
ইরানের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর হরমুজ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরিকল্পনা সফল হলে ইরানকে তেল রপ্তানির আয় থেকে বঞ্চিত করতে সমর্থ হবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সঙ্গে রয়েছে ভয়াবহ কিছু ঝুঁকি। ইরানের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বব্যাপী আরও বাড়তে পারে তেলের দাম। অথবা চীনের জাহাজ আটকে দিলে বেইজিংয়ের সঙ্গেও ওয়াশিংটনের রেষারেষি আরও মারাত্মক পর্যায়ে যেতে পারে।
সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়, ইসলামাবাদে গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরানের কাছে সুনির্দিষ্ট ছাড় আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে হরমুজ খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি বাতিলে মার্কিন দাবি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। ফলে মার্কিন সামরিক শক্তির সামনে সবাইকে নত করার বহুদিনের প্রথা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। কয়েক দিন পরই বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ দিয়ে চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন মিত্রদের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা এবং হরমুজ অবরোধের কারণে বিশ্বে দেখা দেয় ভয়াবহ জ্বালানিসংকট। যুদ্ধের আগে যেখান ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ৭০ মার্কিন ডলারের আশপাশে থাকত, তার দাম অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে। সর্বশেষ, গতকাল সোমবার তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১০২ ডলার।
যুদ্ধের ৪০ দিনের মাথায় একতরফাভাবে দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। ইরানও এতে রাজি হলে শুক্রবার পাকিস্তানে বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। সেখানে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় হরমুজ একেবারে অবরোধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত আটটা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা। স্বাভাবিকভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। প্রসঙ্গত, সমঝোতার শর্ত হিসেবে হরমুজে আধিপত্য এবং টোল আদায়ের স্বীকৃতি দাবি করেছিল ইরান।
প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে, যেহেতু হরমুজে এরই মধ্যে ইরানের অবরোধ চলছে, সেখানে মার্কিন অবরোধের গুরুত্ব কী? যুদ্ধ শুরুর পর থেকে, বিভিন্ন দেশের জাহাজ যাতায়াতে বাধা দেয় ইরান। তবে ইরান থেকে আসা জাহাজ চলাচলে কোনো বাগড়া দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। নইলে বিশ্বে তেলের দাম আরও বাড়ত। তবে তেল সরবরাহে ঘাটতির সুযোগে ইরানের তেল রপ্তানি আয় গত এক মাসে অনেকটা বেড়েছে। তাই অবরোধের মাধ্যমে ইরানের এই সক্ষমতাকেও ধসিয়ে দিতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন কৌশলগত দিক থেকে এই বাজি যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, ক্রমবর্ধমান তেলের দাম মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির হারকে ৩০ দিনে প্রায় ১ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। হরমুজে মার্কিন অবরোধের পরিকল্পনা যদি একটুও হড়কে যায়, তবে মার্কিন অর্থনীতি এবং একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্বের তিন কোটির বেশি মানুষ এরই মধ্যে দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।
এ ছাড়া হরমুজ অবরোধের মাধ্যমে সেখানে ইরানের নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা যাচাইয়ের পরিকল্পনা থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে ইরান প্রতিক্রিয়া দেখালে মার্কিন সেনাদের হতাহতের ঝুঁকি আরও বাড়বে, যা ট্রাম্পের জন্য সুখকর কিছু হবে না। এ ছাড়া চীনের জাহাজকে হরমুজ পেরোতে বাধা দেওয়ার কূটনৈতিক সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে। ট্রাম্প আগামী মাসে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর শীর্ষ সম্মেলনে বিপুল রাজনৈতিক পুঁজি বিনিয়োগ করেছেন, যা এরই মধ্যে যুদ্ধের কারণে এটি একবার স্থগিত করা হয়েছে।
ইরানের যাতায়াতের শর্তে রাজি হওয়া সব জাহাজের চলাচল থামিয়ে দেওয়া একটি মার্কিন অবরোধ জাপান এবং ইউরোপের সেই সব মিত্রেরও ক্ষতি করতে পারে, যাদেরকে ট্রাম্প যুদ্ধের কারণে এরই মধ্যে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন এবং যারা উপসাগরীয় তেল সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

জাপানে সন্ত্রাসবিরোধী একটি মহড়ায় ‘সন্ত্রাসী’ চরিত্রে অভিনয় করা ব্যক্তিদের পোশাক নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই পোশাক মধ্যপ্রাচ্য বা মুসলিমদের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের প্রচলিত ও নেতিবাচক ধারণাকে দেখাচ্ছে।
১৫ মিনিট আগে
শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলীয় জাফনার চেম্মানি এলাকায় এক শ্মশান সম্প্রসারণের কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত উন্মোচিত হয়েছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণকবর। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৩টি ধাপে চালানো খননকাজে শিশু ও নবজাতকসহ মোট ৫৭২ জনের কঙ্কাল ও মানুষের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী...
৩ ঘণ্টা আগে
হুতিদের হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠছে। এ অবস্থার মধ্যেই গতকাল রোববার নতুন করে পাল্টাপাল্টি হুমকি দিয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান কোনো চুক্তিতে না এলে দেশটির অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। এর নেতৃত্বকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হবে।
৬ ঘণ্টা আগে
নেপালের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ হয়নি উদ্ধার অভিযান। গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে শুরু হওয়া বিধ্বংসী বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এখনো প্রায় ৬ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের সন্ধানে দিনরাত...
১৭ ঘণ্টা আগে