Ajker Patrika

শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ১৫ দিন পর কারাগার থেকে ফোনকল—‘আপনার ছেলে জীবিত’

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ৫৫
শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ১৫ দিন পর কারাগার থেকে ফোনকল—‘আপনার ছেলে জীবিত’
রবি কুমারকে মৃত ভেবে মরদেহ দাহ করে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিল পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

নিখোঁজ ছেলেকে মৃত মনে করে ধর্মীয় আচার মেনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছিল পরিবার। শোকে আচ্ছন্ন পরিবারটি যখন সান্ত্বনা খোঁজার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই একটি অপ্রত্যাশিত টেলিফোন কল তাঁদের পুরো পৃথিবী বদলে দিল।

শেষকৃত্যের প্রায় ১৫ দিন পর জানা গেল, তাঁদের মৃত সন্তান প্রকৃতপক্ষে জীবিত এবং পুলিশের হেফাজতে একটি কারাগারে রয়েছেন।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের কাপুরথলা জেলায়।

পারিবারিক ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়া ওই যুবকের নাম রবি কুমার। গত ৫ আগস্ট তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। স্বজনেরা নিজেদের উদ্যোগে বহু খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। উপায় না দেখে গত ১১ আগস্ট কাপুরথলা শহর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করে রবি কুমারের পরিবার।

এরই মধ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে জানানো হয়, এক যুবকের পোড়া লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ পরিবারকে নিহত ব্যক্তির ছবি দেখায়। কয়েকদিন পর ছবির সূত্র ধরে স্বজনেরা লাশটি রবি কুমারের বলে শনাক্ত করেন।

স্বজনদের দাবির ভিত্তিতে গত ১৩ আগস্ট পরিবারের উপস্থিতিতেই লাশটির শেষকৃত্য সম্পাদন করা হয়।

শোকাহত পরিবারটি যখন দিন অতিবাহিত করছিল, ঠিক তখনই গত ২ সেপ্টেম্বর পুরো ঘটনার চিত্র বদলে যায়। কাপুরথলা সেন্ট্রাল জেল কর্তৃপক্ষের এক কর্মচারী রবি কুমারের পরিবারকে ফোনকল করেন। তিনি জানান, রবি কুমার নামের এক যুবক তাঁদের কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

পরবর্তীকালে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে জলন্ধর জেলা পুলিশ ভবঘুরে ও সন্দেহজনক ঘোরাঘুরির অভিযোগে রবি কুমারকে গ্রেপ্তার করেছিল। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে কাপুরথলা সেন্ট্রাল জেলে পাঠানো হয়।

কারাগারের ফোনকল পেয়ে বিস্ময় ও বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় পরিবারটি। খবর পাওয়ার পরদিনই (৩ সেপ্টেম্বর) পরিবারের সদস্যরা কারাগারে যান এবং রবি কুমারকে সশরীরে জীবিত অবস্থায় দেখতে পান।

যে সন্তানকে মৃত ভেবে শেষকৃত্য করা হয়েছিল, তাঁকে জীবিত ফিরে পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবারটি। তবে অজ্ঞাত যে ব্যক্তির লাশ দাহ করা হয়েছিল, তিনি কে এবং শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত