Ajker Patrika

‘তৃণমূলের নাম–প্রতীক কেড়ে নেওয়া বিজেপির নোংরা খেলা’, আদালতে মমতা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ২৬
‘তৃণমূলের নাম–প্রতীক কেড়ে নেওয়া বিজেপির নোংরা খেলা’, আদালতে মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের পুরোনো নাম ও নির্বাচনী প্রতীক জোড়া ফুল স্থগিতের ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘অসাংবিধানিক’, ‘বেআইনি’ ও ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিযোগ করেছেন মমতা। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, তাঁর দলের পুরোনো নাম ও জোড়া ফুল প্রতীক আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নন্দীগ্রাম, রেজিনগর এবং আসামের নগাঁওয়ে উপনির্বাচনের জন্য স্থগিত করে দেওয়ার ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন।’

গত ৫ মের পর এই প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেন মমতা। ওই দিন তিনি অভিযোগ করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ‘কারচুপি’ করা হয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতেও অস্বীকার করেছিলেন। ১৩৬ দিন পর শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজ করছে। মমতা বলেন, ‘আমাদের দেশে যা ঘটছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, অসাংবিধানিক, বেআইনি, অগণতান্ত্রিক এবং একটি রাজনৈতিক দলের অহংকারকে সন্তুষ্ট করার জন্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিহিংসা।’

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নির্বাচন কমিশন এক অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের জন্য মমতার দলের বর্তমান নাম ও প্রতীক স্থগিত করে সাময়িকভাবে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক বরাদ্দ করে। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে বরাদ্দ করে ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে প্রক্রিয়াগত অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন, আইনি ও গণতান্ত্রিকভাবে এর বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা লড়াই করব, লড়াই চালিয়ে যাব এবং আবার ঘুরে দাঁড়াব।’ মমতা আরও বলেন, ‘সম্পূর্ণ ভুল, নোংরা খেলা...আজকের দিনটিকে আমরা আমাদের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি কালো দিন হিসেবে দেখছি।’

এর আগে শুক্রবারই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর গুরুত্বপূর্ণ নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে তিনি নিঃশর্তভাবে কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। একই সঙ্গে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। মমতা বলেন, ‘রাহুলজি (রাহুল গান্ধী) আমাকে ফোন করেছিলেন। তাঁরা সবাই টুইট করেছেন...আমরা একসঙ্গে লড়াই করব। আমরা বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের সহযোগী দল এবং স্বাভাবিক জোটসঙ্গীদের সমর্থন করতে পারি, কিন্তু ওই নোংরা, কদর্য, ধূর্ত ও উচ্চমাত্রার ভাইরাসকে সমর্থন করতে পারি না।’

মমতা অভিযোগ করেন, তাঁকে বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘দেশ ও মানুষের স্বার্থে আমরা তা করতে অস্বীকার করেছি। তারা এসআইআর-এর পরিকল্পনা করেছিল; তারা নির্বাচন চুরি করেছে।’ মমতার অভিযোগ, ‘ইভিএমগুলো দখল করে নেওয়া হয়েছিল এবং প্রথম তিন-চার রাউন্ডের পর গণনা এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী গণনা পরিচালনা করেছিল। কিন্তু আমরা কখনো ভাবিনি, তারা আমাদের তিন দশকের পুরোনো দলের নাম ও প্রতীকও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘হয় বিজেপি-সমর্থিত ওই আবর্জনার দলে যোগ দিন, নয়তো গ্রেপ্তার হন। আমাদের ১৪ হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি বিশ্ব রেকর্ড।’ মমতা বলেন, যারা তাঁর দল ছেড়ে চলে গেছেন, তারা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অথবা অর্থের লোভে তা করেছেন। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি সত্যিই তৃণমূলকে ভালোবাসত, তাহলে তারা তৃণমূলকে মা-হীন করার চেষ্টা করত না! তারা ভালোবাসে নিজেদের পদ, নিজেদের দুর্নীতি এবং নিজেদের ছোটখাটো মামলা।’

দেশের অন্যান্য জায়গায় বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তুলনা টেনে মমতা বলেন, গণতান্ত্রিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, তিনি সারা দেশে ঘুরে বেড়াবেন এবং ‘বিজেপি ও ওয়াশিং কমিশনের কালো মুখ ও কালো চেহারা উন্মোচন করবেন।’ মমতা বলেন, ‘সারা দেশে ঝড় উঠেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তারা খুব শিগগিরই ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।’

সুপ্রিম কোর্টে মমতা

শুক্রবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের নাম ও প্রতীক স্থগিত রাখার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। আগামী সপ্তাহে মামলাটি শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে। আবেদনে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ‘বেআইনি’ ও ‘অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মমতার ঘনিষ্ঠ তৃণমূল সাংসদ ও প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন যুক্তিতে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছি।’ তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদনে কী কী বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা প্রকাশ করতে রাজি হননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত