Ajker Patrika

৭৭ বছর পিছিয়ে গেছে গাজা, ১৬৫০০ ফিলিস্তিনির চিকিৎসা আটকে দিয়েছে ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১১: ১৮
৭৭ বছর পিছিয়ে গেছে গাজা, ১৬৫০০ ফিলিস্তিনির চিকিৎসা আটকে দিয়েছে ইসরায়েল
ফাইল ছবি

জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক যৌথ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, গাজার মানব উন্নয়ন প্রায় ৭৭ বছর পিছিয়ে গেছে। আর গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অন্তত ১৬ হাজার ৫০০ মানুষের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু ইসরায়েল এসব ফিলিস্তিনিদের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ায় বাধা দিচ্ছে। অথচ, গত বছরের অক্টোবর থেকে গাজায় তথাকথিত একটি ‘অস্ত্রবিরতি’ কার্যকর রয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানায়—এই দীর্ঘ বিলম্ব রোগীদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একই সঙ্গে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, চলমান এই পরিস্থিতি গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার চরম ভাঙনকে স্পষ্ট করে তুলছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন মানবিক সহায়তা সংস্থা অভিযোগ করেছে, গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে, যাতে অঞ্চলটিকে বসবাসের অযোগ্য করে তোলা যায়।

গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে ইচ্ছুক রোগীদের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে সীমিত করছে ইসরায়েল। গাজা ও মিসরের মধ্যে থাকা রাফাহ ক্রসিং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। তবে এরপর থেকে এটি একাধিকবার সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপ-সচিব মাহের শামিয়া জানান, বর্তমানে মানুষকে এই সীমান্ত দিয়ে সপ্তাহে মাত্র তিন দিন বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবহৃত কারেম আবু সালেম ক্রসিং দিয়ে সপ্তাহে মাত্র একদিন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই ক্রসিংটি গাজাকে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

তিনি বলেন, ‘এই সংকটের সম্পূর্ণ দায় দখলদার শক্তির। কারণ তারা রাফাহ সীমান্ত ক্রমাগত বন্ধ রেখেছে, যা রোগীদের বের হওয়ার প্রধান পথ।’ শামিয়া মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে স্বাধীনভাবে বের হওয়া ও পুনরায় প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত করে।

তিনি আরও বলেন, গাজার অধিকাংশ রোগীই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা পেতে পারতেন, যদি ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা পুনর্গঠন করা হতো। তিনি বলেন, ‘আমরা জোর দিয়ে বলছি, অনেক রোগীই গাজার ভেতরেই চিকিৎসা নিতে পারতেন, যদি স্বাস্থ্য খাত—যেটি পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে—পুনর্গঠন ও প্রস্তুত করা হতো।’

এদিকে, গাজা উপত্যকা বর্তমানে এক গভীর মানবিক সংকটে রয়েছে, যা আরও তীব্র হয়েছে পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধার কারণে। জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ বাস্তুচ্যুত, এবং অধিকাংশ মানুষ চরম খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে গাজার সব সীমান্ত খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সীমান্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করতে সব ক্রসিং পুনরায় খোলার আহ্বান জানান।

পুনর্গঠন প্রসঙ্গে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক যৌথ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, গাজার মানব উন্নয়ন প্রায় ৭৭ বছর পিছিয়ে গেছে এবং পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাত পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তারা আরও জানায়, জরুরি সেবা পুনরুদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রথম ১৮ মাসেই অন্তত ২৬ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে ইসরায়েল গাজায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও গত অক্টোবর থেকে তথাকথিত ‘অস্ত্রবিরতি’ কার্যকর রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, গাজায় প্রবেশ করা সহায়তার পরিমাণও ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত