
পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে সক্রিয় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলাকে সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া এবং সম্ভাব্য সমর্থন পাওয়ার কৌশল হতে পারে।
রোববার (১৫ মার্চ) ‘নিক্কেই এশিয়া’ জানিয়েছে, বেলুচিস্তানভিত্তিক সংগঠন ‘ফ্রি বেলুচিস্তান মুভমেন্ট’ (এফবিএম) এক বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও ‘কার্যকর, সমন্বিত ও ফলপ্রসূ’ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের মতে—এর মাধ্যমে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
এফবিএম মূলত পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সক্রিয় একটি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে এটি বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি তুলে আসছে। সংগঠনটি তথাকথিত ‘গ্রেটার বেলুচিস্তান’ ধারণার পক্ষে—যার আওতায় পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তানের কিছু অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এফবিএম-এর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্ম (আজাদ) এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই সংগঠনটি ২০১৭ সালে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) থেকে বিভক্ত হয়ে গঠিত দুটি অংশের একটি। বিএলএ পাকিস্তান থেকে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা ও চীনা অবকাঠামো প্রকল্পে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে এই সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এফবিএম-এর বিবৃতি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের প্রচেষ্টা। ইসলামাবাদভিত্তিক থিংকট্যাংক সানোবার ইনস্টিটিউট-এর নির্বাহী পরিচালক কামার চিমা বলেন, ‘সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে চাইছে, তারা আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার প্রচেষ্টাও হতে পারে।’
অন্যদিকে স্বাধীন বিশ্লেষক কিয়া বালুচ মনে করেন, বিদেশি শক্তিগুলো রাজনৈতিক লবিং, আন্তর্জাতিক প্রচারণা কিংবা গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তার মতো বিভিন্ন উপায়ে সমর্থন দিতে পারে।
তবে পাকিস্তানের সব বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। যেমন বেলুচ লিবারেশন ফ্রন্ট বা বিএলএ-এর আরেক অংশ বিএলএ-জুনায়েদ এখনো ইরান পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মতভেদের মূল কারণ ভৌগোলিক লক্ষ্য। অনেক গোষ্ঠী শুধু পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতার দাবিতে সক্রিয় থাকলেও এফবিএম পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তান জুড়ে বৃহত্তর বেলুচিস্তানের স্বপ্ন দেখে।
এদিকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলে আশঙ্কা রয়েছে—ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে যদি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সীমান্তজুড়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী, অপরাধচক্র ও পাচারকারীদের তৎপরতা বেড়ে যেতে পারে। এতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা।

শান্তি আলোচনা যখন স্থবির হয়ে পড়ছে, তখন এই অবরোধের প্রভাবকে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে চাইছে পেন্টাগন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইরান নীতিতে এই অবরোধই যুদ্ধের ইতি টানার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় কৌশলগত হাতিয়ার।
১ ঘণ্টা আগে
ট্রাম্প তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা তাদের জাহাজের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়ি এবং সেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিই। আমরা কার্গো এবং তেল জব্দ করেছি। এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা।’ উল্লসিত জনতার উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেকটা জলদস্যুদের মতো আচরণ করছি।’
১ ঘণ্টা আগে
মাছ ধরার সময় জেলের ছিপের সুতা একটি ঝোপের মধ্যে আটকে যায়। সুতা ছাড়াতে তিনি যখন ঝোপের ভেতর প্রবেশ করেন, তখন তীব্র দুর্গন্ধ পান। প্লাস্টিকের ব্যাগটি খোলা ছিল এবং ভেতরে লোনাপানি প্রবেশ করেছিল। তিনি বুঝতে পারেন, ভেতরে মানুষের দেহাবশেষ রয়েছে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানান এবং তারা এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
১ ঘণ্টা আগে
অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিরা ট্যাঙ্কারটিতে উঠে এটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং সেটিকে গালফ অব এডেন হয়ে সোমালিয়ার জলসীমার দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইয়েমেনের কোস্টগার্ড।
২ ঘণ্টা আগে