Ajker Patrika

জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিনি নেতাদের যোগদানের পক্ষে ১৫২ দেশ, বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৩৮
জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিনি নেতাদের যোগদানের পক্ষে ১৫২ দেশ, বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ছবি: আনাদোলু

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবের পক্ষে অন্তত ১৫২টি দেশ ভোট দিয়েছে। ওই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করতে হবে। প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও প্যারাগুয়ে। কলম্বিয়া, হন্ডুরাস, পানামা ও পেরু ভোটদানে বিরত ছিল।

লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবি আল–জাদিদ বা নিউ আরবের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশগুলো বলেছে—ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলকে অধিবেশনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া সদর দপ্তর চুক্তির (Headquarters Agreement) স্পষ্ট লঙ্ঘন। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই চুক্তি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের বৈঠকে অংশ নিতে কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল, সদস্য রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ এবং অবস্থানের সুযোগ কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নিশ্চিত করা ওয়াশিংটনের আইনি বাধ্যবাধকতা।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলেছে, প্রস্তাবটি গৃহীত হলে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলকে অধিবেশনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার যেকোনো প্রচেষ্টা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ভিসা নিষেধাজ্ঞা হলো ‘একটি অযৌক্তিক পদক্ষেপ’, যা আস্থা পুনর্গঠন, ফিলিস্তিন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়ন ও শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে আরব লীগের সাধারণ সচিবালয়ও এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ফিলিস্তিনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজের বক্তব্য ও অবস্থান তুলে ধরার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে যে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে, এই প্রস্তাব সেটিই প্রতিফলিত করে।

প্রস্তাবটির পৃষ্ঠপোষকতা করা এবং এর পক্ষে ভোট দেওয়া দেশগুলোর অবস্থানের প্রশংসা করেছে আরব লীগ সচিবালয়। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে এবং দেশটিকে তার আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ইরানের একটি প্রতিনিধিদল ও তাদের কর্মীদের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য ভিসা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবং অন্যান্য ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাকে ভিসা দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদের গৌরবকীর্তন’ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে ‘আন্তর্জাতিকীকরণের’ চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের জন্য এবং একটি দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করার অধিকার তাদের রয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভার্চুয়ালি অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেবে। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো তিনি এভাবে বক্তব্য দেবেন।

বর্তমানে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ রাষ্ট্র ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াও রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত