Ajker Patrika

পশ্চিমবঙ্গ দখলে বিজেপি–তৃণমূলের ভোটের লড়াই শুরু

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
পশ্চিমবঙ্গ দখলে বিজেপি–তৃণমূলের ভোটের লড়াই শুরু
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ছবি: এনডিটিভি

বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। একইসঙ্গে ভারতের দক্ষিণী রাজ্য তামিলনাড়ুতেও ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এই রাজ্য দুটিতে ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি কখনোই জিততে পারেনি। দীর্ঘকাল অধরা থাকা রাজ্য দুইটির নির্বাচনে তামিলনাড়ুর চেয়েও সবার নজর এখন পশ্চিমবঙ্গের দিকে। কারণ, রাজ্যটিতে এমন এক পরিস্থিতিতে ভোট হচ্ছে যার মাত্র কয়েকদিন আগেই বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নামে প্রায় ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজনৈতিক ঝড়ের মাঝে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির জন্য এটি একটি মরিয়া লড়াই।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম ধাপে আজ নন্দীগ্রাম এবং উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারসহ ১৬টি জেলার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৫২টি আসনে আজ ভোটগ্রহণ চলছে। প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার আজ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অন্তত ৮০টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

২০১১ সালে ৩৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে টানা তিনবার ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতায় আসে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এবারে অনেকেই বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে কঠিন নির্বাচনের মুখোমুখি। যদিও ২০২১ সালেও একই কথা বলা হয়েছিল, তবে সেবার তৃণমূল ২১৫টি আসন পেয়ে তাদের সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল। বিজেপি জিতেছিল ৭৭টি আসনে।

বিজেপি তৃণমূলের প্রাথমিক সুবিধাজনক অবস্থানে ক্রমাগত আঘাত হানছে। তারা গত পাঁচ দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গের দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়নের অভাবের বিষয়গুলোকে নির্বাচনি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তৃণমূল এই লড়াইকে রাজ্য়ে বহিরাগতদের বিরুদ্ধে আত্মনিয়ন্ত্রণের লড়াই (খাদ্য থেকে সংস্কৃতি পর্যন্ত) এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে টিকে থাকার লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছে, যারা রাজ্যের তহবিল আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ।

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) শাসক দলকে চিন্তায় ফেলেছে। এই প্রক্রিয়ায় তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লাখ ভোটার বাদ পড়েছেন, যা রাজ্যের মোট ভোটারের প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ। এই সংখ্যাটি ২০২১ সালে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানের চেয়ে কিছুটা বেশি।

২০২১ সালে তৃণমূল বিজেপির চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছিল (তৃণমূল ৪৮ শতাংশ এবং বিজেপি ৩৮ শতাংশ)। তথ্য বলছে, এসআইআর–এর প্রভাবে এমন অনেক জেলায় ভোটার সংখ্যা ১১ দশমিক ৬ শতাংশের বেশি কমেছে যেখানে তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান খুবই সামান্য ছিল।

এই দফার ভোটে হেভিওয়েট তৃণমূল প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন শিলিগুড়ি থেকে গৌতম দেব, দিনহাটা থেকে উদয়ন গুহ, কলকাতা পোর্ট এলাকা থেকে ফিরহাদ হাকিম এবং নন্দীগ্রাম থেকে পবিত্র কর। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী তার শক্ত ঘাঁটি নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া তিনি ভবানীপুর আসনেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন, যেখানে দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে। বিজেপির অন্যান্য প্রধান মুখের মধ্যে রয়েছেন মাথাভাঙ্গা থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং খড়গপুর সদর থেকে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

ভারতের নির্বাচন কমিশন পুরো রাজ্যকে দুর্গে পরিণত করেছে। অভূতপূর্বভাবে ২৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৪ লক্ষ সদস্য রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের দ্বিতীয় দফা আগামী ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৪ মে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত