Ajker Patrika

দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী, অভিযোগ মানি লন্ডারিংয়ের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ৫১
দেশ ছেড়ে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী, অভিযোগ মানি লন্ডারিংয়ের
ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী জার্মান গালুশচেঙ্কো। ছবি: সংগৃহীত

সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী হারমান গালুশচেঙ্কো। তবে তিনি কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তা জানা যায়নি। গত নভেম্বরে প্রায় ১০ কোটি ডলার আত্মসাতের একটি অভিযোগের জড়িতদের নামের তালিকায় গালুশচেঙ্কোর নাম উঠে আসে। এর তাঁকে অপসারণ করা হয়।

ইউক্রেনের ন্যাশনাল অ্যান্টিকরাপশন ব্যুরো (এনএবিইউ) গালুশচেঙ্কোকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, সীমান্ত পার হওয়ার সময় সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার হয়েছেন। দেশটির আলোচিত ‘মিডাস’ মামলার অংশ হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এনএবিইউ গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে শিগগিরই আরও তথ্য দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এনএবিইউর বিবৃতিতে গালুশচেঙ্কোর নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তবে ইউক্রেনের একাধিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম তাঁকে চিহ্নিত করেছে।

রেডিও ফ্রি ইউরোপের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সীমান্তরক্ষীদের আগেই এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। তাঁকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কিয়েভে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তিন বছর জ্বালানি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন গালুশচেঙ্কো। পরে তিনি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিচারমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির নির্দেশে তাঁকে পদত্যাগ করতে বলা হয়। তাঁর উত্তরসূরি সভিতলানা গ্রিনচুকও এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পদত্যাগ করেন।

এই কেলেঙ্কারি রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের আগে দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় আসা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রশাসনকে চাপে ফেলে দেয়।

যুদ্ধের পুরোটা সময় প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা চিফ অব স্টাফ আন্দ্রি ইয়ারমাকের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর পদত্যাগ করেন। তবে প্রেসিডেন্ট বা ইয়ারমাকের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো অন্যায়ের অভিযোগ আনা হয়নি।

এই কেলেঙ্কারির জেরে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের চাপও বেড়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২ সাল থেকে ইউক্রেনের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত রয়েছে।

এনএবিইউ এবং স্পেশালাইজড অ্যান্টি-করাপশন প্রসিকিউটর অফিস (স্যাপ) জানিয়েছে, ১৫ মাসের দীর্ঘ তদন্তের পর ‘অপারেশন মিডাস’ নামক এই বিশাল দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চালানো হয়।

তারা অভিযোগ করেছে, ইউক্রেনের জ্বালানি খাত, বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এনারগোআতোমে অর্থ আত্মসাতের একটি চক্র পরিচালিত হচ্ছিল।

জাতীয় পারমাণবিক অপারেটর এনারগোঅ্যাটমসহ ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের অর্থ আত্মসাতের একটি স্কিম তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। গালুশচেঙ্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি এনারগোঅ্যাটমের ঠিকাদারদের কাছ থেকে চুক্তিমূল্যের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়মিত ‘কিকব্যাক’ বা ঘুষ গ্রহণ করতেন।

তদন্তকারী সংস্থাগুলো আরও জানিয়েছে, বিপুল অঙ্কের এই অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে। তারা নগদ অর্থভর্তি ব্যাগের ছবিও প্রকাশ করেছে। এনএবিইউর দাবি, এই অর্থ ইউক্রেনের বাইরে এমনকি রাশিয়ায়ও পাচার করা হয়েছে।

গালুশচেঙ্কো এর আগে এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।

এদিকে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি চেরনিশভকে ‘অবৈধ সম্পদ অর্জন’-এর অভিযোগে নভেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল।

অন্যদিকে, জেলেনস্কির সাবেক টিভি স্টুডিও কোয়ার্টাল-৯৫ এর সহ-সত্বাধিকারী ও ব্যবসায়ী তিমুর মিনদিচকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার পর তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানা গেছে।

জ্বালানি খাত থেকে কর্মকর্তাদের পকেট ভারী করার এই অভিযোগ ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। কারণ, হাড়কাঁপানো শীতের আগে যখন রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করছিল, ঠিক তখনই এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সদস্য ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরেই দুর্নীতির সমস্যায় জর্জরিত। এনএবিইউ এবং স্যাপ গত এক দশক ধরে সক্রিয় থাকলেও এই সমস্যার সমাধান হয়নি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ইউক্রেনের ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত