আজকের পত্রিকা ডেস্ক

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজাবাসীর জন্য সবটুকু আশার আলো যেন নিভে যেতে বসেছে। উপত্যকার কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল, যা ওই অঞ্চলে জীবন রক্ষাকারী মানবিক কার্যক্রমকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এই পদক্ষেপকে তাদের অস্তিত্বের ওপর নতুন আঘাত হিসেবে দেখছেন।
ইসরায়েল নতুন বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবার থেকে ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিওর লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করছে। এই তালিকায় রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ), নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির মতো বড় বড় সংস্থাও।
ইসরায়েলের দাবি, নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসব সংস্থাকে তাদের কর্মী ও কাজের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তবে পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এটি মূলত মানবিক সংস্থাগুলোকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল। ইতিপূর্বে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থাকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে অভিযুক্ত করেছে ইসরায়েল।
খান ইউনিসের বাসিন্দা সিরাজ আল-মাসরি গত বুধবার আল জাজিরাকে বলেন, অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য এসব সংস্থার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের কোনো আয় নেই, পকেটে পানি নেই। আমরা এখন কোথায় যাব? চিকিৎসা নেওয়ার মতো হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি জায়গা টিকে আছে। এমন অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলবে এবং আহত ব্যক্তিদের জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি সাধারণ মানুষও চিকিৎসার জন্য চরম দুর্ভোগে পড়বে।’
গাজার বাসিন্দা রামজি আবু আল-নীল বলেন, ‘মানবিক সংস্থাগুলোর উপস্থিতিতেই পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। তারা চলে গেলে কী হবে তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। অনেক শিশু মারা যাবে, অগণিত পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে।’
এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার কানাডা, ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক এনজিওর কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাজে বাধা দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য এবং তাদের ছাড়া এই বিশাল অভাব পূরণ করা অসম্ভব।
এদিকে যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু থেমে নেই। ত্রাণ ও মৌলিক পণ্যের ওপর ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। পুরো গাজা এখন ধ্বংসস্তূপ। ১০ লাখের বেশি মানুষ পলিথিনের তাঁবুতে কনকনে শীতের সঙ্গে লড়াই করছেন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড না থাকায় সাধারণ মানুষ এখন পুরোপুরি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। খান ইউনিসের আবদুল্লাহ আল-হাওয়াজরি বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষই পুরোপুরি আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর বেঁচে আছে।’
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে অভিহিত করেছে। ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাজ নিয়ন্ত্রণ করার এই প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা না গেলে বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার যে নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার মূলনীতি রয়েছে, তা ক্ষুণ্ন হবে।’ তিনি আরও জানান, এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি অবজ্ঞার এক উদ্বেগজনক রূপ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও ইসরায়েল ইউএনআরডব্লিউএর কাজ বন্ধ করতে বেশ কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছিল।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, গত দুই বছরের যুদ্ধে ইসরায়েল প্রায় ৫০০ ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবককে হত্যা করেছে। সেই সঙ্গে তারা গাজার ওপর এক শ্বাসরুদ্ধকর অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে, যা সেখানে দুর্ভিক্ষ ডেকে এনেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইসরায়েলের এই নিষেধাজ্ঞা শুধু অমানবিকই নয়, এটি স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা’র লঙ্ঘন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংস্থা এবং রেড ক্রিসেন্টসহ অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই চলবে।’ অথচ আজ যেসব সংস্থাকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই জাতিসংঘের স্বীকৃত ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজাবাসীর জন্য সবটুকু আশার আলো যেন নিভে যেতে বসেছে। উপত্যকার কয়েক ডজন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল, যা ওই অঞ্চলে জীবন রক্ষাকারী মানবিক কার্যক্রমকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা এই পদক্ষেপকে তাদের অস্তিত্বের ওপর নতুন আঘাত হিসেবে দেখছেন।
ইসরায়েল নতুন বছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবার থেকে ৩৭টি আন্তর্জাতিক এনজিওর লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করছে। এই তালিকায় রয়েছে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ), নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল, কেয়ার ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির মতো বড় বড় সংস্থাও।
ইসরায়েলের দাবি, নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসব সংস্থাকে তাদের কর্মী ও কাজের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। তবে পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, এটি মূলত মানবিক সংস্থাগুলোকে কোণঠাসা করার একটি কৌশল। ইতিপূর্বে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থাকে কোনো প্রমাণ ছাড়াই হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দায়ে অভিযুক্ত করেছে ইসরায়েল।
খান ইউনিসের বাসিন্দা সিরাজ আল-মাসরি গত বুধবার আল জাজিরাকে বলেন, অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য এসব সংস্থার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের কোনো আয় নেই, পকেটে পানি নেই। আমরা এখন কোথায় যাব? চিকিৎসা নেওয়ার মতো হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি জায়গা টিকে আছে। এমন অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলবে এবং আহত ব্যক্তিদের জন্য এক মহাবিপর্যয় ডেকে আনবে। এমনকি সাধারণ মানুষও চিকিৎসার জন্য চরম দুর্ভোগে পড়বে।’
গাজার বাসিন্দা রামজি আবু আল-নীল বলেন, ‘মানবিক সংস্থাগুলোর উপস্থিতিতেই পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ। তারা চলে গেলে কী হবে তা একমাত্র আল্লাহ জানেন। অনেক শিশু মারা যাবে, অগণিত পরিবার ধ্বংস হয়ে যাবে।’
এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার কানাডা, ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাজ্যসহ ১০টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক এনজিওর কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাজে বাধা দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য এবং তাদের ছাড়া এই বিশাল অভাব পূরণ করা অসম্ভব।
এদিকে যুদ্ধবিরতি চললেও গাজায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু থেমে নেই। ত্রাণ ও মৌলিক পণ্যের ওপর ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধ অব্যাহত রয়েছে। পুরো গাজা এখন ধ্বংসস্তূপ। ১০ লাখের বেশি মানুষ পলিথিনের তাঁবুতে কনকনে শীতের সঙ্গে লড়াই করছেন। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড না থাকায় সাধারণ মানুষ এখন পুরোপুরি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। খান ইউনিসের আবদুল্লাহ আল-হাওয়াজরি বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষই পুরোপুরি আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর বেঁচে আছে।’
ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করা জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে অভিহিত করেছে। ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান ফিলিপ লাজারিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ত্রাণ সংস্থাগুলোর কাজ নিয়ন্ত্রণ করার এই প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করা না গেলে বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার যে নিরপেক্ষতা ও মানবিকতার মূলনীতি রয়েছে, তা ক্ষুণ্ন হবে।’ তিনি আরও জানান, এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি অবজ্ঞার এক উদ্বেগজনক রূপ। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও ইসরায়েল ইউএনআরডব্লিউএর কাজ বন্ধ করতে বেশ কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছিল।
গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের তথ্যমতে, গত দুই বছরের যুদ্ধে ইসরায়েল প্রায় ৫০০ ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবককে হত্যা করেছে। সেই সঙ্গে তারা গাজার ওপর এক শ্বাসরুদ্ধকর অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে, যা সেখানে দুর্ভিক্ষ ডেকে এনেছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইসরায়েলের এই নিষেধাজ্ঞা শুধু অমানবিকই নয়, এটি স্পষ্টতই যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা’র লঙ্ঘন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পরিকল্পনায় স্পষ্ট বলা আছে, ‘জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংস্থা এবং রেড ক্রিসেন্টসহ অন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণ কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই চলবে।’ অথচ আজ যেসব সংস্থাকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই জাতিসংঘের স্বীকৃত ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থার প্রধান চালিকাশক্তি।

গাজা উপত্যকায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের আবহের মধ্যেই ২০২৫ সালে ৬৯ হাজারেরও বেশি নাগরিক দেশ ছেড়েছেন। গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (সিবিএস) জানিয়েছে, এর ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ইসরায়েলে অভিবাসনের ভারসাম্য ঋণাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
১৪ মিনিট আগে
জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এই শহরের প্রথম মুসলিম এবং কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে ইতিহাস গড়লেন। আজ বৃহস্পতিবার পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।
১ ঘণ্টা আগে
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গতকাল বুধবার জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা থেকে তাঁর দেশ আর মাত্র ‘১০ শতাংশ’ দূরে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত এবং মস্কোকে পুরস্কৃত করার বিরুদ্ধেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
৩ ঘণ্টা আগে
তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের বিশাল সামরিক মহড়া ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ শেষ হওয়ার মাত্র এক দিন পরই সি চিন পিংয়ের এই কড়া বার্তা এল। উল্লেখ্য, চীন তাইওয়ানকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে তা দখলের হুমকি দিয়ে আসছে।
১৬ ঘণ্টা আগে