Ajker Patrika

নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনায় ইসরায়েলের বিরোধীরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনায় ইসরায়েলের বিরোধীরা
আরব লিস্ট জোটের নেতা ইউসেফ জাবেরিন এবং রা’আম পার্টির নেতা মনসুর আব্বাস। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ব্যাপক ভোটার উপস্থিতির কারণে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে আরব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে বিরোধী দলগুলো। একই সঙ্গে বর্তমান নেসেট স্পিকারকে পরিবর্তন এবং নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্যোগও নিয়েছে তারা।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আল আরব আল–জাদিদ বা দ্য নিউ আরবের খবরে বলা হয়েছে, মুভমেন্ট ফর চেঞ্জের নেতা ও নেসেটের সদস্য আহমাদ তিবি জানিয়েছেন, বর্তমান নেসেট স্পিকারকে সরিয়ে নতুন স্পিকার নিয়োগ এবং ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বিরোধী দলগুলো আরব রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

তিবি বলেন, পরবর্তী সরকারে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার লক্ষ্য আরব দলগুলোর নেই। বরং পার্লামেন্টে নিজেদের আসন ও রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটাতে চায় তারা। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনি ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নেতানিয়াহুকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। এর ফলে বিকল্প সরকার গঠনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা ক্ষমতায় উগ্র ডানপন্থী জোটের আধিপত্যের অবসান ঘটাতে পারে।

তিবি জানান, নেসেটের বর্তমান স্পিকারকে সরিয়ে বিরোধী দলগুলোর সমর্থিত একজন প্রার্থীকে নিয়োগের পক্ষে থাকবে জয়েন্ট লিস্ট। একই সঙ্গে আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানো রাজনীতিকদের সমালোচনা করেন তিনি। তিবি বলেন, ‘যারা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে অস্বীকৃতি জানাতে অনড় থাকবে, তারা ক্ষমতা হারাবে।’ আরব ভোটকে অবৈধ হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টাকে বর্ণবাদী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসরায়েলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কানের (Kan) প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয়েন্ট আরব লিস্ট বিরোধী দলগুলোর ‘চেঞ্জ ক্যাম্পের’ সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাসীন জোটে যোগ না দিয়েই নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম করতে চায় দলটি। তিবি বলেন, ‘নেসেটে সরকার ঘোষণার পথ সুগম করতে আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করতে চাই। সম্ভবত আমরা এই সরকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হব না। তবে সহযোগিতার জন্য অন্যান্য ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাবনাও রয়েছে।’

আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জয়েন্ট লিস্ট বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আজেনকটকে পার্লামেন্টে একটি ‘সেফটি নেট’ বা সুরক্ষা বলয় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। ১৯৯২ সালে আইজ্যাক রবিনের সরকারকে আরব আইনপ্রণেতারা যে ব্যবস্থার আওতায় সমর্থন দিয়েছিলেন, প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটি তার অনুরূপ।

এই ব্যবস্থার আওতায় আরব দলগুলো মন্ত্রিত্ব গ্রহণ না করে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাসীন জোটে যোগ না দিয়েও বাইরে থেকে সরকারকে পার্লামেন্টীয় সমর্থন দিতে পারবে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে আজেনকটের শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং এ নিয়ে আলোচনা এখনো চলছে। জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসুফ জাবারিনও নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে একটি ‘প্রকৃত ইহুদি-আরব অংশীদারত্ব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমকে জাবারিন বলেন, ‘যারা নেতানিয়াহুর রক্তে রঞ্জিত সরকারের পরিবর্তে একটি অর্থবহ ও প্রকৃত বিকল্প উপস্থাপন করতে চান, তাঁদের অবশ্যই আমাদের সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে এবং ইসরায়েলের জনগণ যে পরিবর্তন চাইছে, তার পথ সুগম করতে হবে।’

নির্বাচনী প্রচারের সময় নেতানিয়াহু বারবার ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যাওয়া নিয়ে তাঁর সমর্থকদের সতর্ক করেছিলেন। নির্বাচনে আরব ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আরব দলগুলোর সহযোগিতার উদ্যোগ সামনে এসেছে।

নির্বাচনের দিন মঙ্গলবার নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরব আইনপ্রণেতা আহমাদ তিবি এবং আরব অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। একটি পোস্টে তিনি এক্সে দক্ষিণ ইসরায়েলের প্রধানত আরব অধ্যুষিত শহর রাহাতের একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের উপস্থিতি দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা একটি ছবি প্রকাশ করেন।

ছবিটির সঙ্গে নেতানিয়াহু লেখেন, ‘আজ রাহাতে যা ঘটছে, তা দেখুন। আপনারা ঘরে বসে থাকতে পারবেন না। অবিলম্বে বেরিয়ে আসুন এবং লিকুদকে ভোট দিন। আমরা আমাদের মাতৃভূমির জন্য লড়াই করছি।’

এদিকে ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়াইর গোলান নতুন সরকার গঠনে বিরোধীদের উদ্যোগে আরব দলগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছেন। গোলান বলেন, ‘আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত নেসেটের প্রত্যেক সদস্যই আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার বৈধ অংশ।’

তবে উগ্র ডানপন্থী দল ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লাইবারম্যান আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিরোধিতা করেছেন। এর পরিবর্তে তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে লিকুদ দলের ভেতরেই বিদ্রোহের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু জাতীয়তাবাদী শিবিরকে ধ্বংস করছেন। তাঁর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী আচরণ করেছেন ‘একটি অপরাধী সংগঠনের প্রধানের মতো।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত