি না। পশ্চিম তীরে যা ঘটছে, সেটিও আমরা পছন্দ করি না। সেখানে বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে এবং মৌলিক অবকাঠামো ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। আর নেতানিয়াহু প্রশাসন এসব সমস্যা সমাধানে মূলত কোনো পদক্ষেপই নেয়নি।’

যুদ্ধ শুরুর কয়েক মাস পর গত শুক্রবার ইরানে সরকার আয়োজিত এক বড় সমাবেশে অংশ নেন লাখো মানুষ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে এটিই এ ধরনের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। এতে অংশ নেওয়া মানুষ দেশ রক্ষায় অস্ত্র হাতে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান।
১৮ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনার পথ খুলতে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া, যুদ্ধ বন্ধ, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো বিষয় রয়েছে। তবে সাত শর্তের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
১ ঘণ্টা আগে
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন পূরণে পাশে দাঁড়াবে তুরস্ক। এমনটাই জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুর্কি সম্প্রচারমাধ্যম এনটিভির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ফেরার জন্য তোড়জোড় করছে ইরান। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এই কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তরফে আরও বলা হয়, দেশের লাগামছাড়া দ্রব্যমূল্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে, দ্রব্যমূল্যের কারণেই সমঝোতার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে কি না...
১২ ঘণ্টা আগে